রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

ভালোবাসার কাটাকুটি


প্রিয়তমা, আমি তোমাকে দেবীর মতন করে ভালবাসতে পারব না। আমার ভালোবাসাতে নোংরামি থাকবে, জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে, খোলা চুলের গন্ধ নিতে ইচ্ছে হবে,বাদামী রঙের চোখের দিকে তাকিয়ে মাতাল হওয়ার খেলা চলবে।

এই অপরাধে যদি তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়া লাগে
তবে তোমাকেও যে আমার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

একদা আমি, আমার স্বপ্ন দিয়ে পেজ ভর্তি করে গদ্য লিখতাম,ছোট এক শিশির ফোঁটা কে চাঁদের মত করে তৈরি করতাম। আমার গল্পে প্রাণ থাকত, গল্প শেষে হেসে উঠে স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা ছেলে/মেয়ে টা বলত "সামি, শালা জোকার একটা।"

আজ আমি,তোমার জন্যে কাব্য প্রেমী।
হিমু,মিসিরের কিংবা ঐ কিশোর উপন্যাস গুলোর মত সাবলীল ভাষায় লেখা সাহিত্য ছেড়ে গীতাঞ্জলী আর বনলতা সেন পড়ি। রাগ করে আমার গদ্যরা ছেড়ে যাচ্ছে আমাকে আস্তে আস্তে করে।

তবুও আমি ভালোবাসি, তোমাকেই ভালোবাসি।
গদ্য ছেড়ে পদ্য ধরছি, ছেঁচড়ার মত ভালবাসছি।
তোমার জন্যে তো আমার ব্যক্তিত্ব টাও আজকাল বিসর্জন দিতে বসেছি।

তবে কি দরকার মিছে এই দোষারোপের ?
হিসাব এইবার সহজ হোক ,ভালোবাসা ভালোবাসাকে কাটাকুটি করুক!

মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৪

কয়েকজন সপ্নবাজের গল্প


কল্পনার চোখে ভাবুন দৃশ্যটা! সবুজ জমিনে লাল সূর্য্যের মাঝখানটায় হলুদ মানচিত্র- পতপতিয়ে উড়ছে তখনো না জন্মানো একটি দেশের কাল্পনিক এক পতাকা। আর তা সদর্পে উচিয়ে মাঠ দাপাচ্ছেন একদল তরুণ। এরাও মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু হাতে বন্দুক নেই। জার্সি আর শর্টস পায়ে বুট পড়ে পতাকার মান রাখতে সারা ভারত জুড়ে খেলে বেড়াচ্ছে তারা। আমি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের কথা বলছি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সকল পেশার মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে তৎকালিন ফুটবল খেলোয়াড়দের অবদানও ছিল অবিস্মরণীয়। দেশকে শত্রুমুক্ত করার শপথ তাঁদের কন্ঠওে ধ্বনিত হয়েছিলো। দেশকে রক্ষার দৃঢ়, কঠিন প্রতিজ্ঞা নিয়েই দেশের একঝাঁক তরুণ ফুটবলার গঠন করেছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল।
১৯৭১ সালে বিদেশের মাটিতে ফুটবলাররাই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন।

আইডিয়াটা শামসুল হকের মাথা থেকে বেরিয়েছে। জুনের সেই দূরন্ত দিনগুলোতে কলকাতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি এবং সিদ্ধান্ত নেন একটি ফুটবল দল গঠনের যারা সারা ভারতজুড়ে খেলে সমর্থন আদায় করবে আমাদের স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতির জন্য। তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন সমিতির প্রথম সেক্রেটারি লুতফর রহমান, কোচ আলী ইমাম ও ইস্ট এন্ড ক্লাবের সাবেক ফুটবলার সাঈদুর রহমান প্যাটেল।
তাদের তৎপরতায় ভারতের আকাশবানীতে একটি বিবৃতি প্রচার হলো যাতে পূর্ব পাকিস্তানের সমস্ত ফুটবলারকে যোগ দিতে বলা হলো একটি বিশেষ ঠিকানায়। ঘোষণা দিতে বাকি, কদিনে মধ্যেই কোচ ননী বসাকের (চলচ্চিত্র অভিনেত্রী শবনমের বাবা) বিশেষ ৩০ জনের মতো খেলোয়াড় ট্রায়ালে যোগ দিলেন। তাদের মধ্যে থেকে ২৫ জনকে বাছাই করা হলো। পরে অবশ্য ভারত সফরে আরো বেশ কজন খেলোয়াড় দলে যোগ দেন। পার্ক সার্কাস এভিন্যুর কোকাকোলা বিল্ডিংয়ের একটি রুমে থাকতেন ফুটবলাররা। আর প্র্যাকটিস করতেন পাশের মাঠেই।
পরবর্তীতে আট নম্বর থিয়েটার রোডের কার্যালয়ে ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন প্যাটেলের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ১৪ হাজার ভারতীয় রুপি। ওই অর্থ স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গড়ে তোলার পথ সুগম করেছিল।
২৫ জুলাই নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ খেলে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল। খেলার আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে আপত্তি ছিল। কিন্তু খেলোয়াড়দের দাবির মুখে সে আপত্তি টেকেনি। বিদেশের মাটিতে ফুটবলাররাই বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেন। কৃষ্ণনগরের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়। গোল করেছিলেন শাহজাহান এবং এনায়েত।
সাবেক বিসিবি ম্যানেজার তানভির মাজহার ইসলাম তান্না ছিলেন দলটির ম্যানেজার। তার ভাষায়, ‘ভারতের যেখানেই গিয়েছি আমরা, প্রচণ্ড সাড়া পেয়েছি সাধারণ মানুষের।’ অধিনায়ক পিন্টুর ভাষায়, ‘এই ঘটনার পর প্রতিপক্ষ আর অফিসিয়াল নাম ব্যবহার করতে পারেনি। এমনকি মোহনবাগান খেলেছে গোষ্টপাল একাদশ নামে।'

সর্বশেষ খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় মুম্বই তে যেখানে মহারাষ্ট্র ফুটবল দলের নেতৃত্ব দেন ভারতের খ্যাতনামা সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক নবাব মনসুর আলি খান পতৌদি।
অধিনায়ক পিন্টু জানিয়েছিলেন, ' মজা হয়েছিল মুম্বাইয়ে- মহারাষ্ট্র একাদশের হয়ে খেলেছিলেন স্বয়ং নবাব মনসুর আলী খান পতৌদি ( অভিনেতা সাইফ আলী খানের পিতা) এবং আমাদের বিপক্ষে একটি গোলও করেন। আমার এখনো চোখে ভাসে স্বয়ং দিলীপ কুমার এসেছিলেন ম্যাচটি দেখতে এবং এক লক্ষ রুপি অনুদানও দেন দলকে।’
ভারতের বিভিন্ন স্খানে ঐ সকল খেলোয়াড়রা প্রায় ১৬টি প্রদর্শনী ম্যাচে নিজের কৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হলেন বাংলাদেশের তৎকালীন যুদ্ধের যথাযর্থতাকে।
দিল্লীতে একটি ম্যাচ খেলতে যাবার ঠিক আগে এল অসাধারণ খবরটি- বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। সেদিন ছিল ১৬ ডিসেম্বর।
১৬টি খেলার মধ্যে এই দল ১২টি খেলায় জয়লাভ করে এবং বাকি ৪টির ৩টিতে পরাজয়, ১টিতে ড্র হয়। এইসব ম্যাচ খেলে ভারতীয় মুদ্রায় ৩ লক্ষ টাকা তুলে তৎকালীন বাংলাদেশের অস্খায়ী সরকারের কাছে দেয়া হয়েছিল।

স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল যারা অংশ নেন তারা হলেন:
১ম সভাপতিঃ শামসুল হক, প্রাক্তন মন্ত্রী
২য় সভাপতিঃ মরহুম আশরাফ আলী চৌধুরী
৩য় সভাপতিঃ এন এ চৌধুরী (কালু ভাই)
ম্যানেজারঃ তানভির মাজহারুল ইসলাম তান্না
কোচঃ ননী বসাক
অধিনায়কঃ মো: জাকারিয়া পিন্টু
সহ-অধিনায়কঃ প্রতাপ শংকর হাজরা
কাজী সালাহউদ্দিন (বর্তমান বাফুফে সভাপতি), নওশেরউজ্জামান, লেঃ নুরুন্নবী, তাসলিম, আইনুল হক, খোকন , লুৎফর, শেখ আশরাফ আলী, অমলেশ সেন, হাকিম, আমিনুল ইসলাম সুরুজ, বিমল, সুভাষ চন্দ্র সাহা, মুজিবর রহমান, কায়কোবাদ, ছিরু, সাত্তার, সনজিৎ, মোমেন জোয়ার্দ্দার, সাঈদুর রহমান প্যাটেল, পেয়ারা, এনায়েতুর রহমান খান, শাহজাহান, অনিরুদ্ধ, নিহার, গোবিন্দ কুন্ডু, প্রয়াত আলী ইমাম, প্রয়াত লালু, প্রয়াত মাহমুদ।

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

খুল যা গুলগুল


জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার সময় একটি ভাঙ্গা স্যুটকেস আর এই দলটি রেখে গিয়েছিলেন। দলটিও বানাতে কোন আর্মি অফিসার মারতে হয়নি, কাউকে ব্রাশফায়ার দিতে হয়নি। এটিও ভাঙ্গা স্যুটকেস থেকেই বের করেছিলেন। এই অদ্ভুত স্যুটকেসের সামনে গিয়ে 'খুল যা গুলগুল' বললেই খুলে যায়। স্যুটকেসের কাছে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত যা চাওয়া হয় তাই দেয়। রুপ-যৌবন দেয়, সার্জারী করতে সিঙ্গাপুর যাওয়া লাগেনা।

কোটি কোটি টাকার কোকো নামের লঞ্চ ভাঙ্গা স্যুটকেসের মধ্যে দিয়া বাইর হয়। অতটুক স্যুটকেসের মধ্যে দিয়া বের হওয়ার সময় লঞ্চের ইঞ্জিন জন্মগত ত্রুটির সম্মুখীন হয়। সে সমস্যার কারনেই শত শত যাত্রী নিয়া লঞ্চ নদীর বুকে চেগাইয়া পরে। তারপর মৃত যাত্রীদের স্বজনদের সান্তনা স্বরুপ ছাগল দেয়া হয়। ছাগলও বের হয় ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়া। ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়া আস্ত একটা গিয়াস উদ্দিন মামুন বের হয়। মামুনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা, চ্যনেল ওয়ান বের হয়।

তারেকের বউ আবদার করে একটা সুন্দর শাড়ির জন্য। সাথে সাথে ‘খুল যা গুলগুল’ বলে ব্যবস্থা করা হয় ড্যন্ডি ডায়িং নামক কম্পানির। এভাবেই ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়ে পর্যায়ক্রমে বের হয় ওয়ান কম্পোজিট, প্রিকাস্ট কংক্রিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, ওয়ান স্পিনিং, ওয়ান ডেনিম এবং ওয়ান কনজ্যুমার প্রডাক্ট লিমিটেড। আস্তে আস্তে অনেক কষ্টে সৃষ্টে কোকো আর তারেক মিলে স্যুটকেস থেকে বের করে হাওয়া ভবন। স্যুটকেস দিয়ে নিজেদের জন্য এত এত জিনিস বের করার পাশাপাশি তারেক আর কোকো মিলে দেশের জন্যও অনেক কিছু বের করে। দেশের জন্য তারা এত্তগুলা খাম্বা বের করে। খাম্বাগুলা দেশের সবখানে ঠিকঠাকমত গাড়তে থাকে।

এত এত প্রাপ্তির মাঝে কোকোর মনে পরে মায়ের কথা। তারেককে বলে, “ভাই, মার জন্য স্যুটকেস থেকে কিছু বের কর। মা কি খেতে চায় দেখ।”
তারেক জানতে পারে তার মার পছন্দের খাবার চানাচুর। সাথে সাথে স্যুটকেস থেকে বের হয় ড্যন্ডি চানাচুড় নামের একটা কম্পানি।
ম্যডাম কুড়মুড় করে চানাচুড় খায়, তারেক-কোকো পাশে তাকিয়ে রয়। কি মধুর দৃশ্য! তারেক-কোকো ভাবে কত ভাল মা তাদের! নিজের জন্য কিছু ভাবেনা! স্যুটকেস দিয়া আমরা পাচ বছরেই কত কি করে ফেললাম, অথচ সে এতদিনেও কিছু করলনা! বাপটাও ছিল কি সহজ সরল!

মা পাশে বসে মনে মনে হাসেন! ছেলে দুইটা কি গাধা! শুধু টাকাই চিনছে। সারাদিন টাকার পিছনে ছোটে। আমি স্যুটকেস দিয়া আসল জিনিস বাইর কইরা রাখছি। তারেকের বাপেরে বইলা আস্ত একটা বিএনপিই তো বের করে রাখছিলাম। রাজাকারের পুনর্বাসনের অনুমতিপত্র বাইর কইরা রাখছিলাম। এসবই তো আসল জিনিস। শেষ পর্যন্ত পুরা বাংলাদেশরে স্যুটকেসের একপাশ দিয়া ভইরা আরেকপাশ দিয়া বাইর কইরা ইতিহাস পাল্টানোর চেষ্টা করছিলাম! স্যুটকেসের কি গুন! এই স্যুটকেস তারেকের বাপই দিছে, তাই তার প্রতি কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সম্ভব হলে তারেকের বাপের শেষ চেষ্টাটা সফল করার উদ্যোগ নেব। একবার শুধু ক্ষমতায় যেয়ে নেই এনশাল্লাহ...

শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

নির্লজ্জ বিজয় -সৈয়দ সামি


(সাদমানদের বাসার পাশে স্কুল।
দেশাত্মবোধক গানে ভোরেই সাদমানের
ঘুম ভেঙে গেলো)
ধুরর হালা....বাজে কত?এতো সকালে গান
চালাইসে ক্যান স্কুলে?আজকে পিকনিক
ফিকনিক নাকি? নাহ্। পিকনিক
হইলে তো এই মরা গান ছাড়োনের
কথা না....
(এমন সময় শিহাবের ফোন)
"হ্যালো মাম্মা,উঠসো?"
"হ।ক"
"শহীদ মিনার যাইবা?"
"এতো ভোরে?তর মাথায় কি জ্বীন
উঠসে?"
"ওই শালা ভুইলা গেছোস?
আজকে না স্বাধীনতা দিবস?ওই
ফেব্রুয়ারিতে একবার গেছিলাম না?
ডানাকাটা চিকসের মেলা বইব।আইবি?"
"ও,হ।মনে পড়সে।কাইলকা রাইতেই
তো প্রোপিক চেঞ্জ করলাম।
আমিতো ভাবসি খেলাটেলা ছিলো মনে হয়।
ওই শালা লাইক দিসোস?"
"দিমুনে।তুই তাড়াতাড়ি আয়।
পাঞ্জাবি পড়িস"
"ওকে মামা।আর শোন আমার এমবি শেষ।
আসার আগে একবার আমার
প্রোপিকে কয়টা লাইক পড়সে দেখিস।"
"ঠিক আসে।আর তুই ৭টায় মেডিকেলর ২
নাম্বার গেটে থাকিস।বাইক আনিসনা"
"ওউখেই ড্যুড।বাব্বাই"
৭:০৫
"এতো তাড়াড়াড়ি আসলি?
আমিতো ভাবসি ৭টা ১০ এর
আগে দেখাই পামুনা"
"ওই কপালে পতাকা দিসোস ক্যা?খ্যাত
লাগতেসে।"
"আরে কালকে দেখলাম এনএসইউ এর
মোহায়মিন ভাই
পতাকা কপালে দিয়া পিক দিয়া ৪০০
লাইক পাইসে।"
"ওই আবাল পাইসে ৪০০ লাইক!"
"আরে হ।ওইটা ওর গুণে না।পতাকার
গুণে।।ক্যামেরা আনসোস?"
"মাম্মা আমি ভুল করুম?
পরীগো একটা ডকুমেন্টারি বানামু
ভাবতাসি"
"চল আগে ছবি তুলুম।"
"দাঁড়া এট্টু রেস্ট নেই।তোর
পতাকা বিছা ময়লার মধ্যে বসমু না"
"ওই লেডিস এতো কম ক্যা?ব্যাটাও
তো তেমন নাই।
ফেব্রুয়ারিতে তো দাঁড়ানের
জায়গা সিলোনা"
"মনে হইতাসে দ্যশপ্রেমিক
কইমা জাইতাসে"
"তাইতো দ্যাখতেসি"
"বাদ দে,বেলা হইলে আইব।"
"তুই মিনারে হেলান
দিয়া দাঁড়া আমি ক্যাপচার করি"
" জুতা পইড়া উঠুম?"
"জুতায় আবার কিয়ের প্রব?"
"আরে আর কইস না।আগের সপ্তায়
রাইতে এইখানে সুমীর লগে বাদাদাম
খাইতে সিলাম।এক
বুড়ি আইসা ওরে গালি।"
"বাদ দে তো পাগলের কথা।"
"তুই ছবি তোল"
৮:১০
"মামা কেউতো আইলোনা।তুই শিয়োর
আজকে শহীদ দিবস?"
"আরে ব্যাটা শহীদ দিবস তো ২১
শে ফেব্রুয়ারি।
আজকে যে স্বাধীনতা দিবস
এইডা বিচিও জানে।"
"স্বাধীনতা দিবসের মায়রে বাপ।
ইতিহাস পরীক্ষায় এই মুক্তিযুদ্ধ
দ্যাখলে মাথা গরম হয়ে যায়।এই বালের
মুক্তিযুদ্ধ না থাকলে শিয়োর
ইতিহাসে এ পাইতাম"
"মামা তোমার বাপেও তো মুক্তিযুদ্ধা"
"আমার বাপে তো বললদ।চিন্তা কর তর
বাপ আর আমার বাপ গণপূর্তে একই
পোস্টে চাকরি করে ।অথচ
তোগো দুইডা গাড়ি আর আমার হোন্ডায়
ত্যাল ভরারও টাকা নাই।"
"মামা জাইগা বাড়ি গিয়া
মুক্তিযুদ্ধের সাল তারিখ মুখস্ত
করতে অইব।আর ভাল্লাগেনা। ক্যান
যে এই ফইন্নির দ্যাশে জন্মাইলাম"
"যাহ্।বাসায় গিয়া ফোন দিস।"
-----
কাঁপা কাঁপা হাতে ঘৃণা ভরে লেখা জীবনের
প্রথম গল্প-----

কলমি বন্ধু


একটা যুগ ছিলো চিঠির যুগ। হাতে হাতে মোবাইলের কথা ভাবাই যেতো না। আমিও স্কুলবেলায় বন্ধুকে চিঠি লেখতাম। বিশাল বিশাল চিঠি। ইংলিশ ফর টুডেতে পেনফ্রেন্ডের ব্যাপার দেখে আরো অবাক হতাম আর হাই হুতাশ করতাম যে আহারে কোনো বিদেশী পেনফ্রেন্ড নাই। বিদেশী পেনফ্রেন্ড দেশে চলে আসে বন্ধুকে দেখতে কি চমতকার ব্যাপার স্যাপার। টিএন্ডটি তে একে ওকে ফোন দিতাম, ফোন দেয়ার আগে গলা ঠিক করে প্র্যাকটিস করতে হতো যদি মুরুব্বী কেউ ধরে তাহলে কি বলবো। এক বড় আপু উলটা পালটা নাম্বারে ফোন করে নানান উলটা পালটা কথা বলতো । কখনো কখনো আমাদের ও বলতে বলতো। বন্ধু টিএন্ডটি তে ফোন দিয়ে বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেলতো কিরে তুই কই? এক বন্ধু প্রেম করতো। দোকানে গিয়ে মোবাইল দিয়ে ফোন করতো। মাঝে মাঝে দোকানদারকে গম্ভীর হয়ে বলতো একটু বাইরে যান তো। কথা বলতেছি।
স্কুলের স্যাররা মোবাইল কেনা শুরু করলো। এক স্যার এত যত্ন করে মোবাইল নিয়ে হাঁটতো। সারাদিন মোবাইল পরিষ্কার করতো। সেই বন্ধু একদিন এক স্যারের কাছেও গিয়ে বলে স্যার একটা মেসেজ দিবো। এক ফ্রেন্ড ফোন দিবে। দেয়া যাবে? এরপর স্কুলের শেষের দিকে কেউ কেউ লুকিয়ে মোবাইল আনতো। একবার দেখলাম দুই তিনটা মেয়ে একটা মোবাইল নিয়ে খুবই ব্যস্ত। পরে জানা গেলো এদের মধ্যে একজন রিকশা দিয়ে আসছিলো আর এক ছেলে বলে তার কোলে ফোনটা রেখে চলে গেছে। সেটা স্যারদের কান পর্যন্ত গড়ালো। হেডস্যার তাদের ডাকলো। আমরা পরের দিন সারা ক্লাসে অনেক লেকচার শুনলাম যে আমাদের বয়সটা এখন একটু অন্যরকম। আমরা সব রঙ্গীন দেখি।
এখন অবশ্য স্কুলের ছেলে মেয়েরাই মোবাইল পায়। ফেবু আইডি তো খুবই সাধারণ ব্যাপার। ফেসবুকের কথা জানলে তখন আর পেনফ্রেন্ড নিয়ে অবাক হতাম না। তখন কি বোকাই না ছিলাম !!!

মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪

অমানুষ - সৈয়দ সামি


"দুপুরে খেয়েছো? মুখটা এমন শুকনো লাগছে কেনো? এতোটা লাইফলেস হলে চলে? তোমার আব্বু আম্মু তোমাকে নিয়ে অনেক সপ্ন দেখে, ছেলে বিল গ্যাটস, স্টিভ জবস হবে। তুমি বিজনেসম্যান হলে কি হবে জানো? হয়তো কোনো ডিল করতে গেছো, মিটিংএর মাঝখানে বলে বসবে "ভাই একটু দাড়ান, একটা কবিতার ছন্দ মনে পড়ছে। একটু নোট করে নেই।"
এই কথাগুলো যে বলেছিলো সে হয়তো বুঝে গিয়েছিলো, আর যাই হোক এই ছেলের সাথে জীবন পাড়ি দেয়া সম্ভব না। সে নতুন কাউকে খুজে নিয়েছে। যে লাইফের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। দুপুরেও খায়, বিকালেও খায়। আমাকে দেখলে যতটা গোছানো মনে হয়। আমার জীবনটা ঠিক তারচেয়েও বেশী অগোছালো। জীবনটা নদী হলে আমি সেই নদীর বৈঠা বিহিন মাঝী। সাতার জানিনা তো তাই পানিতে নামতেও ভয় পাই। পৃথিবীতে যারা বেচে থাকে তাদের প্রত্যেকেরই উদ্দেশ্য আর লক্ষ লাগে। উদ্দেশ্যহীনরা অমানুষ। তাদেরকে কেউ ভালো পায় না। তাদের কেউ অবলম্বন করে না। এই অমানুষ গুলোই যখন মানুষ হয়, তখন কাউকে পরোয়া করে না। কারন অমানুষ হওয়ায়, সব মানুষগুলোর চেহারা যে চেনা হয়ে যায়। এই পৃথিবীর মানুষ গুলো থেকে অমানুষ গুলো বড্ড আলাদা হয়।