রবিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৭

আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করেছিলেন একজন লেগ স্পিনার হিসেবে।  ওয়ানডে অভিষেকে ব্যাটও করা হয়নি তার। তবে নিজের প্রধান কাজ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ২টি। সাদা পোষাকের ক্রিকেটে অবশ্য ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও নয় নম্বরে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ১৩ আর উইকেট নিয়েছিলেন ৩টি।
যেকোনো বোলারই এমন সাদামাটা অভিষেকের পর বোলিংয়ে বাড়তি নজর দেবেন। ভোরের সূর্য যেমন পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। তেমনি এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারও অন্য বোলারদের মত হয়নি। কে জানতো একজন ‘লেগ স্পিনার’ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসবেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ বছরে এসে?
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, সেদিনের সেই অপ্রথাগত ব্যাটসম্যানই ৬০ টেস্টে ১১০ ইনিংসে ব্যাট হাতে করেছেন ৫৯৭৪ রান। ২৩ সেঞ্চুরি আর ২২ ফিফটিতে এই রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড়টাও যেকোনো ব্যাটসম্যানের কাছেই ঈর্ষনীয়  ৬৩.৫৫ । টেম্পারমেন্ট, ট্যাকনিক ও ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষা দিতে হয় টেস্ট ক্রিকেটে। সেই অপ্রথাগত ব্যাটসম্যান ব্যাট হাতে এই ব্যাপারটিকে 'ডাল-ভাত' বানিয়ে ফেলেছেন।


দেশ কিংবা দেশের বাইরে কোথায় ব্যাট ছুটছে না? সব জায়গাতেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়ে চলেছেন তিনি। বলছিলাম, অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের কথা। ক্রিকেটের ব্যাকরণে স্মিথের ব্যাটিংয়ের ব্যাখ্যা করা যাবে না। কারণ, প্রতিটি বলেই লেগ স্টাম্প থেকে সরে এসে অফ স্টাম্পে এসে বলের দিকে ব্যাট টানেন।
ব্যাটের লিফটও অন্য প্রথাগত ব্যাটসম্যানদের চেয়ে আলাদা। লম্বভাবে নয় বরং প্রথম স্লিপ থেকে ব্যাট টেনে আনেন তিনি। তারপরও গত চার বছরে সাদা পোষাকে স্মিথই ছিলেন নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী। নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে নেমেছিলেন এই অজি দলপতি। ২০১৪ সালের প্রথম টেস্ট, সিডনিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ১১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন।
বছরজুড়ে ৫ সেঞ্চুরি আর ৪ ফিফটিতে ১ হাজার ১৪৬ রান করেছিলেন সেবার। ২০১৫ সালে ৬ সেঞ্চুরি আর ৫ ফিফটিতে ১৪৭৪ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ১৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে কিংস্টনের ঝাল  লর্ডসে মিটিয়ে হাঁকালেন ২১৫ রান।
গত চার বছরে সবচেয়ে কম সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৬-তে। মোট ১০৭৯ রান করার বছরে সেঞ্চুরি ‘মাত্র’ ৪টি। আর ২০১৭ সালে আবারও ৬ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজনে পরিণত করেছন স্মিথ। ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিতে ১৩০৫ রান করেছেন অজি দলপতি। এর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ২৩৯ রান আর ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১১১ রানের কথা আলাদা বলতে হবে।
স্মিথের ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যাবে ব্যাট হাতে তার প্রিয় প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ইংলিশদের বিপক্ষে  ৪০ ইনিংসে ১৯৪৩ রান করেছেন স্মিথ। তারপর ভারতের বিপক্ষে, ২০ ইনিংসে করেছেন ১৪২৯ রান। তবে গড়ের বিচারে প্রিয় শিকার ক্যারিবীয় বোলাররা। তাঁদের বিরুদ্ধে ৭ ইনিংসে ১৬৫.৬৬ গড়ে ৪৯৭ রান করেছেন অজি দলপতি।
তার সবচেয়ে সমীহের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। টাইগারদের বিপক্ষে ৪ ইনিংসে ১১৯ রান করেছেন তিনি, সর্বোচ্চ ৫৮ রান করেছিলেন ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে। স্মিথ হয়তো তার ক্যারিয়ারে শচীনকে নাও ছাড়াতে পারেন। ছুঁতে না পারেন স্বদেশী রিকি পন্টিংকেও। তবে অপ্রথাগত ব্যাটিংয়ে স্মিথ যা করেছেন তাই তো  ইতিহাস।

সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭

ক্রিকেট ইতিহাসের 'ম্যাজিক' ডেলিভারিগুলো

১৯৯৩ সালের ৪ জুন ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে মধ্যকার   অ্যাশেজ সিরিজের টেস্ট চলছিল। ব্যাটিং করছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান মাইক গ্যাটিং। বোলার ছিলেন কিংবদন্তি লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্ন। গ্যাটিংকে করা ওয়ার্নের একটি বল লেগ স্ট্যাম্পের অনেক বাইরে পিচ করে অফ স্ট্যাম্প ভেঙে দিয়েছিল। সেই বলটিই ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নেয় 'বল অফ দ্যা সেঞ্চুরি' নামে।


ওয়ার্নের সেই ঐতিহাসিক বলটিকে এবার আলোচনায় নিয়ে এসেছে অজি পেসার মিচেল স্টার্কের একটি 'আশ্চর্যজনক' ডেলিভারি। চলতি অ্যাসেজ সিরিজের তৃতীয় টেস্টে দুর্দান্ত এক বলে যেভাবে ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেমস ভিন্সকে বোল্ড করলেন, তার সঙ্গে ওয়ার্নারের 'বল অফ দ্যা সেঞ্চুরির' তুলনা চলছে। মাইকেল ভন তো স্টার্কের এই বলকে বলেছেন ‘একবিংশ শতাব্দীর সেরা’।

এই অজি পেসারের বল রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে প্রায় ১৪৪ কিলোমিটার বেগে বাতাসে ভেতরে ঢুকে উইকেটে পিচ করে কিছুটা বাঁক খেয়ে ভেঙে দিয়েছে ভিন্সের অফস্টাম্প। ওয়ার্ন আর স্টার্কের মতোই আরও কয়েকজন তারকার উইকেট নেয়া ডেলিভারিগুলো ক্রিকেট ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে। ফিরে দেখা যাক সেইসব ডেলিভারিগুলোঃ

ওয়াসিম আকরামের সেই দুই বল, ১৯৯২

আগে ব্যাট করে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে তুলেছিল ২৪৯ রান। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেছিল ইংলিশরা। কিন্তু ইনিংসের ৩৫তম ওভারে বোলিংয়ে এসে দৃশ্যপট পাল্টে দেন পাকিস্তানি তারকা পেসার ওয়াসিম আকরাম। পরপর দুই বলে অ্যালান ল্যাম্ব ও ক্রিস লুইসকে  সাজঘরে ফেরান। দুটি বলই ছিল স্বপ্নের মতো। প্রথমে মিডল স্টাম্পে পিচ করা এক বলে ল্যাম্বের অফস্টাম্প উপড়ে ফেলেন ওয়াসিম আকরাম। এর পরের বলেই লুইসকে ইনসুইঙ্গারে বোকা বানান তাঁর অফস্টাম্পের বেল ফেলে দিয়ে। এই দুটি ডেলিভারিতেই বিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপ জেতা নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের।

ওয়ার্নের ‘এজবাস্টন-ওয়ান্ডার’, ২০০৫

১৯৯৩ সালে শতাব্দীর সেরা বলের মালিক শেন ওয়ার্ন ২০০৫ সালের অ্যাশেজে আরও একটি জাদুকরি ডেলিভারির জন্ম দিয়েছিলেন। অ্যাশেজের এজবাস্টন টেস্টে অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে বোল্ড করেছিলেন অফস্টাম্পের অনেক বাইরে বল পিচ করিয়ে। সেই বলে বোকা বনে গিয়েছিলেন তৎকালিক ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি ভাবতেই পারেননি ওয়ার্নারের অফস্টাম্পের অনেক বাইরে পিচ করা বলটি তাঁর লেগ স্টাম্প ভেঙে দিবে।

ওয়াকারের ‘অকল্যান্ড-ইয়র্কার’, ১৯৯৪

পাকিস্তান ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফর করেছিল। সেবার ওয়ানডে সিরিজে অকল্যান্ডের একটি ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় পাকিস্তান দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬১ রানে। সেলিম মালিকের দল সেই ম্যাচটি জিতেছিল ওয়াকারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। ওয়াকার ইউনুস ৩০ রানে নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। ব্রায়ান ইয়ংকে তিনি বোল্ড করেছিলেন দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে। ওয়াকারের সে বলটি এখনো ক্রিকেট ইতিহাসে অমলিন।

ট্রেন্টব্রিজে অ্যান্ডারসনের 'গ্লোল্ডেন বল', ২০০৮

ট্রেন্টব্রিজে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ৪৩ রানে ৭ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন। সে ম্যাচে কিউই ব্যাটসম্যান রেডমন্ড অ্যারনকে দুর্দান্ত এক বলে বোল্ড করেছিলেন অ্যান্ডারসন। বলটি মিডল স্টাম্পে পিচ করে অ্যারনের অফস্টাম্প ভেঙে দিয়েছিল। সেই বলটি অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ারের সেরা বলতো বটেই, এই ডেলিভারিটি ক্রিকেট দর্শকদেরও অনেকদিন মনে রাখার কথা।

সাকিবের 'শতাব্দীর সেরা বল', ম্যানচেস্টার ২০১০

যারা সাকিব আল হাসানের এই ডেলিভারি দেখেছেন, তারা ওয়ার্নারের 'বল অফ দ্যা সেঞ্চুরির' পাশেই রাখবেন সাকিবের অতিমানবীয় এই ডেলিভারিটিকে। ২০১০ সালে বাংলাদেশের ইংল্যান্ড সফরে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে 'অতিমানবীয়' এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেছিলেন ইয়ান বেলকে। লেগ স্টাম্পে পিচ করে সাকিবের বল বেলের অফস্টাম্প ভেঙে দিয়েছিলেন। সেটি স্টার্কের আগেই 'একুশ শতকের সেরা বল' হওয়ার যোগ্যতা রাখে!

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

জোছনার উৎসবে

রাতের শহরে জোছনার উৎসব শুরু হয়েছে। কেউ আয়োজন করে জোছনার রঙ মাখছে মনের দেয়ালে। কেউ জোছনাধারায় ভিজছে আপন খেয়ালে। অনেক কথা হলো। চলে যাওয়া মুহূর্তে কেউ বিদায় বললো কেউ কবিতা লিখে আর কেউ নিজেই একটা কবিতা। আমি কিছুই বললাম না। কিছু একটা ভাবলাম।


আজ পুরনো নোটগুলি খুলে দেখি সেই কথাটি। কিছুক্ষণ ভাসলাম নষ্টালজিয়ায় অথবা “তুমি যে আমার কবিতায়”। তাকে কখনোই বলা হবেনা সে ভাবনাটুকুর আবহগল্প অথবা জানা হবেনা প্রণয়দিনে আমার কবিতার শব্দ ছুঁয়েছে কিনা। বলবো বলে যে আর বলা হলোনা, হবেনা। তবুও না বলা নামের কেউ একজন থাকবে ভাবনাটুকুর আবহগল্পে।

তোমার আমার প্রণয় দিনের
শব্দ ছোঁয়া ক্ষণ,
আবহগল্প থাকনা লুকনো
যেমন, জোছনায় ভেজা মন।

কেউ দিয়ে যায় কবিতার আবহ
কেউ নিজেই একটা কবিতা,
কেউ দৃশ্যপট ভেবে ছবিটা আঁকে
কেউ নিজেই সেই ছবিটা।

সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড-অ্যালেন গিন্সবার্গ

শত শত চোখ আকাশটা দেখে, শত শত শত মানুষের দল,
যশোর রোডের দুধারে বসত বাঁশের ছাউনি কাদামাটি জল।
কাদামাটি মাখা মানুষের দল, গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
আকাশে বসত মরা ইশ্বর, নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে।

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর বাড়ী দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান, এই কালোরাত কবে হবে শেষ।
শত শত মুখ হায় একাত্তর যশোর রোড যে কত কথা বলে,
এত মরা মুখ আধমরা পায়ে পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে।

সময় চলেছে রাজপথ ধরে যশোর রোডেতে মানুষ মিছিল,
সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর, গরুগাড়ী কাদা রাস্তা পিছিল
লক্ষ মানুষ ভাত চেয়ে মরে, লক্ষ মানুষ শোকে ভেসে যায়,
ঘরহীন ভাসে শত শত লোক লক্ষ জননী পাগলের প্রায়।

রিফিউজি ঘরে খিদে পাওয়া শিশু, পেটগুলো সব ফুলে ফেঁপে ওঠে
এইটুকু শিশু এতবড় চোখ দিশেহারা মা কারকাছে ছোটে।
সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর, এত এত শুধু মানুষের মুখ,
যুদ্ধ মৃত্যু তবুও স্বপ্ন ফসলের মাঠ ফেলে আসা সুখ।

কারকাছে বলি ভাতরূটি কথা, কাকে বলি করো, করো করো ত্রান,
কাকে বলি, ওগো মৃত্যু থামাও, মরে যাওয়া বুকে এনে দাও প্রান।
কাঁদো কাঁদো তুমি মানুষের দল তোমার শরীর ক্ষত দিয়ে ঢাকা,
জননীর কোলে আধপেটা শিশু একেমন বাঁচা, বেঁচে মরে থাকা।

ছোটো ছোটো তুমি মানুষের দল, তোমার ঘরেও মৃত্যুর ছায়া,
গুলিতে ছিন্ন দেহ মন মাটি, ঘর ছেড়েছোতো মাটি মিছে মায়া।
সেপ্টেম্বর হায় একাত্তর, ঘর ভেঙে গেছে যুদ্ধের ঝড়ে,
যশোর রোডের দুধারে মানুষ এত এত লোক শুধু কেনো মরে।

শত শত চোখ আকাশটা দেখে, শত শত শত শিশু মরে গেল,
যশোর রোডের যুদ্ধ ক্ষেত্রে ছেঁড়া সংসার সব এলোমেলো
কাদামাটি মাখা মানুষের দল, গাদাগাদি করে আকাশটা দেখে,
আকাশে বসত মরা ইশ্বর, নালিশ জানাবে ওরা বল কাকে।

ঘরহীন ওরা ঘুম নেই চোখে, যুদ্ধে ছিন্ন ঘর বাড়ী দেশ,
মাথার ভিতরে বোমারু বিমান, এই কালোরাত কবে হবে শেষ।
শত শত মুখ হায় একাত্তর যশোর রোড যে কত কথা বলে,
এত মরা মুখ আধমরা পায়ে পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে,
এত মরা মুখ আধমরা পায়ে পূর্ব বাংলা কোলকাতা চলে।


অনুবাদ: খান মোহাম্মদ ফারাবী (১৯৫২-১৯৭৪)

Allen Ginsberg – September On Jessore Road

Millions of babies watching the skies
Bellies swollen, with big round eyes
On Jessore Road–long bamboo huts
Noplace to shit but sand channel ruts

Millions of fathers in rain
Millions of mothers in pain
Millions of brothers in woe
Millions of sisters nowhere to go

One Million aunts are dying for bread
One Million uncles lamenting the dead
Grandfather millions homeless and sad
Grandmother millions silently mad

Millions of daughters walk in the mud
Millions of children wash in the flood
A Million girls vomit & groan
Millions of families hopeless alone

Millions of souls nineteenseventyone
homeless on Jessore road under grey sun
A million are dead, the million who can
Walk toward Calcutta from East Pakistan

Taxi September along Jessore Road
Oxcart skeletons drag charcoal load
past watery fields thru rain flood ruts
Dung cakes on treetrunks, plastic-roof huts

Wet processions Families walk
Stunted boys big heads don’t talk
Look bony skulls & silent round eyes
Starving black angels in human disguise

Mother squats weeping & points to her sons
Standing thin legged like elderly nuns
small bodied hands to their mouths in prayer
Five months small food since they settled there

on one floor mat with small empty pot
Father lifts up his hands at their lot
Tears come to their mother’s eye
Pain makes mother Maya cry

Two children together in palmroof shade
Stare at me no word is said
Rice ration, lentils one time a week
Milk powder for warweary infants meek

No vegetable money or work for the man
Rice lasts four days eat while they can
Then children starve three days in a row
and vomit their next food unless they eat slow.

On Jessore road Mother wept at my knees
Bengali tongue cried mister Please
Identity card torn up on the floor
Husband still waits at the camp office door

Baby at play I was washing the flood
Now they won’t give us any more food
The pieces are here in my celluloid purse
Innocent baby play our death curse

Two policemen surrounded by thousands of boys
Crowded waiting their daily bread joys
Carry big whistles & long bamboo sticks
to whack them in line They play hungry tricks

Breaking the line and jumping in front
Into the circle sneaks one skinny runt
Two brothers dance forward on the mud stage
Teh gaurds blow their whistles & chase them in rage

Why are these infants massed in this place
Laughing in play & pushing for space
Why do they wait here so cheerful & dread
Why this is the House where they give children bread

The man in the bread door Cries & comes out
Thousands of boys and girls Take up his shout
Is it joy? is it prayer? “No more bread today”
Thousands of Children at once scream “Hooray!”

Run home to tents where elders await
Messenger children with bread from the state
No bread more today! & and no place to squat
Painful baby, sick shit he has got.

Malnutrition skulls thousands for months
Dysentery drains bowels all at once
Nurse shows disease card Enterostrep
Suspension is wanting or else chlorostrep

Refugee camps in hospital shacks
Newborn lay naked on mother’s thin laps
Monkeysized week old Rheumatic babe eye
Gastoenteritis Blood Poison thousands must die

September Jessore Road rickshaw
50,000 souls in one camp I saw
Rows of bamboo huts in the flood
Open drains, & wet families waiting for food

Border trucks flooded, food cant get past,
American Angel machine please come fast!
Where is Ambassador Bunker today?
Are his Helios machinegunning children at play?

Where are the helicopters of U.S. AID?
Smuggling dope in Bangkok’s green shade.
Where is America’s Air Force of Light?
Bombing North Laos all day and all night?

Where are the President’s Armies of Gold?
Billionaire Navies merciful Bold?
Bringing us medicine food and relief?
Napalming North Viet Nam and causing more grief?

Where are our tears? Who weeps for the pain?
Where can these families go in the rain?
Jessore Road’s children close their big eyes
Where will we sleep when Our Father dies?

Whom shall we pray to for rice and for care?
Who can bring bread to this shit flood foul’d lair?
Millions of children alone in the rain!
Millions of children weeping in pain!

Ring O ye tongues of the world for their woe
Ring out ye voices for Love we don’t know
Ring out ye bells of electrical pain
Ring in the conscious of America brain

How many children are we who are lost
Whose are these daughters we see turn to ghost?
What are our souls that we have lost care?
Ring out ye musics and weep if you dare–

Cries in the mud by the thatch’d house sand drain
Sleeps in huge pipes in the wet shit-field rain
waits by the pump well, Woe to the world!
whose children still starve in their mother’s arms curled.

Is this what I did to myself in the past?
What shall I do Sunil Poet I asked?
Move on and leave them without any coins?
What should I care for the love of my loins?

What should we care for our cities and cars?
What shall we buy with our Food Stamps on Mars?
How many millions sit down in New York
& sup this night’s table on bone & roast pork?

How many millions of beer cans are tossed
in Oceans of Mother? How much does She cost?
Cigar gasolines and asphalt car dreams
Stinking the world and dimming star beams–

Finish the war in your breast with a sigh
Come tast the tears in your own Human eye
Pity us millions of phantoms you see
Starved in Samsara on planet TV

How many millions of children die more
before our Good Mothers perceive the Great Lord?
How many good fathers pay tax to rebuild
Armed forces that boast the children they’ve killed?

How many souls walk through Maya in pain
How many babes in illusory pain?
How many families hollow eyed lost?
How many grandmothers turning to ghost?

How many loves who never get bread?
How many Aunts with holes in their head?
How many sisters skulls on the ground?
How many grandfathers make no more sound?

How many fathers in woe
How many sons nowhere to go?
How many daughters nothing to eat?
How many uncles with swollen sick feet?

Millions of babies in pain
Millions of mothers in rain
Millions of brothers in woe
Millions of children nowhere to go

New York, November 14-16, 1971

অ্যালেন গিন্সবার্গ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষ দিকে ভারতের কলকাতায় এসেছিলেন। কলকাতার বেশ কয়েকজন সাহিত্যিকের সাথে তার বন্ধুত্ব ছিল যার মধ্যে একজন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি সুনীলের বাড়িতেই উঠেছিলেন। তখন বাংলাদেশ থেকে অনেক শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী অন্যান্য শহরে আশ্রয় নিয়েছিল। ব্রিটিশ রাজের সময় পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গের সংযোগকারী সড়ক হিসেবে কাজ করতো "যশোর রোড"। অনেক বৃষ্টি হওয়ায় তখন যশোর রোড পানিতে ডুবে গিয়েছিল। সড়ক পথে না পেরে গিন্সবার্গ অবশেষে নৌকায় করে বনগাঁ পেরিয়ে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তে পৌঁছেন। তার সাথে সুনীলও ছিলেন। তারা যশোর সীমান্ত ও এর আশপাশের শিবিরগুলোতে বসবাসকারী শরণার্থীদের দুর্দশা প্রত্যক্ষ করেন।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই গিন্সবার্গ এই কবিতাটি লিখেছিলেন। এই দীর্ঘ কবিতার সাথে সুর দিয়ে এটিকে গানে রূপ দিয়েছিলেন তিনি। আমেরিকায় ফিরে গিয়ে তার বন্ধু বব ডিলান ও অন্যান্য বিখ্যাত গায়কদের সহায়তায় এই গান গেয়ে কনসার্ট করেছিলেন। এভাবেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন গিন্সবার্গ।

বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

একটি বাটখারার গল্প

রাতের পর রাত কতো চ্যাট করেছি মনে আছে? কথা যেনো ফুরোতই না। কথাগুলো এখনকার মতো "খাইসো" "ঘুমাইসো" এর মতো না। ভালো লাগার মতো, কতোশত দিন চ্যাট করতে করতে সকাল হয়ে গেছে। এখন একেকজনের যায়গায় দিব্যি আছি। কথা বলা লাগে না, মন খারাপ হলে কাউকে কিচ্ছু বলা লাগে না। শুধু দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে হয় ভালো আছি। একটা সময় ছিলো, ভালো একটা মন ছিলো, অনুভূতি ছিলো, এখন কিচ্ছু নাই। ওইদিন তো ফাইভ গ্রেডের এক পিচ্চিকেও বলতে শুনলাম "জীবনতো আর কম দেখলাম না।"। একটা সময় ছিলো,  একটা মানুষকে ধরা যেতো না, ছোঁয়া যেতো না, মাসে দুবার কথাও হতো না ঠিকমতো, কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিলো না। সেখানে কোনো সংসারের গল্প ছিলো না, ক্যারিয়ারের কথা ছিলো না, সেক্সুয়েল লাইফেরো কোনো গল্প ছিলো না। একটা পৃথিবীর মতো বিশাল ভালোবাসা ছিলো। পৃথিবীটা হয়তো সেদিনও গিরগিটির মতো ছিলো না। 


 ক্যালিফোর্নিয়া,  জীবনটা অন্যান্য দেশের মতো এতো সহজ না। সকাল হলেই ছুটতে হয় কাজে। কাজ মানেই টাকা। ডিভোর্সি মায়ের টানে বাবাকে ছেড়েই সাত বছর আগে এই যান্ত্রিক শহরটায় চলে আসে ফিওনা। মাস দুয়েকের মধ্যে বয়ফ্রেন্ডও জুটে যায় নাম এলেক্স। ভালো ছেলে। সপ্তাহে তারা দুদিন কফিশপে যায়। তবে বিল দুজনেরটা দুজনে দেয়। এই শহরটা আসলেই অদ্ভুত, মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নিলেও শোধ করে দিতে হয় সপ্তাহ খানিকের ভিতর। কে জানে দেশে থাকতে এই মেয়েটাই হয়তো বাবার পকেট থেকে কতো টাকা সরিয়ে আইসক্রিম খেয়েছে। এই শহরে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে বাসায় যাওয়াটা রিতিমতো স্মার্টনেস। এই মেয়েটার পিছনেই শুভ্র নামের ছেলেটা হাটতে হাটতে একটা গোটা শহর চিনে ফেলেছিলো । ছেলেটা কোনো দিনই বাংলায় লেটার মার্কস পায় নি। তবুও ফিওনা কে নিয়ে একগুচ্ছ গল্প লিখে ফেলেছিলো। 


 শুভ্রর জীবনে হয়তো অন্যকারো মতো অন্য কেউ চলে এসেছে। নিজের মতো বদলে নিয়েছে। সে হয়তো জানবে না। এই ছেলেটা একসময় "শঙ্খ ঘোষ" পড়তো, বাহাত্তোর লাইনের "পাগলী তোমার সঙ্গে" মুখস্থ বলতে পারতো। নিয়ন আলোয় রাস্তায় হাটতে ভালোবাসতো। কেউ জানতো না শুভ্রর ইয়ারফোনটার সাথে ফিওনার সতীনের মতো সম্পর্ক ছিলো। শব্দের ফেরী করা ছেলেটাই আজ যায়গায় যায়গায় দাঁড়িয়ে হয়তো হাতপাতে "একটা গল্প হবে? একটা গল্প? একটা শব্দ দাও অন্তত "। এই আহাজারি কারও কানে যায় না। 


 বলেছিলাম না, সবাই বলবে "তোমাকে আমি সবথেকে ভালো বুঝি"। বলতো কেউ কি তোমার পারফিউমের গন্ধ শুকে তোমার কষ্ট বলে দিতে পারে? 


 প্রত্যেক মেয়ের জীবনেই মনে মনে একটা ছেলের ছবি আঁকা থাকে। ছেলেটা হয় বাটখারার মতো, যেকোনো ছেলেকে মাপতে এই বাটখারাটার দরকার হয়। সবকিছু ভুলে যাওয়া যায়, বাটখারাটাকে ভোলা যায় না। শরীরের সাথে শরীরের দূরত্ব না থাকলেও, মন থেকে মনের দূরত্বের রাখার ক্ষমতা হয়তো ঈশ্বর এজন্যই দিয়েছেন। প্রতি রাতেই এমন কিছু  অর্ধমৃত অনুভূতি আর্তনাদ করে। (চলবে...)









 (গল্পটা ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি লেখা। চলবে, বললেও পরবর্তী কিস্তিতে আর হাত চলেনি)

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

দ্যা সেইফ হেন্ডস

১. ২০০৬ সাল, বার্লিনের অলিম্পিক স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে দুই দলের ভাগ্য ঝুলছে পেন্ডুলামের মতো। ডান প্রান্ত থেকে ফ্রান্সের সানিওলের ক্রসে জিদানের হেড! ইতালির ৬ কোটি মানুষের দম বন্ধ হবার যোগার। বিশ্বের কোটি মানুষের চোখ তখন বাতাসে ভাসতে ভাসতে গোলবারের দিকে যাওয়া অ্যাডিডাসের টিমজিস্ট নামের বলটির উপর। এখানে সময় থেমে যায়, ফুরিয়ে যায় স্নায়ুর জোরও। শুধু হার মানেন না একজন।

তিনি শুন্যে উড়াল দিয়ে হাতের তালু বাড়িয়ে দেন মাটিতে ফেরত আসার আগেই জিদানের সাথে মাথায় হাত পড়ে প্যারিস, মার্শেইর অলিগলির কোটি মানুষেরও। অভিকর্ষের টানে ফেরত আসেন গোলরক্ষক। তার আগেই অবশ্য দম আটকে জ্বলতে থাকা রোম প্রাণ ফিরে পায়।

একটা ক্ষণ হয়তো সহজেই ভুলে যাওয়া যায়। এই ঘটনাটি ইতিহাস হবারও কোনো যুক্তি নেই। তবে সেই ফাইনাল ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ইতালি। ইতিহাসে নাম লেখান ইতালির গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী  জিয়ানলুইজি বুফন। ভক্তরা তাকে ডাকে জিজি নামে।

জিজির ফুটবলার হয়ে ওঠাটা অবশ্য অকল্পনীয় কিছু নয় কারণ তার পুরো পরিবারটাই যেন একটা খেলার দল! মা তিনবারের সেরা ইতালিয়ান চাকতি নিক্ষেপকারী। বাবাও ছিলেন অ্যাথলেট। দুই বোনের দু’জনই ভলিবল খেলতেন ইতালির হয়ে। মামা-চাচা পর্যন্ত ঘাঁটলে পরিবারের স্টেডিয়ামমুখী সদস্যের সংখ্যাটা কেবল বাড়ে।

বুফনও যে বড় হয়ে খেলাটাই পেশা হিসেবে নেবেন সেটাই ছিল স্বাভাবিক। ১০ বছরের ছোট্ট বুফনকে তার বাবা-মা ভর্তি করিয়ে দেন ফুটবল একাডেমিতে।বুফনকে সর্বকালের সেরা গোলকিপারদের একজন ভাবা হলেও তার ক্যারিয়ারের শুরু কিন্তু একজন মিডফিল্ডার হিসেবে! যুব একাডেমিতে তিনি ছিলেন পুরোদস্তুর একজন মিডফিল্ডার। একদিন দেখা গেল, দলের সব গোলকিপার ইনজুরিতে।

ম্যাচ হারের শঙ্কায় দল, ভেবেচিন্তে যুবদলের সহকারী কোচ লম্বা থাকায় বুফনকে গোলকিপার হওয়ার কথা বলেন। প্রথমে হাসি-তামাশা করলেও গ্লাভস হাতে মাঠে নামেন বুফন। সেদিনই শুরু হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের। বিস্ময়ের সাথে কোচিং স্টাফরা দেখলো গ্লাভস হাতে এক ছোকরার কারিশমা।

এই ঘটনার ঠিক বছর দুই বাদে জিজি আবিষ্কার করেন নিজের ‘আইডল’। ইতালিতে চলা বিশ্বকাপের সময়। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের গোলকিপার থমাস এনকোনোকে দেখে সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেললেন বুফন! মিডফিল্ডার নয়, গোলকিপারই হবেন তিনি!

২. নভেম্বর ১৯, ১৯৯৫; পারমার সাথে এসি মিলানের ম্যাচ। ব্যাজিও, উইয়াহদের মতো মাঠ কাঁপানো প্লেয়াররা তখন মিলানে খেলেন, তারা তখন ইতালির চ্যাম্পিয়ন দল। এদিকে পারমার কোনো মূল গোলকিপারই দলে নেই ইনজুরির জন্য। কোচ স্কেলিও যুব একাডেমির কিপার বুফনের কাছে গিয়ে বললেন, “কাল মিলানের সাথে নামালে পারবে তো?” বুফন জবাব দেন, “সমস্যা কি? খেলতে নেমেছি তো সবার সাথেই তো খেলতে হবে!” শক্তিশালী মিলানের সাথে অভিষেক হলো জিজির।

দারুণ কয়েকটি সেইভ করে ঠেকিয়ে দিলেন উইয়াহ, ব্যাজ্জিওদের মিলানকে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। পারমার মূল দলের গোলবারের নিচের জায়গাটি পাকা করে ফেলেন খুব দ্রুতই। তার পারফর্মেন্স ক্রমশ উন্নতির দিকে যেতে থাকলো। ২৯ ম্যাচে মাত্র ১৭টি গোল হজম করে পারমাকে বানালেন সিরি আ’র রানার আপ।

অসাধারণ কৃতিত্বের পর ডাক পেলেন ইতালির জাতীয় দলে। রাশিয়ার সাথে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়িং ম্যাচে সিজার মালদিনি মূল কিপার না থাকায় তাকেই নামিয়ে দেন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। দারুণ কিছু সেই করে ইতালিকে তুলে দেন বিশ্বকাপের মূলপর্বে। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে বাস্তবিক অর্থে সবার নজর কাড়েন জিজি। পারমাকে সেবার কোপা ইতালিয়া ও উয়েফা কাপ জেতান।

এরপরই ফুটবল বিশ্বের সেরা সেরা ক্লাবগুলো রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, জুভেন্টাস, রোমা হামলে পড়ে তাকে কিনে নিতে। শেষ পর্যন্ত সেই আমলের রেকর্ড ৩২ মিলিয়ন ইউরোতে যোগ দেন জুভেন্টাসে। জুভেন্টাসের তখনকার গোলকিপার এডউইন ভ্যান ডার সার ফুলহ্যামে পাড়ি জমালে এক নম্বর জার্সিটা ফাঁকাই হয়ে যায় ক্লাবের। এক নম্বর জার্সিটা জিজির গায়ে ওঠে। তারপর থেকেই  গোলকিপার জিজির সাথে জুভেন্টাস জড়িয়ে আছে আত্মার মতো। দেখে মনে হয় মালদিনি, জানেত্তি, জাভি, গিগসদের মতো বোধহয় এই ক্লাবের সাথেই নাড়ির সম্পর্ক। জুভেন্টাসের সাথে জিজির সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই।

৩. তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। গোলবারের নিচে অসাধারণ সব সেইভে মুগ্ধ করে রেখেছেন ভক্তদের। তবে সবাই যখন বুড়ো বুফনের বিদায়ের ক্ষণ গুনছিলেন, সেই ২০১২ সালে আবারো প্রায় সবার আশার বিপরীতে গিয়ে ইতালিকে তোলেন ইউরোর ফাইনালে। তিকিতাকার পূর্ণ ছন্দে থাকা স্পেনের সাথে ঠিক ছন্দে থাকতে পারেনি ইতালি।

৩৬ পেরোনো বুফন ২০১৫ সালে বেল-বেনজেমা-রোনালদোকে নিরস্ত রেখে যখন ফাইনালে উঠেন আবার, সবাই ভাবছিলেন এবার অপূর্ণতা ঘুচাতে চলেছেন বুফন। তবে, ফর্মের চূড়ান্ত শিখড়ে থাকা মেসি-নেইমারের কাছে আবারও স্বপ্নভঙ্গ হয় বুড়ো বুফনের। তাই বুফনের অপূর্ণতা ঘুচেনি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রফির।

৪. গত ১৪ই নভেম্বর যখন সুইডেনের সাথে ড্র করে বিশ্বকাপের বাঁছাই পর্ব থেকে বাদ পড়ে যায় ইতালি, ঠিক তখনই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষকের বিদায় উপাখ্যান লেখা হয়ে যায়। ২২ বছরের, ক্লাব ক্যারিয়ারে, ১,০০০ এর বেশী ম্যাচ পাহাড়া দিয়েছেন গোলবার। এই ২২ বছরে তার ফর্ম প্রায় একই রকম ছিল। সেই বেবি-ফেইসড পারমার বুফন কিংবা ৪০ এর কাছাকাছিতে থাকা জুভেন্টাসের বুফন- ধারাবাহিকতা একই লেভেলের।

তার এক সময়ের সতীর্থ্যরা যখন সুটেড-বুটেড হয়ে ধারাভাষ্য কক্ষে গলা ফাটাচ্ছেন। এই বুড়ো বুফন আগের চেয়েও ক্ষিপ্রতায় ডাইভ দিচ্ছেন-বল ছুড়ে দিচ্ছেন মাঝমাঠ বরাবর। এখনও খেলে যাচ্ছেন ক্লাব ফুটবল। যেদিন এই কিংবদন্তি সবধরণের ফুটবল থেকে বিদায় বলবেন তার নামের পাশে অসংখ্য রেকর্ডের পাশে লেখা থাকবে "দ্যা সেইফ হেন্ডস'

সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭

একজন ভাঙ্গা বুদ্ধিজীবী, ব্রোকেন ইন্টেলেকচুয়াল

১৯৭১ সালের মে মাসের কোন এক দিনে। একজন পাগলাটে লোককে কলকাতার রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিলো। তাঁর পরনে ধুলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবি। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। এক মাথা এলোমেলো চুল। মুখে খোঁচা খোঁচা। সে মুখে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
তাঁর পিছনে একটা কালো রঙের বিশাল ব্যানার। তাতে বড় বড় করে সাদা অক্ষরে বাংলা এবং ইংরেজিতে লেখাঃ “বাংলা দেশের শরনার্থীদের জন্য দান করুন।” ফুটপাতের লোকজন যেতে যেতে দাঁড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই টাকাপয়সা দিচ্ছে। রেলিং ঘেঁষে একটা বড় বাক্স । লোকজন টাকাপয়সা ওই বাক্সেই ফেলছে।
বাক্সের পাশেই লম্বা একটি টুল। তার ওপর গিটার হাতে এক বিদেশি তরুণ বসে আছে। গায়ের রং তামাটে । হিপিদের মতো লম্বাচুল, চোখে সানগ্লাস। মুখ ভরতি লালচে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরনে ঢোলা বেলবটম প্যান্ট আর রঙীন হাওয়াই শার্ট। মাথায় একটি সাদা রঙের সোলার হ্যাট। গিটার আর মাউথ অর্গান বাজিয়ে তরুণটি গাইছে:
Come senators, congressmen Please heed the call Don't stand in the doorway Don't block up the hall.
ঠোঁটে পাতার বিড়ি আর হাতে বাংলা মদের বোতল। মাথাভর্তি উদভ্রান্তের মত এলোমেলো চুল, ক্ষুরের স্পর্শাভাবে গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। পরনে ধুলিমলিন পাজামা-পাঞ্জাবীর সাথে কাঁধে একটা শান্তিনিকেতনী ঝোলা। চোখে কালো ফ্রেমের চশমা, সে চোখে কৌতুক মেশানো ধারালো দৃষ্টি। যিনি মানুষের কথা ভাবতেন। মানুষের কাছে পৌঁছুতে চাইতেন।




'তিনি কে' এই প্রশ্ন কেউ করলে কোনরকম হেঁয়ালী না করেই সরাসরি জবাব দিয়ে দিয়ে দিতেন- 'আমি এক মাতাল। ভাঙ্গা বুদ্ধিজীবী, ব্রোকেন ইন্টেলেকচুয়াল'। এই হল কিংবদন্তী চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের লেন্সের ভেতর দিয়ে নিজেকে দেখার উপলব্ধি।
অযাত্রিক, বাড়ি থেকে পালিয়ে, তিতাস একটি নদীর নাম, মেঘে ঢাকা তারা, সুবর্ণরেখার মতো কালজয়ী সিনেমা তৈরি করলেও তিনি আসলে পরিচালক হতে সিনেমা বানাতেন না। সিনেমা বানাতেন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য। নিজের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে।
তাই তো তিনি বলতেন, ‘ছবি লোকে দেখে। ছবি দেখানোর সুযোগ যতোদিন খোলা থাকবে, ততোদিন মানুষকে দেখাতে আর নিজের পেটের ভাতের জন্য ছবি করে যাবো। কালকে বা দশ বছর পরে যদি সিনেমার চেয়ে ভালো কোনো মিডিয়াম বেরোয় আর দশবছর পর যদি আমি বেঁচে থাকি, তাহলে সিনেমাকে লাথি মেরে আমি সেখানে চলে যাবো। সিনেমার প্রেমে মশায় আমি পড়িনি। আই ডু নট লাভ ফিল্ম।’

আহ মাশরাফি!

"বোলার কৌশিক ভাইয়ের কথা বাদ দেন। ব্যাটসম্যান মাশরাফির কথা ভাবেন শুধু। বাংলাদেশের হয়ে কত রান করেছেন উনি? হাজার দেড়েক। এই দেড় হাজার রান দিয়ে উনি বাংলাদেশকে যে কয়টা ম্যাচ জিতিয়েছেন, তা আমরা তিন-চার হাজার রান করে করতে পারিনি। ওনার ১৫ রান মানেই ম্যাচে আমরা এগিয়ে গেলাম। শোনেন, একটা কথা বলি। কৌশিক ভাই নিজেকে নিয়ে খামখেয়ালি না করলে সে থাকত বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। কৌশিক ভাই কত বড় অলরাউন্ডার হতে পারতেন, উনি নিজেও জানেন না।"
এই কথাগুলো বলেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সত্যি মাশরাফি হয়তো নিজেই জানেন না তিনি কতো বড় অলরাউন্ডার হতে পারতেন! শনিবার বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আকস্মিক ভাবে ওয়ান ডাউনে নেমে মাত্র ১৭ বলে যখন ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেন। তখন কে বলবে? এই মাশরাফিকেই কিনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

যারা শনিবার টিভি সেট কিংবা গ্যালারিতে বসে মাশরাফি ঝড়ো ব্যাটিং দেখেছিলেন তারা কি বিশ্বাস করতে পারছিলেন এই মাশরাফিই আন্তর্জাতিক টি২০ খেলেন না! মাশরাফি কি বড় আগে বিদায় নিয়ে নিয়েছেন? আফসোসটা শুধু তার ব্যাটিং দেখে নয়। চলতি বিপিএলে বল হাতেও নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি। তরুণ বোলারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৮ ম্যাচে মাত্র ৬.৪১ ইকোনমি রেটে উইকেট নিয়েছেন ৯টি!
শনিবার, চিটাগংয়ের করা ১৭৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে যখন গেইল-ম্যাককালামরা খাবি খাচ্ছিলেন। তখন ম্যাককালামের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে মাঠে নামলেন মাশরাফি। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম যখন ফিরে যাচ্ছেন; রংপুরের স্কোরবোর্ডে তখন শোচনীয় অবস্থা। ৫ ওভার দুই বলে দলীয় রান মাত্র ৩১! ম্যাচ কাভারের সূত্রে তখন আমার চোখ ক্রিক ইনফোতে। সেখানে ভেসে উঠলো ‘ওয়াও মাশরাফি!’। ব্যাট হাতে কি জ্বলে উঠতে পারবেন মাশরাফি? হ্যা পেরেছেন তিনি।
কাউকেই নিরাশ করেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এই অধিনায়ক। নিজেকে এগিয়ে এনে দলের রানরেটটা ঠিকমতোই বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন। ৪ টি চার ও ৩ ছক্কায় যখন তিনি ৪২ রান নিয়ে আউট হন তখনও তার স্ট্রাইকরেট ২৪৭.০৫। যেখানে ক্রিস গেইলের ১৩২! মাশরাফি যখন চিটাগংয়ের বোলারদের আছড়ে ফেলছিলেন গ্যালারিতে, গেইল তখন চেয়ে দেখছিলেন 'পাগলার' মন মুগ্ধকর ব্যাটিং।
এই মাশরাফি গত ৪ দিন আগেও ৫ নম্বরে নেমে ১১ বলে ১৫ করেছিলেন। তার আগেও ১৩, ১৭ রানের ইনিংস ছিল বিপিএলে। মাশরাফি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন সবাই তখন অপেক্ষা করেন ছোটো খাটো একটা ব্যাটিং ঝড়ের। মাশরাফির ব্যাটিংয়ের সাথে 'ঝড়' শব্দটার সম্পর্ক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজে নিজে নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে উপরে ব্যাট করে নিজের জাত চেনাতে এখনো তিনি পরিপক্ক।
মাশরাফির কিছু ইনিংস হয়তো কখনও কখনো ভোলা যাবে না। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মস্তবড় বোলারদেরও ছাড় দেননি। এই যে ধরুন ২০০৪ এ ভারতের বিপক্ষে টানা ৩১*(৩৯) ও ৩৯(২০) রানের ইনিংস। কিংবা কেনিয়ার বিপক্ষে ৪৪*(১৬), ৪৩ (৫৩)। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩০ (২৪)। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৫১*(২৭)। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫*(১৭)। আর গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ বলে ৪৪ রান।


তাছাড়া, দিনেশ মুঙ্গিয়াকে টানা ৪ ছক্কা ভোলানোর সাধ্য কার? বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ৫ নম্বরে নেমে ৫৬* করার কথাও তো সবার জানা। ১০, ১৫, ২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ছোটো ইনিংসগুলোর কথা নাই বললাম। এগুলো স্মৃতিতে এতোটাই জমাট বেঁধে আছে যে এখনও মাশরাফি ব্যাটিংয়ে নামলে শত ব্যস্ততার মাঝে ক্রিক ইনফোতে চোখ রাখি। চায়ের দোকানের টিভিতে ঢুঁ মারি।

বিপিএলের ওরা চার জন

বাংলাদেশের ক্রিকেটের গতি পথই বদলে দিয়েছে বিপিএল। ক্রিকেটের অনেক রথীমহারথীরাও টাইগারদের উত্থানের রসদ হিসেবে দেখেন বিপিএলকে। কেউ আবার মনে করেন সাকিব-তামিমদের সাহসী ব্যাটিং শিখিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞ।
দর্শক সংখ্যায় জনপ্রিয় ফ্র‍্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগের ছোটো তালিকায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের জায়গা না হলেও। দর্শক সংখ্যা, বিশ্বজোড়া সম্প্রচার,  বিদেশি ক্রিকেটারদের উপস্থিতি বিচার করলে আইপিএলের পরেই থাকবে বিপিএল।
২০১২ সালে ফিক্সিংয়ের কালো থাবা বাদ দিলে এই ফ্র‍্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টটি অনেক কিছুই দিয়েছে বাংলাদেশকে। বিপিএলের জন্ম হওয়ার আগে বাংলাদেশে  একটি মানসম্পন্ন ঘরোয়া ক্রিকেট লীগের অভাব ছিল। বিপিএল সেই শূন্যতা পূরণ তো করেছেই সঙ্গে বিসিবির পকেটও ভারি করছে।
বিপিএলের চলতি আসরের খেলা প্রায় শেষের দিকে, একদিন পরেই মাঠে গড়াচ্ছে শেষ চারের খেলা। টুকটাক কিছু বিতর্ক বাদ দিলে, এটিই হতে চলেছে বিপিএলের সবচেয়ে সফল আসর। কারণ, আগের চেয়ে অনেক বিদেশী খেলোয়াড় বেশি অংশগ্রহণ করেছেন এবার।
একারণেই শুধু সফল বলছি না... বিদেশী ক্রিকেটারদের সাথে পাল্লা দিয়ে, অন্য আসরগুলোর চেয়ে এবার দেশি ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স চোখে পড়েছে বেশি। অনেক তরুণ ক্রিকেটারই বিদেশীদের কাছ থেকে আলো কেড়ে নিয়েছেন নিজেদের দিকে।
ব্যাটে বলে নিজেদের সেরা পারফরমেন্স ধরে রেখেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও। সম্ভবত সেরা চার অধিনায়কের দলই বিপিএলের চলতি আসরে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। দলীয় পারফরমেন্সের সাথে শেষ চার নিশ্চিত করা অধিনায়করাও নিজেদের পারফরমেন্সে উজ্জ্বল ছিলেন বিপিএলের চলতি আসরে।
ঘুরে আসা যাক, চার অধিনায়কের পারফরমেন্সে...
তামিম ইকবাল (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স):
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই ইনজুরির কবলে পড়েছিলেন, টাইগার ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। সেরে না ওঠায় বিপিএলের চলতি আসরের শুরুর বেশ কিছু ম্যাচ মিস করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই আইকন ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে ফিরেই নিজের ব্যাটিং ঝলক দেখিয়েছেন তিনি।
মাত্র ৮ ম্যাচ খেলে ২৬৫ রান সংগ্রহ করেছেন তামিম। ২ অর্ধশতকে এ রান করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৫ রান। ৩৭.৮৫ গড়ে ১৫৩.৩২  স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন এই বাঁহাতি। শুধু ব্যাট হাতেই নয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে নিজের অধিনায়কত্বের ঝলকও দেখিয়েছেন দেশ সেরা এই ওপেনার।
৮ ম্যাচের মধ্যে ৭ ম্যাচেই কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পড়ে খেলেছেন তামিম। এর মধ্যে ৬ ম্যাচেই দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে তার দল। অধিনায়কের ব্যাট হাতে মারমুখী শুরু পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করবে স্বাভাবিকই।
ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ধারাবাহিক পারফরমেন্সের রহস্য হিসেবে তামিম বরাবরই বলেন অভিজ্ঞতাই তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। ছোট্টো একটি ঘটনা বলি। গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের মুখোমুখি হয়েছিল তামিম ইকবালের কুমিল্লা। সেই ম্যাচ না খেললেও, ম্যাচের এক পর্যায়ে টিভি সাক্ষাৎকারে কথা বলতে আসেন তামিম ইকবাল।
ব্যাটিং করছিলেন কুমিল্লার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন দাস। আর বোলিংয়ে সিলেটের পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। রাব্বির করা একটি বল নো হয়। তামিমকে জিজ্ঞেস করা হয়, ফ্রী হিটে কি হতে পারে? তামিম বলেন, ডট হবে! এবং তাই হয়। এরপর তামিম নিজেই জানিয়েছেন, এটা অনুমান করার শক্তি পেয়েছেন ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে। তামিমের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের ক্রিকেট অনন্য উচ্চতায় চলে যাবে এটাই আশা করেন সবাই।
সাকিব আল হাসান (ঢাকা ডায়নামাইটস):
সাকিব বরাবরই একজন আক্রমণাত্মক অধিনায়ক। বিপিএলের চলতি আসরেও তার অধিনায়কত্বের সেই ধারা দেখা গেছে। একাদশে পরিবর্তন এনে স্কোয়াডে থাকা প্রায় প্রত্যেক ক্রিকেটারকেই খেলিয়েছেন। তাতে দলও সফল হয়েছে। সাকিব নিজেই জানিয়েছিলেন তার দল, কোনো একজনের উপর নির্ভরশীল নয়। প্রতি ম্যাচেই কেউ না কেউ ঠিকই দুর্দান্ত খেলে অন্য দলের সঙ্গে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।
সাকিব নিজেও ব্যাটে-বলে ছন্দে আছেন বিপিএলের চলতি আসরে। তবে, বল হাতে এবার আলো ছড়িয়েছেন তিনি। শেষ চারের আগ পর্যন্ত ১১ ম্যাচে ১৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বাধিক উইকেট শিকারি এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ইকোনোমিটাও চোখে পড়ার মতো ১২.৯৪। টুর্নামেন্টে শুরুর দিকে  ব্যাট হাতে খুব একটা ফর্মে না থাকলেও শেষের দিকে এসে ব্যাট হাতেও নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেছেন তিনি।
১১ ম্যাচে ১৭৬ রান করেছেন এই তারকা। কোনো অর্ধশতক না থাকলেও বেশ কয়েকটি চল্লিশের ঘরের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ৪৭ রান। সাকিব ব্যাটে বলে কতটা দুর্দান্ত ছিলেন তার প্রমাণ দেবে স্কোরকার্ড গুলোই।
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (খুলনা টাইটান্স):
বিপিএলের গত আসরেও খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক হিসেবে চমক দেখিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। সেবার দুর্দান্ত বোলিংয়ে বেশ কয়েকটি ক্লোজ ম্যাচ জিতিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। এবার ব্যাটে বলে খুব বেশি ছন্দে না থাকলেও দলের অন্য ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স বের করে আনতে তার অনুপ্রেরণার জুড়ি নেই।
বিপিএলের চলতি আসরের প্রায় পুরোটা সময়ই সর্বাধিক উইকেট শিকারির তালিকার উপরের দিকে ছিলেন খুলনা টাইটান্স পেস তারকা আবু জায়েদ রাহী। মারকুটে ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন অলরাউন্ডার আরিফুল হক। তাছাড়া, আফিফ হোসেন ধ্রুবর ব্যাট-বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের মূলে ছিলেন মাহমুদুল্লাহ। এই তরুণদের প্রায় প্রত্যেকেই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মাহমুদুল্লাহর স্বাধীনচেতা অধিনায়কত্বের কারণেই তাদের এই দুর্দান্ত পারফরমেন্স।
ব্যাটে-বলে অবশ্য সময়টা খুব একটা খারাপ যায়নি মাহমুদুল্লাহরও। ১১ ম্যাচে ২৯২ রান করে শীর্ষ ৫ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে আছেন তিনি। পুরো আসরে ২৯.২০ গড়ে রান করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৫৯ রান। বল হাতে ১১ ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি অলরাউন্ডার।
মাশরাফি বিন মর্তুজা (রংপুর রাইডার্স):
বিপিএলের চলতি আসরে ম্যাচের পর ম্যাচ ভালো বোলিং করে চলেছেন মাশরাফি। তবে, তার বোলিং নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। আলোচনার প্রায় সবটা জুড়েই তার বিস্ময়কর ব্যাটিং। ব্যাটসম্যান মাশরাফি এবার ছাড়িয়ে গেছেন বোলার মাশরাফিকে। এবারের বিপিএলের শুরুতেই ছোটো দুটি ঝড়ো ইনিংস খেলেছিলেন মাশরাফি।
তবে, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে আকস্মিক ভাবে তিন নম্বরে নেমে ৪২ রানের যে ইনিংস খেলেছেন, সেটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা। ক্রিস গেইলের সঙ্গে ৪.২ ওভারে ৬০ রানের জুটি গড়েন নড়াইল এক্সপ্রেস। যার মধ্যে তারই অবদান ১৭ বলে ৪২ রান! যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, টি২০ ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইলকে দর্শক বানিয়ে রেখেছিলেন।
এরপর, সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হাতের মুঠো থেকে বেড়িয়ে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়েছেন মাত্র ১০ বলে ১৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে। পুরো টুর্নামেন্টে ১১ ম্যাচে ১৫২.৩২ স্ট্রাইক রেটে ১৩১ রান করেছেন ম্যাশ। তাছাড়া বল হাতে ১৩ উইকেট নিয়ে তরুণ, রাহী-রনিদের সঙ্গে তিনিও ছুটছেন দুর্দান্ত গতিতে।







কোচের ম্যাজিকাল চেয়ার: গ্রিনিজ থেকে হাথুরুসিংহে


ক্রিকেটের সংস্কৃতিটাই এমন যে কোচ আসবে, কোচ যাবে! বাংলাদেশে ক্রিকেটেও কোচের ঘন ঘন আসা যাওয়া একটি নিয়মিত ব্যাপার। এযাবৎ কালে অনেক কোচই এসেছেন টাইগারদের তালিম দিতে। তবে, প্রায় সবার মধ্যেই একটা মিল ছিল, প্রায় সবার বিদায়ই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কারোর বিদায় ছিল হুটহাট, কারোর বিদায় ছিল অশ্রুসিক্ত।
কারো বিদায়ের ক্ষণে, মনে হয়েছিল বড় বাঁচা বেঁচে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট! বিতর্কিত বিদায় শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্ম লগ্নের সেরা কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে দিয়ে এবং শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় নিলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত, সমালোচিত ও সফল কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে। ফিরে দেখা যাক গর্ডন গ্রিনিজ থেকে চান্ডিকা হাথুরুসিংহে কার বিদায় কেমন ছিল...
গর্ডন গ্রিনিজ (১৯৯৬-৯৯)
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা কোচদের তালিকায় উপরের দিকে থাকবে ক্যারিবিয়ান “গর্ডন গ্রিনিজ” এর নাম। কারন তার হাত ধরেই ছোট্ট বাংলাদেশ ক্রিকেটে জয় পেতে শিখেছে। ১৯৯৬ সালে টাইগারদের দায়িত্ব নিয়েই বাজিমাত করে দিয়েছিলেন তিনি। তার হাত ধরেই ১৯৯৭ এর আইসিসি ট্রফি জয়, তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৮ এ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম ওয়ানডে জয় এবং সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ১৯৯৯ এ বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপ খেলা সাথে স্কটল্যান্ড ও বড় দল পাকিস্তানকে হারানো।
তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এতটাই অন্তঃপ্রাণ ছিলেন যে, কথিত আছে বাংলাদেশের মাঠ শুকাতে নিজের তোয়ালে নিয়ে নেমে পরেছিলেন মালয়েশিয়ার মাঠে। সেই মানুষটির প্রস্থান হয়েছিল অত্যন্ত বাজে ভাবে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরবের দিনে তাকে বরখাস্ত করা হয়। অকৃতজ্ঞতার সেরা উদাহরন দিয়ে একপ্রকার অপমান করে তাকে চুক্তি শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বিদায় দেয়া হয়েছিল।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস এত দ্রুত চাননি তিনি, খেলোয়াড়দের মাঝে গ্রুপিং সৃষ্টি করা সহ আরও অজ্ঞাত অভিযোগ। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জেতার পর বাংলাদেশ সরকার গর্ডন গ্রিনিজকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিয়েছিল। নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গর্ডনকে দেওয়া হয়েছিল একটি পাসপোর্ট। এতকিছুর পরেও গর্ডন পাসপোর্টটি ফেলে দেননি। বুক পকেটে রেখে দিয়েছিলেন যত্ন করে। মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সঙ্গে বাংলাদেশের এসেছিলেন তিনি সবকিছু ভুলে। সেবার  বাংলাদেশের একজন গর্বিত নাগরিক হিসেবে, ভিসা ছাড়াই টাইগারদের ডেরায় পা রেখেছিলেন গর্ডন।
এডি বারলো (১৯৯৯-২০০০)
বারলোর নিজের দেশ ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। তার বিদায়ের সময় কান্নায় ভেঙে পড়া দেখে কেউ হয়তো বুঝবেন না যে বাংলাদেশ তার মাতৃভূমি নয়। পারফরমেন্স, পরিসংখ্যানে বারলোর চেয়ে অনেক ভালো কোচ বাংলাদেশে এসেছেন তবে, বাংলাদেশ নিয়ে আবেগে তাকে কেউই ছাড়িয়ে যেতে পারবেন না।
বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে সাহায্য করেছিলেন তিনি। স্থায়ীভাবে থাকতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশে। কিন্তু হঠাৎ মস্তিকে রক্ত ক্ষরণ হয়ে হারিয়ে ফেলেন চলা ফেরা করার শক্তি।  যখন বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলতে নামার শুভক্ষণে, বারলো ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের শিকার হয়ে হুইল চেয়ারে সময় কাটাচ্ছিলেন। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্ট দেখেছেন হুইলচেয়ারে করেই। ২০০১ সালে তাকে বিদায় দেয়া হয়।
ট্রেভর চ্যাপেল (২০০১-০২)
বিখ্যাত গ্রেগ চ্যাপেল ও ইয়ান চ্যাপেলদের ছোটো ভাই ট্রেভর চ্যাপেল। খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি তার বাংলাদেশ ইনিংস। তার কোচিং পদ্ধতি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।তার আগমন বাংলাদেশের ক্রিকেটের কোনো সুফল বয়ে আনেনি। বরং ক্ষতি হয়েছে। তার ছাত্রদের ভুল গুলো আড়াল করা,ভাষাগত সমস্যা,বুলবুল-আকরামদের মতো ট্যালেন্টদের দল থেকে বের করে দেয়ার কারণে তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। দেশে ও দেশের বাহিরের সিরিজে বাজে পারফরমেন্সের কারণে তার বিদায়টি ছিল অস্বাভাবিক।
মহসিন কামাল-আলি জিয়া (২০০২-০৩)
বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ধ্বংস করতেই কি এসেছিলেন পাকিস্তানী ২ কোচ মহসিন কামাল ও তার বন্ধু কোন টেস্ট ম্যাচ না খেলা আলী জিয়া? সেটা জানা যায়নি তবে, ব্যাটসম্যানদের শেখানো 'সোজা খেলো নীতি' ও টানা হতাশাজনক পারফরমেন্সে ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে বিধ্বস্ত এক বাংলাদেশ উপহার দিয়ে ছিলেন এই দুই পাকিস্তানী। স্বাভাবিক নিয়মেই গিয়েছিল তাদের চাকুরি। তবে, তাদের অস্বাভাবিক, প্রশ্নবিদ্ধ কোচিং পদ্ধতি নিয়ে সবার সন্দেহ ছিল ওপেন সিক্রেট।
ডেভ হোয়াটমোর (২০০৩-২০০৭)
শ্রীলঙ্কাকে ১৯৯৬ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ তিনি।  ২০০৩ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তিনি বাংলাদেশ দলের অনেক বড় বড় জয়ের সাক্ষী। ভাঙাচোরা একটি দলকে শক্তিশালী করে দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। আনকোরা একটি দলকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্ব দরবারে।
২০০৫ সালের শুরুতে এই অস্ট্রেলিয়ানের অধীনেই বাংলাদেশ তাদের ১ম টেস্ট ম্যাচ জয় করে। ঐ বছরই শীর্ষস্থানের অধিকারী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। যার ফলে গোটা ক্রিকেট বিশ্ব তাজ্জব বনে যায়। এছাড়াও, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ভারতকে পরাভূত করে সুপার এইট পর্বে পৌঁছেছিল। বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বিদায়ের পরপরই তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
জেমি সিডন্স (২০০৭-১১)
জেমি সিডন্স বাংলাদেশের অন্যতম সফল একজন কোচ। তার অধীনে টাইগাররা অসাধারণ পারফরমেন্স করলেও বোর্ডের সাথে দ্বন্দ্ব, প্রিয় খেলোয়াড়দের বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেয়া সহ বোর্ডের নানা কুকীর্তি প্রতিবাদ করায় তাকে বিদায় করা হয়। এত ভালো সার্ভিস দিয়েও অস্বাভাবিক ভাবে তাকে বিদায় দেয়া হয়। ২ বছর পর ব্যাটিং কোচ হিসেবে ফিরতে চাইলেও তাকে প্রত্যাখ্যাত করে দেয়া হয়। জেমি সিডন্স এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যে কোনো সময় বাংলাদেশের কোচ হয়ে ফিরতে রাজি তিনি!
স্টুয়ার্ট ল (২০১১-১২)
সিডন্সের বিদায়ের পর মাত্র ৩ মাস বাংলাদেশের কোচ ছিলেন স্টুয়ার্ট ল। সেই সময় টাইগারদের নিয়ম নীতিতেও কড়া আইন জাড়ি ছিল ল'র। সেরা অল-রাউন্ডার সাকিব কে বসিয়ে মুশফিককে অধিনায়ক করায় বিতর্কিত হন তিনি। ২০১৩ পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও “পারিবারিক কারন” দেখিয়ে এই অস্ট্রেলিয়ান দেশে ফিরে যান। এরপর আর কোনোদিন বাংলাদেশে পা রাখেননি তিনি।
রিচার্ড পাইবাস (২০১২)
ইংলিশ বংশোদ্ভুত দক্ষিণ আফ্রিকান পাইবাসের সাথে বিসিবির বিভিন্ন বিষয়ে বনিবনা না হওয়ায় চুক্তি সই না করেও কোচ হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশের সাথে। তবে বিসিবির কিছু অনিয়ম নিয়ে কথা বলেছিলেন। তাই হঠাৎ করে চারমাস পর নিজ দেশে চলে যান। যদিও, সম্প্রতি হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর, টাইগারদের দায়িত্ব নেয়ার জন্য আবারও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তিনি। এসেছেন বাংলাদেশে।
শেন জার্গেনসেন (২০১২-২০১৪)
স্টুয়ার্ট ল ও রিচার্ড পাইবাসের সহকারি হিসেবে দীর্ঘ সময় কাজ করার পর ২০১২ সালে টাইগারদের প্রধাণ কোচ করা হয় তাকে। তবে বোর্ডের প্রতি চাপা ক্ষোভ ও অভিমানে তিনিও বেশি দিন স্থায়ী হননি। বিসিবি তাকে রেখে দেয়ার কোন চেষ্টাই করে নি। কেন তার চলে যাওয়া তাও ভালো করে জানা যায় নি। তবে, তার টুইটার, ফেসবুক ঘাটলে দেখা যায়, নিয়মিতই তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোঁজখবর রাখেন।
চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে (২০১৪-২০১৭)
২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে শেন জার্গেনসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে ৪৯ বছর বয়সী হাথুরুসিংহের চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। কিন্তু এর আগেই গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর চলাকালীন তিনি বিসিবি সভাপতি বরাবর তার পদত্যাগপত্র পাঠান।
সিরিজ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে তিনি সরাসরি চলে যান অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারের কাছে। শনিবার, আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে বিদায় বলেছেন চান্ডিকা। বিদায়কালে শৃঙ্খলা জনিত সমস্যা, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টাইগার অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের টেস্ট সিরিজ না খেলাকে নিজের পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পত্রপত্রিকার বরাতে এখন সবাই জেনে গেছে যে, গত শুক্রবারই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে কোচ হিসেবে হাথুরুসিংহের নাম ঘোষণা করেছে। নিজ দেশের কোচ হওয়ায় জন্য যে টাইগারদের চাকরী ছেড়েছেন, এই বিষয়টি এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। সবচেয়ে মজার বিষয়,  শ্রীলঙ্কা দলের দায়িত্ব নেয়ার পর, হাথুরুসিংহের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন হতে চলেছে সেই বাংলাদেশই।