প্রচলিত আছে যে, ১৪৯২ সালের এই দিনে খ্রিষ্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড ও রাণী ইসাবেলা স্পেনের লাখ লাখ মুসলমানকে বোকা বানিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে। সেই থেকে এই দিনটি এপ্রিল ফুল ডে হিসেবে পরিচিত। যদিও মুসলমানদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও শোকাবহ দিন।
৭১১ খ্রিস্টাব্দ। মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে অত্যাচারী রাজা রডরিকের ১ লাখ ২০ হাজার সৈন্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে জয়লাভ করে ঐতিহাসিক স্পেন জয় করেন। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরবর্তী ৮শ’ বছর মুসলমানরা আধিপত্য বিস্তার করে। এই ৮শ’ বছরে স্পেনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সভ্যতার ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নতি লাভ করে। তার সাক্ষী গ্রানাডা, আলহামরা, টলোডো প্রভৃতি। এই ৮শ’ বছরের শেষের দিকে মুসলমানরা তাদের অতীত ইতিহাস-ঐতিহ্য ও আদর্শ থেকে সরে গিয়ে ভোগবিলাসিতা এবং লোভ-লালসায় জড়িয়ে পড়ে। খ্রিস্টানদের চোখে ধরা পড়ে মুসলমানদের অনৈক্য ও দুর্বলতা।
১৪৬৯ সালে খ্রীস্টান রাজা ফার্ডিন্যান্ড পর্তুগীজ রানী ইসাবেলাকে বিয়ে করে দুই বৃহৎ খ্রীস্টান শক্তি সম্মিলিত শক্তি রুপে আত্মপ্রকাশ করে। তারা স্পেনের মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার শপথ নেয়। ১৪৮৩ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী পাঠান মালাগা প্রদেশে। যাদের প্রতি হুকুম ছিল শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দেয়া, জলপাই ও দ্রাক্ষা গাছ কেটে ফেলা, সমৃদ্ধিশালী গ্রাম ধ্বংস করা, গবাদিপশু তুলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সেই সময় মৃত্যু ঘটে স্পেনের শাসক আবুল হাসান আলীর। শাসক হন আজজাগাল। এক পর্যায়ে প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারের ওপর নগরীর লোকেরা আত্মসমর্পণ করলেও নগরী জয় করেই ফার্ডিনান্ড চালান গণহত্যা। দাস বানানো হয় জীবিত অধিবাসীদের। ৪ ডিসেম্বর ১৪৮৯। আক্রান্ত হয় বেজার নগরী। আজজাগাল শত্রুদের সাময়িক প্রতিহত করলেও একপর্যায়ে আত্মসমর্পণ করেন।
ডিসেম্বর ১৪৯১-এ গ্রানাডার আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারিত হলো। বলা হলো : ‘ছোট-বড় সব মুসলমানের জীবনের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তাদের মুক্তভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দেয়া হবে। তাদের মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত থাকবে। তাদের আদবকায়দা, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ অব্যাহত থাকবে। তাদের নিজেদের আইনকানুন অনুযায়ী তাদের প্রশাসকরা তাদের শাসন করবেন …।’ ১৪৯২ সালে গ্রানাডাবাসী আত্মসমর্পণ করল।
রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের একপর্যায়ে চুক্তি লঙ্ঘন করতে লাগলো। চারদিকে চলছিল ভয়াবহ নির্যাতন। পাইকারি হারে হত্যা বর্বরতার নির্মম শিকার হতে থাকলেন অসংখ্য মুসলমান। স্পেনের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো পরিণত হয় মানুষের কসাইখানায়। যেসব মানুষ পর্বতগুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও মেরে ফেলা হলো আগুনের ধোঁয়া দিয়ে।
পহেলা এপ্রিল, ১৪৯২। ফার্ডিনান্ড ঘোষণা করলেন, যেসব মুসলমান গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। লাখ লাখ মুসলমান আশ্রয় নিলেন মসজিদগুলোতে। ফার্ডিনান্ডের লোকেরা সবগুলো মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিল। তিনদিন পর্যন্ত চললো হত্যার উত্সব। ফার্ডিনান্ড লাশপোড়া গন্ধে অভিভূত হয়ে হাসলেন। বললেন, হায় মুসলমান! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা (এপ্রিল ফুল)।
এই গণহত্যার পরও যেসব মুসলমান আন্দালুসিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের ফার্ডিনান্ডের ছেলে তৃতীয় ফিলিপ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সমুদ্রপথে নির্বাসিত করেন। তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখেরও বেশি। ইতিহাস বলে, তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই জীবিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রে ডুবে মারা যায়।
এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানার জন্য অনেক বই ঘাটা ঘাটি করেছি, কিন্তু কোথাও কোনো বিশ্বাস যোগ্য দলিল পাইনি। রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের কথা বিভিন্ন যায়গায় উল্লেখ্য থাকলেও তাদের এই ছলছাতুরির কথা কোথাও উল্লেখ্য নাই। উইকিতেও দেখলাম এই ঘটনাটা তুলে দেয়া হয়েছে। যার তথ্য সুত্র দেয়া হয়েছে [সৈয়দ আমীর আলী : দ্য স্পিরিট অব ইসলাম অ্যান্ড সারাসিল, সম্পাদনা-মাসউদ হাসয়ান, স্পেনে মুসলিম কীর্তি—এমদাদ আলী, ইউরোপে ইসলাম—তালিবুল হাশেমী, অনুবাদ—আমীনুর রশীদ।] যারা প্রত্যেকেই বাঙালী লেখক।
প্রতিবছর মুসলমানরা একটি দিনে বোকা বনে । এপ্রিলে ১ তারিখে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকাংশ লোক বোকার মত সত্য মিথ্যা যাচাই না করে বিশ্বাস করে এই দিনটি ইয়াহুদি নাসারা মুসলিমদের বোকা বানিয়ে ছিল বলে পালন করে থাকে । অথচ এপ্রিল ফুল এর সাথে মুসলিমদের মসজিদে পুড়িয়ে মারার সত্যতা সম্পর্কে কোন বিশ্বাস যোগ্য দলিল কারো কাছেই নেই । কিন্তু তবুও বোকার মত মুসলিম পুড়িয়ে মারার গল্পটি আমরা বিশ্বাস করে যাই প্রচার করে যাই। আর বোকা বনে যাই এই দিন।
সৈয়দ সামি'র দিনলিপি
সৈয়দ সামি'র ব্যক্তিগত ব্লগ।
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৯
সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
ফ্লপ মাস্টার থেকে মহানায়ক
১৯৫৩ সালের কথা, মুক্তি পেল নির্মল দের ছবি 'সাড়ে ৭৪'। মুক্তির পর কমেডি ছবিটি নিয়ে সবার কী উল্লাস। ছবিতে নামি সব তারকা_ কে নেই! চারদিকে কথা হচ্ছিল, ছবিটির মাধ্যমে কী এক নতুন জুটি এসেছে পর্দায়। বয়স্করা মজেছিলেন তুলসী চক্রবর্তী আর মলিনা দেবীতে। তাদের দাবি, হিরো-হিরোইন তো তুলসী-মলিনা। নতুন জুটি তো সাইড রোলে! ছবিটি বক্স অফিস কাঁপিয়ে দিল ৷ টানা আট সপ্তাহ চলল এই ছবি ৷ সাদা-কালো 'সাড়ে ৭৪'-এর মাধ্যমে নতুন জুটির যে ইনিংস পত্তন হয়েছিল তাতেই হল রঙিন ইতিহাস। উত্তম পেলেন কালজয়ী সাফল্য, সৃষ্টি করলেন বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন যুগ। তিন দশক ধরে দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে পৌঁছে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। ১৯৭০-এর পর নায়ক উত্তম থেকে হয়ে গেলেন মহানায়ক। অনাবিল হাসি, অকৃত্রিম চাহনি আর অভিনয় গুণে কয়েক প্রজন্ম পেরিয়ে আজও বাঙালির চেতনায় উত্তম জীবন্ত।গানের শিক্ষকঃ শুরুর গল্পটা ঠিক উল্টো। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তার জন্ম। পরিবারের দেওয়া নাম ছিল অরুণ কুমার। বাবা সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় আর মা চপলা দেবী গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসার; কোনওমতে দিন কেটে যায়। গিরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের একটিমাত্র ঘরে তাঁরা থাকেন ৷ ভরসা বাড়িটি নিজের। বাবার সামান্য বেতনে সংসার চলছে না। উপায় না দেখে উপার্জনে নেমে পড়লেন বাড়ির বড় ছেলে অরুণ। পড়াশোনার পাশাপাশি গানের শিক্ষকতা শুরু করলেন। সবচেয়ে লোভনীয় প্রস্তাব পেলেন অল্প দিনেই। গান শেখাতে হবে গাঙ্গুলী বাড়ির মেয়ে গৌরী দেবীকে। বেতনও বেশ ভালো, মাসে ৭৫ টাকা। আগেই চেনাজানা হলেও শিক্ষকতা করতে গিয়ে কাছে এলেন উত্তম-গৌরী। ১৯৫০ সালের ১ জুন অরুণের ঘরে এলেন গৌরী দেবী।
পাঁচ সিকিতে এক্সট্রার রোলঃ ছোটবেলা থেকেই অরুণ থিয়েটার অনুরাগী; ছিলেন যাত্রার ভক্ত। রুপোলি পর্দায় অভিনয়ের ঝোঁকটা ক্রমেই বেড়ে চলল। ১৯৪৭ সালে হিন্দি চলচ্চিত্র 'মায়াডোর'-এ অভিনয়ের সুযোগ মিলল ৷ তবে এক্সট্রার রোল। মাত্র পাঁচ সিকিতে দৈনিক ভিত্তিতে ওই ছবিতে অভিনয় করলেন অরুণ। কিন্তু 'মায়াডোর' মুক্তি পেল না। '৪৮ সালে পেলেন আরেকটি সুযোগ, 'দৃষ্টিদান' ছবিতে নায়ক অসিতবরণের অল্প বয়সের চরিত্রে। কিন্তু দর্শকমনে তেমন দাগ কাটতে পারলেন না অরুণ। পরের ছবি 'কামনা'। ১৯৪৯ সালে মুক্তি পেল ছবিটি, কিন্তু সেটিও সুপার ফ্লপ। পরের দুই ছবি 'মর্যাদা' ও 'ওরে যাত্রী'ও চলল না।
ফ্লপ মাস্টার জেনারেলঃ ছবি ফ্লপ হচ্ছে, তারপরও দমে যাননি অরুণ। হাতে ছিল তখনও 'সহযাত্রী' ও 'নষ্টনীড়' ছবি। মন-প্রাণ দিয়ে অভিনয় করলেন। ফল আগের তিনটির মতোই। ছবি ফ্লপ করছে কিন্তু সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন ৷ বিষয়টি ভালভাবে নিল না অনেকেই। আড়ালে-আবডালে তাঁকে ডাকা শুরু হল 'ফ্লপ মাস্টার জেনারেল' বা 'এফএমজি' বলে। নামটা রটে গেলে সিনেমাপাড়ায়। খবরের পাতায় এফএমজি ঘিরে খবরও ছাপা হল।
অরুণ থেকে অরূপ, পরে উত্তমঃ অসফলতার ধারাবাহিকতা চলছিল। এর মধ্যে সরোজ মুখোপাধ্যায়ের 'মর্যাদা' ছবিতে নায়ক হলেন। তবে পরিচালকের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নাম পাল্টে হলেন অরূপ কুমার। তাতেও কাজ হল না। ‘সহযাত্রী’ ছবিতে অভিনয় করছিলেন বিখ্যাত অভিনেতা পাহাড়ি সান্যালের সঙ্গে। শুটিংয়ের ফাঁকে আড্ডায় পাহাড়ি সান্যাল হঠাৎ বলে বসলেন-'তুমি অরুণ নও হে, তুমি যে উত্তম, উত্তম কুমার।' তার পরামর্শে নাম পাল্টে হয়ে গেলেন উত্তম কুমার। নাম বদলের প্রথম ছবি সহযাত্রীতেও সাফল্য ধরা দিল না। ১৯৫১ সালে 'সঞ্জীবনী'ও ফ্লপ হল। 'বসু পরিবার' ছবিতে নায়কের ভূমিকায় নয়, ছিলেন পার্শ্বচরিত্রে। ছবিটি বেশ ভাল চলল, অভিনয়ের জন্য প্রথম প্রশংসিত হলেন উত্তম।
উত্তমের 'দিদি'রাঃ সুচিত্রা সেনের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয়ের আগ পর্যন্ত উত্তম ছয় বছরে নয়টি ছবিতে অভিনয় করেন। ছবিগুলোর ৯ নায়িকার মধ্যে আটজনই ছিলেন উত্তমের বড়। ছোট ছিলেন একমাত্র সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। মায়া মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ছবি রায়, মনীষা দেবী, করবী গুপ্ত, ভারতী দেবী, সনিন্দা দেবী, সন্ধ্যা রানী ও মঞ্জু দে- আটজনকেই উত্তম ‘দিদি’বলে ডাকতেন। অনেকেই মনে করেন, বয়সে বড় নায়িকাদের সঙ্গে অভিনয় করায় উত্তমের শুরুর কেরিয়ারে প্রভাব ফেলে।
এক বছরেই ১৪ ছবি: 'সাড়ে ৭৪'-এর জোয়ারের ঢেউ গিয়ে পড়ল পরের বছর। ১৯৫৪ সালে মুক্তি পেল উত্তম অভিনীত ১৪টি ছবি, তার মধ্যে সাতটিই সুচিত্রার সঙ্গে জুটি বেঁধে। 'দৃষ্টিদান' দিয়ে শুরু করে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৩৩ বছরে বাংলা-হিন্দি মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ' ছবিতে অভিনয় করেছেন উত্তম। প্রথম ছবিতে মায়া মুখোপাধ্যায়, সর্বশেষ 'ওগো বধূ সুন্দরী'তে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়-সহ সর্বমোট ৪৬ জন তার নায়িকা হয়েছেন।
কিংবদন্তি জুটি ও রহস্যঃ ১৯৫৪ সালে 'ওরা থাকে ওধারে' ছবি দিয়ে উত্তম-সুচিত্রা জুটি পাকাপাকিভাবে দর্শক হৃদয়ে স্থান করে নেয়। তিপান্নর যাত্রা পঁচাত্তরে গিয়ে 'প্রিয় বান্ধবী' দিয়ে শেষ হয়। ২২ বছরে মুক্তি পেয়েছে উত্তম-সুচিত্রা জুটির সর্বমোট ৩১টি ছবি। কিন্তু রূপালি পর্দার বাইরে কেমন ছিল তাদের সম্পর্ক? পেশাগত, নাকি বন্ধুত্বের? নাকি আরও কিছু? এসব প্রশ্নের শুরু হয়েছে অনেক আগেই, শেষ হয়নি কখনও! সুচিত্রা সেনের জীবনের শেষ ছবি হতে পারত উত্তমের সঙ্গে; এমনকি উত্তমেরও। কী যে ঘটেছিল, ১৯৬২ সালের পর তারা একসঙ্গে ছবি করা কমিয়ে দেন। সুচিত্রা কেনই বা সিনেমা জগৎ ছেড়ে চলে গেলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে, তাও এক চিরকালীন রহস্য। গৌরী দেবীকে ছেড়ে ১৯৬৩ সাল থেকে ১৯৮০ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে ছিলেন।
১৯৬১ সালে 'সপ্তপদী' সিনেমায় উত্তম তার ভালবাসার মানুষ রিনা ব্রাউনকে (সুচিত্রা সেন) নিয়ে বাইকে চেপে গেয়েছিলেন, 'এই পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হতো তুমি বলো তো'- পথ শেষ হয়নি, মৃত্যুর পরও চিরসবুজ পথে হেঁটে চলেছেন বাঙালির প্রাণের নায়ক। প্রতিটি ক্ষণে আছেন, থাকবেন অনন্তকাল।
বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮
সাইকেল নয়, জীবন যাত্রায় ফিরে আসার গল্প
এখন আর কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করে না। সুইসাইড করে ডিপ্রেশনে। ডিপ্রেশনের শুরু হয় “আমার বন্ধুর কেন বাইক আছে আমার কেন নেই?”“তার বাবা-মা তারে কতো কিছু দেয়! আমার বাবা-মা কেন দেয় না?” সত্যিকার অর্থে পৃথিবীতে নিজেকে অন্যের সাথে মিলাতে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় বোকামি।
পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা আইডেন্টিটি আছে। প্রত্যেকের জীবন আলাদা। প্রত্যেকের বেঁচে থাকার কারণও আলাদা।
আজ একজন কিংবদন্তী সাইকলিস্টের গল্প বলবো। যার সারা জীবন স্বপ্ন ছিল অনেক বড় সাইকলিস্ট হবেন, কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ধাক্কা, মরণব্যাধি টেস্টিকুলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হোন।
এই সময় একজন নিজের জীবনের শেষ কটা দিন কোথায় কাটাবেন তা নিয়ে চিন্তা শুরু করে দিতেন। কিন্তু তিনি বাঁচার পথ খুঁজছিলেন। অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোকে পূর্ণতা দিতে।
এক পর্যায়ে ডাক্তাররাও আশা ছেড়ে দেন, বাঁচার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু তিনি আশা ছাড়ার মত লোক না, ঠিকই ক্যান্সারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিরে আসেন সাইক্লিংয়ে।
তারপর রুপকথার মত “ট্যুর ডি ফ্রান্সে” অংশ নিয়ে ১৯৯৯-২০০৫ পর্যন্ত টানা সাতবার শিরোপা জেতেন। প্রচন্ড মনোবল ছাড়া এটা করা কখনই সম্ভব হতো না।
ক্যান্সার থেকে সাইক্লিংয়ে ফিরে আসার সত্যিকারের গল্পটা নিয়ে আত্মজীবনী লিখে ফেলেন তিনি “
It’s not about my bike: my journey back to life” নামে।
যা পড়ে হতাশা নিমজ্জিত মানুষ এখনো বাঁচার পথ খুঁজে। তার নাম ল্যান্স আর্মস্ট্রং। নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন ক্যান্সার ফাউন্ডেশন “আর্মস্ট্রং ফাউন্ডেশন”। এভাবেই ল্যান্স আর্মস্ট্রং হয়ে রইলেন হতাশা নিমজ্জিত অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংও মরণব্যাধি ক্যান্সারে পড়েছিলেন। সেরে উঠেছেন প্রচন্ড মনোবল নিয়ে। ক্যান্সার থেকে ফেরার পর আর্মস্ট্রং এর লেখা বইটির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।আর্মস্ট্রংয়ের ৭ বার “ট্যুর ডি ফ্রান্সের” শিরোপা জয়ের রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙ্গতে পারেননি।
জয় পরাজয় হতাশা ব্যর্থতা জীবনের অনিবার্যতা, এই অনিবার্যতাই জীবনের স্বার্থকতা, এই অনিবার্যতাকে চুমু দিতে হয় সাহস নিয়ে, আত্মঘাতী হয়ে নয়। এদের মতো কয়েকজনের জন্যই জীবনটাকে খুব অল্প বয়সেই উপভোগ করতে শিখে গেছি। লাইফ ইজ বিউটিফুল। লাইফ ইজ ওয়ান্ডারফুল।
বুধবার, ২৮ মার্চ, ২০১৮
জরিনা (পুথি)
বলি ভাইরে ভাই, বলে যায়, আজব এক ঘটনা,
সাপ খেলে সাপুরের মেয়ে নামে জরিনা।
জরিনার মা নাই,
জরিনার মা নাই, বাপ নাই, দাদির সাথে ঘোরে,
বেহুলা লক্ষীন দারের গানে পরান পাগল করে।
জরিনার বয়স ষোল,
জরিনার বয়স ষোল, হাতে ছিল, প্লাষ্টিকের চুড়ি,
গলায় ছিলো পুথির দানা পরনে জাম শাড়ী।
বরন কাঁচা সোনা,
বরন কাঁচা সোনা, হাত দুখানা, লাও লতিকার ডোগা,
ভ্রুতে বিজলী মাখা চাওনি স্বপন আঁকা।
ঠোটে মধু মাখা,
ঠোটে মধু মাখা, আঁকা বাঁকা, পথ ধরিয়া চলে,
দেখতে ভাল গঠন ভাল যে দেখে সে বলে।
হাসিতে জগত মাতায়,
হাসিতে জগত মাতায়, সুন্দর ও গায়, সবুজ ব্লাউজ আছে,
আওলিয়া কাজল ভ্রমর তার উপর দুলতাছে।
যেমন মধুর চাক,
যেমন মধুর চাক, দেখলে অবাক, মনের মন হরে,
সারাটা দিন সাপ খেলিয়া তারা সন্ধায় বাড়ী ফেরে।
তাদের ডিঙ্গা নাই,
তাদের ডিঙ্গা নাই, সেই দিন হায়, পূর্ণীমা রজনী,
খাওয়া দাওয়া অন্তে তামাক সাজে বিনোদীনি।
দিলো দাদীর হাতে,
দিলো দাদীর হাতে, মন খুশীতে, দাদী তামাক খায়,
মধ্য গাঙ্গে কলার ভেলা ধব ধবে জোসনায়।
যায় স্রোতের বেগে,
যায় স্রোতের বেগে, জরিনা দেখে, দাদীকে ডাকিলো,
মশারী টাঙ্গানো ভেলা অনুমান করিল।
সাপে কাটা মানুষ,
সাপে কাটা মানুষ, দেখতে হাউশ, হলো জরিনার,
দাদী বলে যাক না ভেসে আছে কি দরকার।
মানেনা মানা জরিনা,
মানেনা মানা জরিনা, ডিঙ্গি খানা, দেয় সে ভাসাইয়া,
কলার ভেলা যায় ভাসিয়া গেল সে পৌছাইয়া।
ভেলার নিকটে,
ভেলার নিকটে, সত্য বটে, সাপে কাটা মানুষ,
চাদর দিয়ে আছে ছাপানো মেয়ে নয় পুরুষ।
দাদী চাদর তোলে,
দাদী চাদর তোলে, দেখে বলে, বড় লোকের ছেলে,
বুকের সাথে কাগজ বাধা নিলো হাতে তুলে।
জরিনা পড়ে দেখে,
জরিনা পড়ে দেখে, কয় দাদীকে, বাড়ী সানপুকুরে,
ছয় দিন কেটেছে সাপে সঙ্গে সঙ্গে মরে।
সাপটি মারা পরে নাই,
সাপটি মারা পরে নাই, আর ছেলে নাই, একটি মাত্র ছেলে,
এম. এ. ক্লাশে পড়তে ছিলো ভাগ্য গেছে টলে।
পত্রে লিখা আছে,
পত্রে লিখা আছে, আমার ছেলেকে যে, বাচাঁতে পারে,
পনের হাজার নগত টাকা বখশিস দিবো তারে।
দাদী চিন্তা করে,
দাদী চিন্তা করে, অনেক পরে, জরিনাকে কয়,
ডিঙ্গির সাথে বাধো ভেলা, মনে সন্ধ হয়।
ছেলেটি বাচঁতে পারে,
ছেলেটি বাচঁতে পারে, রাত্র ধরে, ঝাড়া ফোক করে,
ফল হলোনা কোন তাতেই দাদী চিন্তা করে।
ডাকে জরিনাকে,
ডাকে জরিনাকে, তোর চাচাকে, জলদি ডেকে আন,
কাল সাপ করেছে দংশন হয় যে অনুমান।
কড়ি চালান দিবো,
কড়ি চালান দিবো, সাপ আনিবো, যে সাপে দংশিলো,
সাদা রঙের খাসী দরকার বলো কোথায় পাব।
দুগ্ধ চাই আধ মন,
দুগ্ধ চাই আধ মন, কোথায় এখন, নগদ টাকা পায়,
জরিনা কয় দুল বেচিবো টাকার ভাবনা নাই।
জরিনার চাচা এলো,
জরিনার চাচা এলো, সব শুনিলো, যাই সে ধাওয়ায় ধায়,
এই দিনতো গেলে সাতদিন আর তো আশা নাই।
বেলা দুপুরে হলো,
বেলা দুপুরে হলো, যোগাড় হলো, খাসী দুধ আধ মন,
জল ডহরা হতে দাদী তুলে আনে তখন।
একটি মাটির পাতিল,
একটি মাটির পাতিল, মুখে তাহার নীল, কাপড় বাধা ছিলো,
ধুলা পড়া দিয়ে পাতিলের মুখ খুলিয়া দিলো।
গর্জন শোনা যায়,
গর্জন শোনা যায়, হায়রে হায়, কানে লাগে তালা,
ভয়েতে গায়ের রোম শিউরে ওঠে ঢাকনিতে দেয় ঠেলা।
দাদীর অঙ্গ কাঁপে,
দাদীর অঙ্গ কাঁপে, হস্ত কাঁেপ, গলায় বস্ত্র নিয়া,
দোহায় দিয়া খাড়া হলো পাতিলের সামনে গিয়া।
দর্শক হাজার হাজার,
দর্শক হাজার হাজার, গাঙ্গের কিনার, লোকে লোকারন্য,
শুধু শোনা যায় গর্জন দাদী ঘোন ঘোন।
দোহায় দেয় মনোশার,
দোহায় দেয় মনোশার, কিছুতেই আর, থামে না গর্জন।
ছত্রিশ কাহন সাপের মন্ত্র সব হলো খতম।
দাদী অস্থির হলো,
দাদী অস্থির হলো, ঢুলে পরলো, ডাকে জরিনায়,
আমারও হায়াত বুঝি শেষ হইয়া যায়।
জরিনা ছুটে এলো,
জরিনা ছুটে এলো, দাঁড়ায়লো, গলায় কাপড় দিয়া,
উলঙ্গ হইয়া মাজার সুতা ফেলে ছিড়িয়া।
বেহুলার গান ধরিলো,
বেহুলার গান ধরিলো, থেমে গেল দুরন্ত গর্জন,
আধ হাত সাপ একটা ঢাকনিতে তখন।
দাঁড়ায় ফনা ধরে,
দাঁড়ায় ফনা ধরে, ঢাকনি পরে, তিনটি কড়ি ছিলো,
তিনটি কড়ি তুলে জরিনা তিন দিকে দিলো।
সাপে চল্লো ছুটে,
সাপে চল্লো ছুটে, ধন্য বটে, ধন্য বেদের মেয়ে,
দর্শকগন তো প্রশংসা করে হাতে তালি দিয়ে।
দুপুর পড়ে গেল,
দুপুর পড়ে গেল, দাঁড়ায়ে রইলো, জরিনা একভাবে,
নাভি ভরা পানিতে কোন বস্ত্র নাই শরীরে।
দাঁড়ায় হস্ত জুড়ে,
দাঁড়ায় হস্ত জুড়ে, উচ্চরন করে, আল্লাহ নবীর নাম,
হাজার হাজার লোক দাঁড়ায়ে রইলো নিমা শাম।
সবাই চেয়ে থাকে,
সবাই চেয়ে থাকে, হঠাৎ দেখে, দুরে বহু দুরে,
কি যেন যে আসিতেছে পানি দুভাগ করে।
গর্জন শোনা য়ায়,
গর্জন শোনা য়ায়, দেখে হায়, বিরাট অজগর,
আধ হাত সে সাপটি তার মাথার উপর।
অজগর ছুটে আসে,
অজগর ছুটে আসে, ভেলার পাশে, ঘোরে চতুর দিকে,
মাথা উঁচু করে মশারীর মধ্যে গেল ঢুকে।
লাশের পা যেদিকে,
লাশের পা যেদিকে, সেই দিকে, ফনা ধরে দাঁড়ালো,
হা করিয়া ছোবল দিয়া গিলিয়া ফেলিল।
পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল,
পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল, যে আঙ্গুলে, দংশনের দাগ ছিলো,
মুখের ভিতর দিয়া আঙ্গুলের বিষ চুষিয়া নিলো।
আঙ্গুল ছেড়ে দিলো,
আঙ্গুল ছেড়ে দিলো, ছুটে এলো, যেথায় দুধের ডালা,
মুখ ডুবাতে আধা মন দুধ হইয়া গেল কালা।
তখন ফনা ধরে,
তখন ফনা ধরে, গর্জন করে, ভীষন সে গর্জন,
সাদা খাসী এনে জরিনা সামনে দেয় তখন।
সাপে হাঁ করিয়া,
সাপে হাঁ করিয়া, ছোবল দিয়া, ধরে খাসীর গলায়,
লেজ দিয়া প্যাচায়ে ধরে উড়ার ছেড়ে যায়।
জরিনা জলদি করে,
জরিনা জলদি করে, হুস করে, দাদীকে তখন,
মশারী উচুঁ করে দেখে জহির অচেতন।
তখনও হুস ফেরে নাই,
তখনও হুস ফেরে নাই, বলে সবাই, কি হলো কি হলো,
মাথার কাছে বসে দাদী তিন থাপর দিলো।
কলার ভেলার পরে,
কলার ভেলার পরে, নামটি ধরে, ডাকে জোরে জোরে,
ওঠো ওঠো সোনার জহির ওঠো জলদি করে।
জহির চেতন হলো,
জহির চেতন হলো, চোখে মেলিলো, আল্লাহ আল্লাহ বলে,
মা-মা বলিয়া ডাকিয়া উঠিলো।
কোথায় মা আমার,
কোথায় মা আমার, দাদী জরিনার, মাথায় বুলাই হাত,
কাঁচা মাটির পাতিলে জরিনা রেঁধে আনে ভাত।
খাওয়া দুগ্ধ দিয়া,
খাওয়া দুগ্ধ দিয়া, বেলা ডুবিয়া, রাত্রি যে হলো,
সারা রাত্রি ধরে জরিনা শুশূষা করিলো।
শেষে রাত্রি বেলায়,
শেষে রাত্রি বেলায়, ঘুম ভেঙ্গে যায়, জহির চেয়ে রই,
কে তুমি সুন্দরী কন্যা বলো আমি কোথায়?
জরিনা সব বলিল,
জরিনা সব বলিল, জহির শুনিলো, তাজ্জবও হইয়া,
কেন বাঁচালে তুমি মোরে যাবে না ভুলিয়া।
সাক্ষী রাতের আঁধার,
সাক্ষী রাতের আঁধার, আর দরিয়ার, পানি কাষ্ঠের নাও,
আকাশের ও লক্ষ তারা তোমার সাক্ষী হও।
জরিনার ঋণ শুধিবো,
জরিনার ঋণ শুধিবো, জীবন দিবো, যে জীবন বাঁচায়,
হাতের আংটি খুলে জরিনার আঙ্গুলে পরাই।
নিশি প্রভাত হলো,
নিশি প্রভাত হলো, টেলিগ্রাম করিলো, জরিনার চাচায়,
শানপুকুরে বিরাট ধনী জহিরের আব্বায়।
টেলিগ্রাম পায় দুপুরে,
টেলিগ্রাম পায় দুপুরে, দেখে পড়ে, বেহুস হইলো,
আত্নীয় স্বজন সকলে যে দৌড়ায় আসিলো।
সবাই ছুটে এলো,
সবাই ছুটে এলো, ভাড়া করিল, বার খানা পাংশী,
কোথায় সে বাদিয়ার কেল্লা কোথায় বেহুলা নদী।
চলে খোঁজ করিয়া,
চলে খোঁজ করিয়া, যমুনা ছাড়িয়া, ধলেশ্বরী গিয়া,
খোঁজ পেলো বেথুয়া নদীর মানিক গড্ডে গিয়া।
রাত্রি ফজর হলো,
রাত্রি ফজর হলো, সাড়া পড়িলো, জহিরের বাপ এলো,
ঘুমায়ে ছিলো সোনার জহির জরিনা ডাকিলো।
জহিরের ঘুম ভাঙ্গিলো,
জহিরের ঘুম ভাঙ্গিলো, চেয়ে দেখিলো, বার খানা পাংশী,
শোকে জড়ো সরো বাপ-মা সাত দিন অনাহারে।
জহির যায় ছুটিয়া,
জহির যায় ছুটিয়া, পড়ে লুটিয়া, মা-বাপের ও পায়,
বলে আব্বা জহির উদ্দিন কে বাঁচায় তোমায়।
বখশিষ দেব তারে,
বখশিষ দেব তারি, টাকা কড়ি, সাথে জমিদারী,
দাদী বলে এ পুরস্কার প্রাপ্য জরিনারই।
জরিনার উছিলায়,
জরিনার উছিলায়, খোদা তাআলা বাঁচায়, তোমার ছেলে,
তাইতো আজি পুত্র ধনের মুখ দেখিতে পেলে।
এসো মা-জরিনা,
এসো মা-জরিনা, চাঁদের কনা, লহও পুরস্কার
জরিনা কয় প্রাণ বাঁচালাম যার।
আমি তাকে চাই,
আমি তাকে চাই, মিটাও, মনের আশা,
জহিরের আব্বা বলে মাগো ছাড়ো এ দুর আশা।
টাকা লও পঁচিশ হাজার,
টাকা লও পঁচিশ হাজার, দিয়া দিবো ঘর, ও বাড়ী,
বেদের মেয়ে তুমি যে মা, তাই আপত্তি করি।
জরিনা কয় না কথা,
জরিনা কয় না কথা, নিচু মাথা, উচুঁ না করিল,
ধীরে ধীরে পাও ফেলায়া ডিঙ্গিতে চড়িল।
কেহই হইনা রাজী,
কেহই হইনা রাজী, শরীফ কাজী, ধনী জমিদার,
কি করে যে পাঁচ দিন কাটে লইনা পুরস্কার।
জহির কয় মা-জননী,
জহির কয় মা-জননী, শোন তুমি, হোকনা বেদের মেয়ে,
জরিনাকে না পেলে আমি করবো আর বিয়ে।
জরিনা সাথে ছিলো,
জরিনা সাথে ছিলো, পায়ে ধরিলো, বলি আব্বা জান,
না পেলে প্রাণের জহিরকে তেজিবো প্রাণ।
বেথুয়া নদীর জলে,
বেথুয়া নদীর জলে, রাত্রিকালে, এই ঘটনা হলো,
একমাত্র পুত্র জহিরের বাপ-মা রাজী হলো।
বাজে সাদীয়ানা,
বাজে সাদীয়ানা, তিনশো খানা, বেদের নৌকা সাজে,
বারখানা পাংশী নৌকা চলে আগে পিছে।
মাঝে জহির জরিনা,
মাঝে জহির জরিনা, পাংশী খানা, সাজায় কি বাহার,
পাংশীর সাথে বেধে দিলো ডিঙ্গি দাদী-মার।
দাদীমা নামাজ পড়ে,
দাদীমা নামাজ পড়ে, মোনাজাত করে, হায়গো দয়াময়,
দাম্পত্য জীবন জরিনার করো মধুময়।
কবিতা ইতি হলো।।
সংগ্রহিত
সাপ খেলে সাপুরের মেয়ে নামে জরিনা।
জরিনার মা নাই,
জরিনার মা নাই, বাপ নাই, দাদির সাথে ঘোরে,
বেহুলা লক্ষীন দারের গানে পরান পাগল করে।
জরিনার বয়স ষোল,
জরিনার বয়স ষোল, হাতে ছিল, প্লাষ্টিকের চুড়ি,
গলায় ছিলো পুথির দানা পরনে জাম শাড়ী।
বরন কাঁচা সোনা,
বরন কাঁচা সোনা, হাত দুখানা, লাও লতিকার ডোগা,
ভ্রুতে বিজলী মাখা চাওনি স্বপন আঁকা।
ঠোটে মধু মাখা,
ঠোটে মধু মাখা, আঁকা বাঁকা, পথ ধরিয়া চলে,
দেখতে ভাল গঠন ভাল যে দেখে সে বলে।
হাসিতে জগত মাতায়,
হাসিতে জগত মাতায়, সুন্দর ও গায়, সবুজ ব্লাউজ আছে,
আওলিয়া কাজল ভ্রমর তার উপর দুলতাছে।
যেমন মধুর চাক,
যেমন মধুর চাক, দেখলে অবাক, মনের মন হরে,
সারাটা দিন সাপ খেলিয়া তারা সন্ধায় বাড়ী ফেরে।
তাদের ডিঙ্গা নাই,
তাদের ডিঙ্গা নাই, সেই দিন হায়, পূর্ণীমা রজনী,
খাওয়া দাওয়া অন্তে তামাক সাজে বিনোদীনি।
দিলো দাদীর হাতে,
দিলো দাদীর হাতে, মন খুশীতে, দাদী তামাক খায়,
মধ্য গাঙ্গে কলার ভেলা ধব ধবে জোসনায়।
যায় স্রোতের বেগে,
যায় স্রোতের বেগে, জরিনা দেখে, দাদীকে ডাকিলো,
মশারী টাঙ্গানো ভেলা অনুমান করিল।
সাপে কাটা মানুষ,
সাপে কাটা মানুষ, দেখতে হাউশ, হলো জরিনার,
দাদী বলে যাক না ভেসে আছে কি দরকার।
মানেনা মানা জরিনা,
মানেনা মানা জরিনা, ডিঙ্গি খানা, দেয় সে ভাসাইয়া,
কলার ভেলা যায় ভাসিয়া গেল সে পৌছাইয়া।
ভেলার নিকটে,
ভেলার নিকটে, সত্য বটে, সাপে কাটা মানুষ,
চাদর দিয়ে আছে ছাপানো মেয়ে নয় পুরুষ।
দাদী চাদর তোলে,
দাদী চাদর তোলে, দেখে বলে, বড় লোকের ছেলে,
বুকের সাথে কাগজ বাধা নিলো হাতে তুলে।
জরিনা পড়ে দেখে,
জরিনা পড়ে দেখে, কয় দাদীকে, বাড়ী সানপুকুরে,
ছয় দিন কেটেছে সাপে সঙ্গে সঙ্গে মরে।
সাপটি মারা পরে নাই,
সাপটি মারা পরে নাই, আর ছেলে নাই, একটি মাত্র ছেলে,
এম. এ. ক্লাশে পড়তে ছিলো ভাগ্য গেছে টলে।
পত্রে লিখা আছে,
পত্রে লিখা আছে, আমার ছেলেকে যে, বাচাঁতে পারে,
পনের হাজার নগত টাকা বখশিস দিবো তারে।
দাদী চিন্তা করে,
দাদী চিন্তা করে, অনেক পরে, জরিনাকে কয়,
ডিঙ্গির সাথে বাধো ভেলা, মনে সন্ধ হয়।
ছেলেটি বাচঁতে পারে,
ছেলেটি বাচঁতে পারে, রাত্র ধরে, ঝাড়া ফোক করে,
ফল হলোনা কোন তাতেই দাদী চিন্তা করে।
ডাকে জরিনাকে,
ডাকে জরিনাকে, তোর চাচাকে, জলদি ডেকে আন,
কাল সাপ করেছে দংশন হয় যে অনুমান।
কড়ি চালান দিবো,
কড়ি চালান দিবো, সাপ আনিবো, যে সাপে দংশিলো,
সাদা রঙের খাসী দরকার বলো কোথায় পাব।
দুগ্ধ চাই আধ মন,
দুগ্ধ চাই আধ মন, কোথায় এখন, নগদ টাকা পায়,
জরিনা কয় দুল বেচিবো টাকার ভাবনা নাই।
জরিনার চাচা এলো,
জরিনার চাচা এলো, সব শুনিলো, যাই সে ধাওয়ায় ধায়,
এই দিনতো গেলে সাতদিন আর তো আশা নাই।
বেলা দুপুরে হলো,
বেলা দুপুরে হলো, যোগাড় হলো, খাসী দুধ আধ মন,
জল ডহরা হতে দাদী তুলে আনে তখন।
একটি মাটির পাতিল,
একটি মাটির পাতিল, মুখে তাহার নীল, কাপড় বাধা ছিলো,
ধুলা পড়া দিয়ে পাতিলের মুখ খুলিয়া দিলো।
গর্জন শোনা যায়,
গর্জন শোনা যায়, হায়রে হায়, কানে লাগে তালা,
ভয়েতে গায়ের রোম শিউরে ওঠে ঢাকনিতে দেয় ঠেলা।
দাদীর অঙ্গ কাঁপে,
দাদীর অঙ্গ কাঁপে, হস্ত কাঁেপ, গলায় বস্ত্র নিয়া,
দোহায় দিয়া খাড়া হলো পাতিলের সামনে গিয়া।
দর্শক হাজার হাজার,
দর্শক হাজার হাজার, গাঙ্গের কিনার, লোকে লোকারন্য,
শুধু শোনা যায় গর্জন দাদী ঘোন ঘোন।
দোহায় দেয় মনোশার,
দোহায় দেয় মনোশার, কিছুতেই আর, থামে না গর্জন।
ছত্রিশ কাহন সাপের মন্ত্র সব হলো খতম।
দাদী অস্থির হলো,
দাদী অস্থির হলো, ঢুলে পরলো, ডাকে জরিনায়,
আমারও হায়াত বুঝি শেষ হইয়া যায়।
জরিনা ছুটে এলো,
জরিনা ছুটে এলো, দাঁড়ায়লো, গলায় কাপড় দিয়া,
উলঙ্গ হইয়া মাজার সুতা ফেলে ছিড়িয়া।
বেহুলার গান ধরিলো,
বেহুলার গান ধরিলো, থেমে গেল দুরন্ত গর্জন,
আধ হাত সাপ একটা ঢাকনিতে তখন।
দাঁড়ায় ফনা ধরে,
দাঁড়ায় ফনা ধরে, ঢাকনি পরে, তিনটি কড়ি ছিলো,
তিনটি কড়ি তুলে জরিনা তিন দিকে দিলো।
সাপে চল্লো ছুটে,
সাপে চল্লো ছুটে, ধন্য বটে, ধন্য বেদের মেয়ে,
দর্শকগন তো প্রশংসা করে হাতে তালি দিয়ে।
দুপুর পড়ে গেল,
দুপুর পড়ে গেল, দাঁড়ায়ে রইলো, জরিনা একভাবে,
নাভি ভরা পানিতে কোন বস্ত্র নাই শরীরে।
দাঁড়ায় হস্ত জুড়ে,
দাঁড়ায় হস্ত জুড়ে, উচ্চরন করে, আল্লাহ নবীর নাম,
হাজার হাজার লোক দাঁড়ায়ে রইলো নিমা শাম।
সবাই চেয়ে থাকে,
সবাই চেয়ে থাকে, হঠাৎ দেখে, দুরে বহু দুরে,
কি যেন যে আসিতেছে পানি দুভাগ করে।
গর্জন শোনা য়ায়,
গর্জন শোনা য়ায়, দেখে হায়, বিরাট অজগর,
আধ হাত সে সাপটি তার মাথার উপর।
অজগর ছুটে আসে,
অজগর ছুটে আসে, ভেলার পাশে, ঘোরে চতুর দিকে,
মাথা উঁচু করে মশারীর মধ্যে গেল ঢুকে।
লাশের পা যেদিকে,
লাশের পা যেদিকে, সেই দিকে, ফনা ধরে দাঁড়ালো,
হা করিয়া ছোবল দিয়া গিলিয়া ফেলিল।
পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল,
পায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুল, যে আঙ্গুলে, দংশনের দাগ ছিলো,
মুখের ভিতর দিয়া আঙ্গুলের বিষ চুষিয়া নিলো।
আঙ্গুল ছেড়ে দিলো,
আঙ্গুল ছেড়ে দিলো, ছুটে এলো, যেথায় দুধের ডালা,
মুখ ডুবাতে আধা মন দুধ হইয়া গেল কালা।
তখন ফনা ধরে,
তখন ফনা ধরে, গর্জন করে, ভীষন সে গর্জন,
সাদা খাসী এনে জরিনা সামনে দেয় তখন।
সাপে হাঁ করিয়া,
সাপে হাঁ করিয়া, ছোবল দিয়া, ধরে খাসীর গলায়,
লেজ দিয়া প্যাচায়ে ধরে উড়ার ছেড়ে যায়।
জরিনা জলদি করে,
জরিনা জলদি করে, হুস করে, দাদীকে তখন,
মশারী উচুঁ করে দেখে জহির অচেতন।
তখনও হুস ফেরে নাই,
তখনও হুস ফেরে নাই, বলে সবাই, কি হলো কি হলো,
মাথার কাছে বসে দাদী তিন থাপর দিলো।
কলার ভেলার পরে,
কলার ভেলার পরে, নামটি ধরে, ডাকে জোরে জোরে,
ওঠো ওঠো সোনার জহির ওঠো জলদি করে।
জহির চেতন হলো,
জহির চেতন হলো, চোখে মেলিলো, আল্লাহ আল্লাহ বলে,
মা-মা বলিয়া ডাকিয়া উঠিলো।
কোথায় মা আমার,
কোথায় মা আমার, দাদী জরিনার, মাথায় বুলাই হাত,
কাঁচা মাটির পাতিলে জরিনা রেঁধে আনে ভাত।
খাওয়া দুগ্ধ দিয়া,
খাওয়া দুগ্ধ দিয়া, বেলা ডুবিয়া, রাত্রি যে হলো,
সারা রাত্রি ধরে জরিনা শুশূষা করিলো।
শেষে রাত্রি বেলায়,
শেষে রাত্রি বেলায়, ঘুম ভেঙ্গে যায়, জহির চেয়ে রই,
কে তুমি সুন্দরী কন্যা বলো আমি কোথায়?
জরিনা সব বলিল,
জরিনা সব বলিল, জহির শুনিলো, তাজ্জবও হইয়া,
কেন বাঁচালে তুমি মোরে যাবে না ভুলিয়া।
সাক্ষী রাতের আঁধার,
সাক্ষী রাতের আঁধার, আর দরিয়ার, পানি কাষ্ঠের নাও,
আকাশের ও লক্ষ তারা তোমার সাক্ষী হও।
জরিনার ঋণ শুধিবো,
জরিনার ঋণ শুধিবো, জীবন দিবো, যে জীবন বাঁচায়,
হাতের আংটি খুলে জরিনার আঙ্গুলে পরাই।
নিশি প্রভাত হলো,
নিশি প্রভাত হলো, টেলিগ্রাম করিলো, জরিনার চাচায়,
শানপুকুরে বিরাট ধনী জহিরের আব্বায়।
টেলিগ্রাম পায় দুপুরে,
টেলিগ্রাম পায় দুপুরে, দেখে পড়ে, বেহুস হইলো,
আত্নীয় স্বজন সকলে যে দৌড়ায় আসিলো।
সবাই ছুটে এলো,
সবাই ছুটে এলো, ভাড়া করিল, বার খানা পাংশী,
কোথায় সে বাদিয়ার কেল্লা কোথায় বেহুলা নদী।
চলে খোঁজ করিয়া,
চলে খোঁজ করিয়া, যমুনা ছাড়িয়া, ধলেশ্বরী গিয়া,
খোঁজ পেলো বেথুয়া নদীর মানিক গড্ডে গিয়া।
রাত্রি ফজর হলো,
রাত্রি ফজর হলো, সাড়া পড়িলো, জহিরের বাপ এলো,
ঘুমায়ে ছিলো সোনার জহির জরিনা ডাকিলো।
জহিরের ঘুম ভাঙ্গিলো,
জহিরের ঘুম ভাঙ্গিলো, চেয়ে দেখিলো, বার খানা পাংশী,
শোকে জড়ো সরো বাপ-মা সাত দিন অনাহারে।
জহির যায় ছুটিয়া,
জহির যায় ছুটিয়া, পড়ে লুটিয়া, মা-বাপের ও পায়,
বলে আব্বা জহির উদ্দিন কে বাঁচায় তোমায়।
বখশিষ দেব তারে,
বখশিষ দেব তারি, টাকা কড়ি, সাথে জমিদারী,
দাদী বলে এ পুরস্কার প্রাপ্য জরিনারই।
জরিনার উছিলায়,
জরিনার উছিলায়, খোদা তাআলা বাঁচায়, তোমার ছেলে,
তাইতো আজি পুত্র ধনের মুখ দেখিতে পেলে।
এসো মা-জরিনা,
এসো মা-জরিনা, চাঁদের কনা, লহও পুরস্কার
জরিনা কয় প্রাণ বাঁচালাম যার।
আমি তাকে চাই,
আমি তাকে চাই, মিটাও, মনের আশা,
জহিরের আব্বা বলে মাগো ছাড়ো এ দুর আশা।
টাকা লও পঁচিশ হাজার,
টাকা লও পঁচিশ হাজার, দিয়া দিবো ঘর, ও বাড়ী,
বেদের মেয়ে তুমি যে মা, তাই আপত্তি করি।
জরিনা কয় না কথা,
জরিনা কয় না কথা, নিচু মাথা, উচুঁ না করিল,
ধীরে ধীরে পাও ফেলায়া ডিঙ্গিতে চড়িল।
কেহই হইনা রাজী,
কেহই হইনা রাজী, শরীফ কাজী, ধনী জমিদার,
কি করে যে পাঁচ দিন কাটে লইনা পুরস্কার।
জহির কয় মা-জননী,
জহির কয় মা-জননী, শোন তুমি, হোকনা বেদের মেয়ে,
জরিনাকে না পেলে আমি করবো আর বিয়ে।
জরিনা সাথে ছিলো,
জরিনা সাথে ছিলো, পায়ে ধরিলো, বলি আব্বা জান,
না পেলে প্রাণের জহিরকে তেজিবো প্রাণ।
বেথুয়া নদীর জলে,
বেথুয়া নদীর জলে, রাত্রিকালে, এই ঘটনা হলো,
একমাত্র পুত্র জহিরের বাপ-মা রাজী হলো।
বাজে সাদীয়ানা,
বাজে সাদীয়ানা, তিনশো খানা, বেদের নৌকা সাজে,
বারখানা পাংশী নৌকা চলে আগে পিছে।
মাঝে জহির জরিনা,
মাঝে জহির জরিনা, পাংশী খানা, সাজায় কি বাহার,
পাংশীর সাথে বেধে দিলো ডিঙ্গি দাদী-মার।
দাদীমা নামাজ পড়ে,
দাদীমা নামাজ পড়ে, মোনাজাত করে, হায়গো দয়াময়,
দাম্পত্য জীবন জরিনার করো মধুময়।
কবিতা ইতি হলো।।
সংগ্রহিত
পার্শনায়ক থেকে নায়ক, অতঃপর খলনায়ক
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১০
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড।
অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লেগ স্পিনার হিসেবে অভিষেক হয় এক লিকলিকে তরুণের। অভিষেকে ব্যাটও করা হয়নি তার। তবে নিজের প্রধান কাজ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ২টি। বাংলাদেশ হলে, সেই ম্যাচেই হয়তো ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতো তার। তবে দলটি অস্ট্রেলিয়া বলেই ভরসা রেখেছিল তার ঘুর্নিতে।
১৩ জুলাই, ২০১০
লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান, টেস্ট ম্যাচ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪১৫ তম ব্যাগিগ্রীণ ক্যাপটি মাথায় পরে নেমেছিলেন সেই লেগস্পিনার, স্টিভ স্মিথ। সাদা পোষাকের ক্রিকেটে অবশ্য ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও নয় নম্বরে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ১৩ আর উইকেট নিয়েছিলেন ৩টি। যেকোনো বোলারই এমন সাদামাটা অভিষেকের পর বোলিংয়ে বাড়তি নজর দেবেন। ভোরের সূর্য যেমন পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। তেমনি এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারও অন্য বোলারদের মত হয়নি। কে জানতো একজন ‘লেগ স্পিনার’ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসবেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ বছরে এসে?
২০১৪-১৫ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি,
অস্ট্রেলিয়া
ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজকে হারিয়ে শোকে কাতর ক্রিকেট বিশ্ব। ঘরের ছেলেকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দিয়েছিল যে কেউ সেই সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তবে কেউই নাম প্রত্যাহার করেনি। তবে, ইনজুরি কেড়ে নেয় দলের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং স্তম্ভ অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। ক্লার্কের অবর্তমানে ২৪ বছরের এক তরুণের কাঁধে নেতৃত্ব ভার তুলে দেয় অস্ট্রেলিয়া। তিনি আর কেউ নন স্টিভ স্মিথ।
লেগস্পিনকে পুঁজি করে ক্রিকেট শুরু করা স্মিথ ততদিনে ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তবে খোলস থেকে বের হতে পারছিলেন না। এই অধিনায়কের দায়িত্বই স্মিথকে সেই খোলস থেকে বের করে আনলো। যেখানে আগের ২২ টেস্টে মাত্র ৪ টি সেঞ্চুরি করেছেন, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পাওয়ার পর টানা চার টেস্টে চার সেঞ্চুরি। সেই থেকেই নায়ক হয়ে পথ চলা স্টিভ স্মিথের।
২০১৪ সাল জুড়ে ৫ সেঞ্চুরি আর ৪ ফিফটিতে ১ হাজার ১৪৬ রান করেছিলেন। ২০১৫ সালে ৬ সেঞ্চুরি আর ৫ ফিফটিতে ১৪৭৪ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ১৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে কিংস্টনের ঝাল লর্ডসে মিটিয়ে হাঁকালেন ২১৫ রান।
গত চার বছরে সবচেয়ে কম সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৬-তে। মোট ১০৭৯ রান করার বছরে সেঞ্চুরি ‘মাত্র’ ৪টি। আর ২০১৭ সালে আবারও ৬ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজনে পরিণত করেছন স্মিথ। ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিতে ১৩০৫ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ২৩৯ রান আর ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১১১ রানের কথা আলাদা বলতে হবে।
২৪ মার্চ, ২০১৮
ক্যাপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
ক্যাপ টাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে, বল টেম্পারিং করতে গিয়ে ধরা পড়েন অজি ওপেনার ক্যামেরণ ব্যানক্রফট। দিনের খেলা শেষে অপরাধের কথা শিকার করে নেন অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। মূহুর্তেই অস্ট্রেলিয়া সহ সকল দেশের সংবাদ মাধ্যমের সামনে খল নায়ক বনে যান স্মিথ। এই ঘটনায় তিনি ছাড়াও দলের লিডারশীপ গ্রুপ জড়িত ছিল বলে জানান।
২৮ মার্চ, ২০১৮
অস্ট্রেলিয়া
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধাণ নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড স্টিভেন স্মিথকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নারকেও ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। আর বল টেম্পারিংয়ের মূল হোতা ব্যানক্রফট নিষিদ্ধ হন ৯ মাসের জন্য। মূলত অধিনায়ক হিসেবে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্যই শাস্তি হয়েছে স্মিথের।
মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড।
অস্ট্রেলিয়া বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে লেগ স্পিনার হিসেবে অভিষেক হয় এক লিকলিকে তরুণের। অভিষেকে ব্যাটও করা হয়নি তার। তবে নিজের প্রধান কাজ বোলিংয়ে উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ২টি। বাংলাদেশ হলে, সেই ম্যাচেই হয়তো ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে যেতো তার। তবে দলটি অস্ট্রেলিয়া বলেই ভরসা রেখেছিল তার ঘুর্নিতে।
১৩ জুলাই, ২০১০
লর্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
অস্ট্রেলিয়া বনাম পাকিস্তান, টেস্ট ম্যাচ।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৪১৫ তম ব্যাগিগ্রীণ ক্যাপটি মাথায় পরে নেমেছিলেন সেই লেগস্পিনার, স্টিভ স্মিথ। সাদা পোষাকের ক্রিকেটে অবশ্য ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তাও নয় নম্বরে। দুই ইনিংস মিলিয়ে মোট রান ১৩ আর উইকেট নিয়েছিলেন ৩টি। যেকোনো বোলারই এমন সাদামাটা অভিষেকের পর বোলিংয়ে বাড়তি নজর দেবেন। ভোরের সূর্য যেমন পুরো দিনের পূর্বাভাস দেয় না। তেমনি এই লেগ স্পিনারের ক্যারিয়ারও অন্য বোলারদের মত হয়নি। কে জানতো একজন ‘লেগ স্পিনার’ ব্যাটসম্যানদের টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে রীতিমতো খুঁটি গেড়ে বসবেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ বছরে এসে?
২০১৪-১৫ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি,
অস্ট্রেলিয়া
ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজকে হারিয়ে শোকে কাতর ক্রিকেট বিশ্ব। ঘরের ছেলেকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দিয়েছিল যে কেউ সেই সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তবে কেউই নাম প্রত্যাহার করেনি। তবে, ইনজুরি কেড়ে নেয় দলের সবচেয়ে বড় ব্যাটিং স্তম্ভ অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ককে। ক্লার্কের অবর্তমানে ২৪ বছরের এক তরুণের কাঁধে নেতৃত্ব ভার তুলে দেয় অস্ট্রেলিয়া। তিনি আর কেউ নন স্টিভ স্মিথ।
লেগস্পিনকে পুঁজি করে ক্রিকেট শুরু করা স্মিথ ততদিনে ব্যাটসম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তবে খোলস থেকে বের হতে পারছিলেন না। এই অধিনায়কের দায়িত্বই স্মিথকে সেই খোলস থেকে বের করে আনলো। যেখানে আগের ২২ টেস্টে মাত্র ৪ টি সেঞ্চুরি করেছেন, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পাওয়ার পর টানা চার টেস্টে চার সেঞ্চুরি। সেই থেকেই নায়ক হয়ে পথ চলা স্টিভ স্মিথের।
২০১৪ সাল জুড়ে ৫ সেঞ্চুরি আর ৪ ফিফটিতে ১ হাজার ১৪৬ রান করেছিলেন। ২০১৫ সালে ৬ সেঞ্চুরি আর ৫ ফিফটিতে ১৪৭৪ রান। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কিংস্টনে ১৯৯ রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। এরপর ইংল্যান্ডে অ্যাশেজ খেলতে গিয়ে কিংস্টনের ঝাল লর্ডসে মিটিয়ে হাঁকালেন ২১৫ রান।
গত চার বছরে সবচেয়ে কম সেঞ্চুরি করেছেন ২০১৬-তে। মোট ১০৭৯ রান করার বছরে সেঞ্চুরি ‘মাত্র’ ৪টি। আর ২০১৭ সালে আবারও ৬ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজেকে আধুনিক ক্রিকেটের সেরাদের একজনে পরিণত করেছন স্মিথ। ৬ সেঞ্চুরি আর ৩ ফিফটিতে ১৩০৫ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার-সেরা ২৩৯ রান আর ভারতের বিপক্ষে ধর্মশালায় ১১১ রানের কথা আলাদা বলতে হবে।
২৪ মার্চ, ২০১৮
ক্যাপ টাউন, দক্ষিণ আফ্রিকা
ক্যাপ টাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে, বল টেম্পারিং করতে গিয়ে ধরা পড়েন অজি ওপেনার ক্যামেরণ ব্যানক্রফট। দিনের খেলা শেষে অপরাধের কথা শিকার করে নেন অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। মূহুর্তেই অস্ট্রেলিয়া সহ সকল দেশের সংবাদ মাধ্যমের সামনে খল নায়ক বনে যান স্মিথ। এই ঘটনায় তিনি ছাড়াও দলের লিডারশীপ গ্রুপ জড়িত ছিল বলে জানান।
২৮ মার্চ, ২০১৮
অস্ট্রেলিয়া
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধাণ নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড স্টিভেন স্মিথকে ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। তার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নারকেও ১ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বোর্ড। আর বল টেম্পারিংয়ের মূল হোতা ব্যানক্রফট নিষিদ্ধ হন ৯ মাসের জন্য। মূলত অধিনায়ক হিসেবে বল টেম্পারিংয়ের বিষয়টিকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্যই শাস্তি হয়েছে স্মিথের।
শনিবার, ১৭ মার্চ, ২০১৮
একটি মাহমুদুল্লাহ 'মাস্টারক্লাস'
মাহমুদুল্লাহ সবসময় অন্যদের ছায়ায় থাকতেই পছন্দ করতেন। তিনি মনে করেন বেশি 'ফোকাস' মানে বেশি চাপ। চাপহীন হয়েই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন সবসময়। অনেক সময় হয় না। অনেকসময় ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়ে ফেলেন।
ফিল্ডিংয়ের সময় তাকে মাঠে খুঁজে পাওয়াই বেশ দুষ্কর। তবে, সীমানার দিকে ছোটা বল ফেরাতে দৌঁড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েন না। কখনও মিড অনে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিতে দেখবেন তাকে। আবার কখনও স্লিপে ক্যাচ তালুবন্দি করে একটা মিষ্টি হাসি দিবেন। সতীর্থ্যরা এসে হয়তো পিঠ চাপড়ে দিবে। পরক্ষণই ক্যামেরা ম্যান তার কথা ভুলে যাবে বেমালুম।
ব্যাট হাতে টেক্সটবুক শটস খেলেন না খুব বেশি। নেই সাকিবের মতো তারকা খ্যাতি। কিংবা দেশ সেরা অধিনায়ক মাশরাফির মতো বলিষ্ঠতাও নেই তার মাঝে। তবে, তার প্রতি সবার অগাধ আস্থা আছে। মাহমুদুল্লাহ উইকেটে থাকলে সমর্থকরা বল পান, ম্যাচ জেতাতে না পারুক সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, এই বিশ্বাস তাদের।
আদর করে ভক্তরা তাকে ডাকেন 'সাইলেন্ট কিলার'। এই সাইলেন্সই তাকে হয়তো তারকাখ্যাতি এনে দেয় না। তবে এই শান্ত স্বভাব দেশকে এনে দেয় অমূল্য জয়। এর প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। যার সবশেষ উদাহরণ প্রেমাদাসায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়। শেষ চার বলে যেখানে দরকার ছিল ১২ রান। সেখানে এক বল বাকি থাকতেই ৬ মেরে জয় ছিনিয়ে আনেন সবসময় পর্দার আড়ালে থাকতে চাওয়া এই মানুষটি।
‘ত্রাণকর্তা’ হয়ে দাঁড়ানোর অভ্যাসটা বেশ পুরোনো। ২০১০ আইডিয়া কাপেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। ঘরের মাঠে সেই সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও, ৬০, ২৪ ও ৬৪ রানের তিনটি অপরাজিত ইনিংস খেলে সব আলো নিজের দিকে নিয়েছিলেন তিনি। সেই শুরু। এরপর, ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচ মনে আছে? মাহমুদউল্লাহ যখন উইকেটে এলেন, ৮ রানের ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ।
তার ব্যাট হাতে ১০৩ রানের ইনিংসে জয়ের ভিত গড়েছিল বাংলাদেশ দল। পরের ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলীয় ২৭ রানেই প্রথম সারির ২ ব্যাটসম্যানকে হারায় টাইগাররা। এমন সময়ে উইকেটে এসে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস খেলে বিপদ কাটিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে দলকে পাইয়ে দিয়েছিলেন অত্যাবশ্যকীয় জয়। কিউইরা ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তুলেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল।
তারপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে এখান থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন দুজনেই। ২০১৬ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়েও বড় অবদান ছিল মাহমুদুল্লাহর। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের দেয়া ১২৯ রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে প্রায় একাই দলকে জিতিয়ে বীরবেশে মাঠ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ।
এগুলো শুধু মাহমুদুল্লাহ যে ম্যাচগুলোর নায়ক হয়েছিলেন সেই ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান। তার হাত ধরে কতোবার হারের বড় ব্যবধান কমিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। প্রিয় মাহমুদুল্লাহ আপনার পার্শ নায়ক হওয়ার সময় বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে। এবার আপনার নায়ক হওয়ার পালা। আমরা হিরো মাহমুদুল্লাহকে চাই। যিনি প্রতিপক্ষকে হতাশায় ডুবিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিবেন।
ফিল্ডিংয়ের সময় তাকে মাঠে খুঁজে পাওয়াই বেশ দুষ্কর। তবে, সীমানার দিকে ছোটা বল ফেরাতে দৌঁড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েন না। কখনও মিড অনে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিতে দেখবেন তাকে। আবার কখনও স্লিপে ক্যাচ তালুবন্দি করে একটা মিষ্টি হাসি দিবেন। সতীর্থ্যরা এসে হয়তো পিঠ চাপড়ে দিবে। পরক্ষণই ক্যামেরা ম্যান তার কথা ভুলে যাবে বেমালুম।
ব্যাট হাতে টেক্সটবুক শটস খেলেন না খুব বেশি। নেই সাকিবের মতো তারকা খ্যাতি। কিংবা দেশ সেরা অধিনায়ক মাশরাফির মতো বলিষ্ঠতাও নেই তার মাঝে। তবে, তার প্রতি সবার অগাধ আস্থা আছে। মাহমুদুল্লাহ উইকেটে থাকলে সমর্থকরা বল পান, ম্যাচ জেতাতে না পারুক সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, এই বিশ্বাস তাদের।
আদর করে ভক্তরা তাকে ডাকেন 'সাইলেন্ট কিলার'। এই সাইলেন্সই তাকে হয়তো তারকাখ্যাতি এনে দেয় না। তবে এই শান্ত স্বভাব দেশকে এনে দেয় অমূল্য জয়। এর প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। যার সবশেষ উদাহরণ প্রেমাদাসায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়। শেষ চার বলে যেখানে দরকার ছিল ১২ রান। সেখানে এক বল বাকি থাকতেই ৬ মেরে জয় ছিনিয়ে আনেন সবসময় পর্দার আড়ালে থাকতে চাওয়া এই মানুষটি।
‘ত্রাণকর্তা’ হয়ে দাঁড়ানোর অভ্যাসটা বেশ পুরোনো। ২০১০ আইডিয়া কাপেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। ঘরের মাঠে সেই সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও, ৬০, ২৪ ও ৬৪ রানের তিনটি অপরাজিত ইনিংস খেলে সব আলো নিজের দিকে নিয়েছিলেন তিনি। সেই শুরু। এরপর, ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচ মনে আছে? মাহমুদউল্লাহ যখন উইকেটে এলেন, ৮ রানের ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ।
তার ব্যাট হাতে ১০৩ রানের ইনিংসে জয়ের ভিত গড়েছিল বাংলাদেশ দল। পরের ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলীয় ২৭ রানেই প্রথম সারির ২ ব্যাটসম্যানকে হারায় টাইগাররা। এমন সময়ে উইকেটে এসে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস খেলে বিপদ কাটিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে দলকে পাইয়ে দিয়েছিলেন অত্যাবশ্যকীয় জয়। কিউইরা ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তুলেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল।
তারপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে এখান থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন দুজনেই। ২০১৬ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়েও বড় অবদান ছিল মাহমুদুল্লাহর। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের দেয়া ১২৯ রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে প্রায় একাই দলকে জিতিয়ে বীরবেশে মাঠ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ।
এগুলো শুধু মাহমুদুল্লাহ যে ম্যাচগুলোর নায়ক হয়েছিলেন সেই ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান। তার হাত ধরে কতোবার হারের বড় ব্যবধান কমিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। প্রিয় মাহমুদুল্লাহ আপনার পার্শ নায়ক হওয়ার সময় বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে। এবার আপনার নায়ক হওয়ার পালা। আমরা হিরো মাহমুদুল্লাহকে চাই। যিনি প্রতিপক্ষকে হতাশায় ডুবিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিবেন।
বুধবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৮
ভেবে দেখেছো?
ভেবে দেখেছো, পৃথিবীতে কত কবি আছে?
বানিয়ে বানিয়ে কত কথা লিখে,
একটি ঠুনকু স্বীকৃতি জন্য।
কত দুঃখ কষ্ট ধার করে,
শুধু তোমাদের আনন্দ দেয়ার জন্য।
ভেবে দেখেছো পৃথিবীতে কত প্রেমিক আছে?
জীবনভর যুদ্ধ করে কাটিয়ে দেয়,
শুধু তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।
কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়াই কেবলই তোমার কথা ভাবে।
ভেবে দেখেছো পৃথিবীতে কত পাগল আছে?
যারা শুধু বেঁচে থাকে তোমাদের জন্য,
আর অবশেষে মরে গিয়ে জোৎস্না বিলায়।
বানিয়ে বানিয়ে কত কথা লিখে,
একটি ঠুনকু স্বীকৃতি জন্য।
কত দুঃখ কষ্ট ধার করে,
শুধু তোমাদের আনন্দ দেয়ার জন্য।ভেবে দেখেছো পৃথিবীতে কত প্রেমিক আছে?
জীবনভর যুদ্ধ করে কাটিয়ে দেয়,
শুধু তোমার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য।
কোনো কিছুর বিনিময় ছাড়াই কেবলই তোমার কথা ভাবে।
ভেবে দেখেছো পৃথিবীতে কত পাগল আছে?
যারা শুধু বেঁচে থাকে তোমাদের জন্য,
আর অবশেষে মরে গিয়ে জোৎস্না বিলায়।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
-
সবাই যতই বলুক রুশা সামিকে সময় দিচ্ছে বলেই, প্রেমটা এগুচ্ছে। আসলে সামি এই ভেবে আনন্দ পায় যে, এই মেয়েটাই ছিলো ভার্সিটির সবথেকে হ্যান্ডসাম ছেলে...
-
বলি ভাইরে ভাই, বলে যায়, আজব এক ঘটনা, সাপ খেলে সাপুরের মেয়ে নামে জরিনা। জরিনার মা নাই, জরিনার মা নাই, বাপ নাই, দাদির সাথে ঘোরে, বেহুলা ল...
-
এখন আর কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করে না। সুইসাইড করে ডিপ্রেশনে। ডিপ্রেশনের শুরু হয় “আমার বন্ধুর কেন বাইক আছে আমার কেন নেই?” “তার বাবা-...










