রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

খুল যা গুলগুল


জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার সময় একটি ভাঙ্গা স্যুটকেস আর এই দলটি রেখে গিয়েছিলেন। দলটিও বানাতে কোন আর্মি অফিসার মারতে হয়নি, কাউকে ব্রাশফায়ার দিতে হয়নি। এটিও ভাঙ্গা স্যুটকেস থেকেই বের করেছিলেন। এই অদ্ভুত স্যুটকেসের সামনে গিয়ে 'খুল যা গুলগুল' বললেই খুলে যায়। স্যুটকেসের কাছে টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত যা চাওয়া হয় তাই দেয়। রুপ-যৌবন দেয়, সার্জারী করতে সিঙ্গাপুর যাওয়া লাগেনা।

কোটি কোটি টাকার কোকো নামের লঞ্চ ভাঙ্গা স্যুটকেসের মধ্যে দিয়া বাইর হয়। অতটুক স্যুটকেসের মধ্যে দিয়া বের হওয়ার সময় লঞ্চের ইঞ্জিন জন্মগত ত্রুটির সম্মুখীন হয়। সে সমস্যার কারনেই শত শত যাত্রী নিয়া লঞ্চ নদীর বুকে চেগাইয়া পরে। তারপর মৃত যাত্রীদের স্বজনদের সান্তনা স্বরুপ ছাগল দেয়া হয়। ছাগলও বের হয় ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়া। ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়া আস্ত একটা গিয়াস উদ্দিন মামুন বের হয়। মামুনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা, চ্যনেল ওয়ান বের হয়।

তারেকের বউ আবদার করে একটা সুন্দর শাড়ির জন্য। সাথে সাথে ‘খুল যা গুলগুল’ বলে ব্যবস্থা করা হয় ড্যন্ডি ডায়িং নামক কম্পানির। এভাবেই ভাঙ্গা স্যুটকেস দিয়ে পর্যায়ক্রমে বের হয় ওয়ান কম্পোজিট, প্রিকাস্ট কংক্রিট ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড, ওয়ান স্পিনিং, ওয়ান ডেনিম এবং ওয়ান কনজ্যুমার প্রডাক্ট লিমিটেড। আস্তে আস্তে অনেক কষ্টে সৃষ্টে কোকো আর তারেক মিলে স্যুটকেস থেকে বের করে হাওয়া ভবন। স্যুটকেস দিয়ে নিজেদের জন্য এত এত জিনিস বের করার পাশাপাশি তারেক আর কোকো মিলে দেশের জন্যও অনেক কিছু বের করে। দেশের জন্য তারা এত্তগুলা খাম্বা বের করে। খাম্বাগুলা দেশের সবখানে ঠিকঠাকমত গাড়তে থাকে।

এত এত প্রাপ্তির মাঝে কোকোর মনে পরে মায়ের কথা। তারেককে বলে, “ভাই, মার জন্য স্যুটকেস থেকে কিছু বের কর। মা কি খেতে চায় দেখ।”
তারেক জানতে পারে তার মার পছন্দের খাবার চানাচুর। সাথে সাথে স্যুটকেস থেকে বের হয় ড্যন্ডি চানাচুড় নামের একটা কম্পানি।
ম্যডাম কুড়মুড় করে চানাচুড় খায়, তারেক-কোকো পাশে তাকিয়ে রয়। কি মধুর দৃশ্য! তারেক-কোকো ভাবে কত ভাল মা তাদের! নিজের জন্য কিছু ভাবেনা! স্যুটকেস দিয়া আমরা পাচ বছরেই কত কি করে ফেললাম, অথচ সে এতদিনেও কিছু করলনা! বাপটাও ছিল কি সহজ সরল!

মা পাশে বসে মনে মনে হাসেন! ছেলে দুইটা কি গাধা! শুধু টাকাই চিনছে। সারাদিন টাকার পিছনে ছোটে। আমি স্যুটকেস দিয়া আসল জিনিস বাইর কইরা রাখছি। তারেকের বাপেরে বইলা আস্ত একটা বিএনপিই তো বের করে রাখছিলাম। রাজাকারের পুনর্বাসনের অনুমতিপত্র বাইর কইরা রাখছিলাম। এসবই তো আসল জিনিস। শেষ পর্যন্ত পুরা বাংলাদেশরে স্যুটকেসের একপাশ দিয়া ভইরা আরেকপাশ দিয়া বাইর কইরা ইতিহাস পাল্টানোর চেষ্টা করছিলাম! স্যুটকেসের কি গুন! এই স্যুটকেস তারেকের বাপই দিছে, তাই তার প্রতি কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে। সম্ভব হলে তারেকের বাপের শেষ চেষ্টাটা সফল করার উদ্যোগ নেব। একবার শুধু ক্ষমতায় যেয়ে নেই এনশাল্লাহ...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন