রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৫

মানবতার ফাঁসি

ঘটনাটি আমেরিকার শহর টেনিসে, সেখানকার এক সার্কাস দলে কাজ করতো ম্যারি নামের এক হাতি। ম্যারি সার্কাসে দুর্দান্ত সব কসরত করে মানুষকে অভিভূত করে রাখতো। ম্যারিকেই দেখতেই সার্কাসে ভির হতো অনেক বেশি। আর এই সার্কাস দলের নাম ছিলো চার্লি স্পার্কস। এই দলের মালিক হাতিদের পুরোনো মাহুতকে অপসারণ করে নতুন কর্মচারী রেড এল্ড্রিক্সকে নিয়োগ দেন হাতিদের দেখা শুনা করতে এবং হাতিদের নিয়ে সার্কাস দেখাতে।

রেড হাতিদের বিষয়ে অতটা অভিজ্ঞ  ছিলোনা। এছারা নতুন কর্মচারী হওয়ায় সে হাতিদের আচরণ ইচ্ছে এসবও ঠিক ঠাক বুঝতোনা। একদিন খেলা চলার সময় রেড ম্যারির উপরে বসে সার্কাস দেখাচ্ছে। সব কিছু ঠিক ঠাক চলছে ম্যারি দুই পা তুলে পেছন পায়ে ভর দিয়ে দর্শকদের মনোরঞ্জন করে যাচ্ছে। কিন্তু মাহুত রেড অযথাই ম্যারির কানে লোহার শিক দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এক সময় ম্যারির মেজাজ চড়ে যায় সে রেডকে টেনে নিছে নামিয়ে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলে।

ঘটনায় সমগ্র সার্কাস প্রাঙ্গণ এবং শহর জুড়ে ম্যারি বিরোধী আন্দোলন গড়ে উঠে। সবার এক দাবি হত্যাকারী হাতিকে সাঁজা দিতে হবে। তা না হলে আন্দোলন থামবেনা। একটি হাতি থেকে একজন মানুষের মূল্য অনেক বেশি। কেউই চার্লি স্পার্কস এর কোন শো দেখতে যাচ্ছিলোনা। সার্কাস দলটিই এক সময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সার্কাস মালিক কোন মতেই জনগণকে বুঝাতে পারছিলেন না রেড হত্যায় ম্যারির দোষ যতটা তার চেয়ে বেশি রেড ম্যারিকে রাগিয়ে দিতে কাজ করেছিল তাই ম্যারি রেগে যায়। ম্যারি একটি অবলা প্রাণী তার দোষ নেই। কিন্তু মানুষ তা বুঝলোনা।

শেষে বাধ্য হয়েই সার্কাস মালিক সিদ্ধান্ত নিলেন ম্যারিকে হত্যা করা হবে, কিন্তু কিভাবে? বিশাল দেহী এশিয়ান এই হাতি এতোই বড় ছিলো তার মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার পন্থা নিয়েই অনেক ভাবতে হয় সবাইকে। শেষে সিদ্ধান্ত হয় ম্যারিকে ক্রেনে ঝুলিয়ে ফাঁসি দেয়া হবে। তাই বিশাল ক্রেন নিয়ে আসা হল। শহরের বিক্ষুব্দ সব নাগরিককে দাওয়াত দেয়া হলো। সবাই মেতে উঠলো ভয়ংকর এক হত্যা প্রত্যক্ষ করতে। সবার চোখে তখন প্রতিশোধের ক্রোধ টগবগ করছে। ম্যারিকে অবশেষে বিশাল এক চেইন দিয়ে ক্রেনের হুকে বাঁধা হলো।

ক্রেন যেই চালু করা হলো মুহূর্তে ম্যারিকে এক টানে ২০ ফুট উপরে তুলে নিলো। ম্যারি অনেক স্বাস্থ্যবান হওয়াতে ক্রেনের চেইন ছিঁড়ে ২০ ফুট উপর থেকে পড়ে যায় সে। এসময় ম্যারির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। পা ভেঙ্গে যায়, গলা কেটে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হতে থাকে। কিন্তু মানুষগুলো! কারো মন গলেনা, আবার ম্যারিকে ক্রেনের চেইনের সাথে বাঁধা হলো। থেমে গেলে চলবেনা, শাস্তি নিশ্চিত করতেই হবে।

পরের চেষ্টায় ম্যারি ফাঁসির চেইনে ছটফট করতে করেই মারা যায়। আসলে ম্যারি মারা যায়নি, ওইদিন চেইনে ঝুলে  ফাঁসি দেয়া হয়েছে মানুষের মানবতা। আমরা আশরাফুল মাকলুকাত, সৃষ্টির সেরা জীব, আর আমরা মাঝে মাঝে এমন সব কাজ করে থাকি যা কিনা আমাদের সৃষ্টির নিকৃষ্ট প্রাণী থেকেও নিচে নামিয়ে আনে।

শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০১৫

শহীদ রুমি : ইতিহাসের অন্যতম একজন

কানে হেডফোন গুজে কানের বারোটা বাজিয়ে হিন্দি গান শুনতে থাকা কুল ডুড , তুমি কি জানো , যে ১৯৫২ সালের এই দিনে তোমার চাইতে বহুগুনে বেশি আধুনিক , অনেক বেশি কুল একজনের জন্ম হয়েছিলো ? জন্মের পর থেকেই আধুনিকতার মাঝে বড় হওয়া সেই কুল ছেলেটি হয়তো তৎকালীন সময়ের সবচাইতে উন্নতমানের গান শোনার যন্ত্রে প্রতিদিন গান শুনতো। হয়তো প্রতিরাতে মৃদুলয়ে গান চালিয়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকতো আকাশপানে , হয়তো ভাবতো মনের চিলেকোঠার এক কোণে পড়ে থাকা কোন তনয়ার নিষ্পাপ মুখের কথা।

সেই আধুনিক ছেলেটি নিজের প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য ইলিনয় ইন্সটিটিউটে চান্স পায় । এই ইন্সটিটিউটের নাম জানো হে কুল ডুড ? সেই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের একটা ছেলে নিজের যোগ্যতায় সেখানে চান্স পাওয়ার মুল্য অনুভব করতে পারো ? এবং কতটা সাহস , কতটা দেশপ্রেম থাকলে তোমার বয়সের একজন ছেলে এই সুযোগ পায়ে ঠেলে দেয় , তা কি কখনো উপলব্ধি করতে পারো হে কুল ডুড ? নিজের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ ফেলে দেশের টানে যখন একজন আধুনিক ছেলে যুদ্ধে নাম লেখায় , তখন তার মধ্যেকার অনুভূতি সম্পর্কে কি একটু হলেও আন্দাজ করতে পারো ?

তাকে একবার বলা হয়েছিলো দলসহ গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আশেপাশে কিছু গ্রেনেড বিস্ফোরন করতে । যাতে ভেতরে থাকা সাংবাদিকেরা কিছুটা হলেও টের পায় , যে ইয়াহিয়া মিথ্যা বলছেন। দেশের অবস্থা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তারা কি করলো জানো ? তার সোজা হোটেলের ভেতরে গিয়ে সাংবাদিকদের নাকের ডগায় গ্রেনেড ফাটিয়ে আসলো। তাদের এই কর্মকান্ডে সেক্টর কমান্ডার সম্পূর্ন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের এই কান্ডের জন্যই তাদেরকে ক্র্যাক প্লাটুন ডাকা শুরু হয় , কারন সে এবং তার দলের প্রত্যেকেই ছিলো তারছেড়া ক্র্যাক।

মানুষের বোর হয়ে গেলে কি করে ? কেউ সিনেমা দেখে , কেউ ঘোরাফেরা করে। কেউ বান্ধবীর সাথে প্রেমালাপ করে। আমাদের এই আধুনিক ছেলেটা ও তার দল কি করতো জানো ? তারা পাকি মিলিটারি মারতো। হাত-পা ম্যাজ ম্যাজ করলেই তার দলবেধে বেরিয়ে পড়তো , পথে কোন পাকি পেলেই সেটাকে নির্মমতার সাথে উড়িয়ে দিতো। তাদের এই কার্যকলাপ দেখে তাদের ট্রেনার ও কমান্ডাররা হাসবেন নাকি কাদবেন বুঝতে পারতেন না।

তিনি যে তার দলের সাথে মিলে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উড়িয়ে দিয়েছিলেন তা জানো হে কুল ডুড ? এবং ধানমন্ডি অপারেশনের পরেই যে তার বাড়ি থেকে তাকে পাকি হ্যানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে যায় , সেটা জানো ? এবং এই ব্যাপারে পাকিদেরকে একনিষ্ঠভাবে সাহায্য করেছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি বিশেষজ্ঞ , ইসলামের সেবক, আলবদর প্রধান মাওলানা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ , সেটা জানো কি ?

সেদিনের পরে যে এই আধুনিক ছেলেটিকে যে আর কখনোই খুজে পাওয়া যায়নি , সেটা জানো ?

এই আধুনিক , বুদ্ধিমান , দেশপ্রেমিক , ও ক্র্যাক ছেলেটি ছিলো সহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও শরীফ ইমামের বড় ছেলে , শফি ইমাম রুমী ।

আজকে ২৯শে মার্চ , ২০১৫। এই শহীদের ৬৩ তম জন্মদিন। কিন্তু তিনি কিন্তু ৬৩ বছরের বৃদ্ধ না !!! তিনি সর্বদা ২১ বছরের এক তরুন হয়েই থাকবেন।

বাদ দাও কুল ডুড। এতো বছরের পুরনো কথা বাদ দাও। বরং আসো , একটা গল্প বলি...

সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০১৫

কমলা সুন্দরীর পুথি

শোন শোন বন্ধু গণরে শোন দিয়া মন
কমলা সুন্দরীর কথা করি যে বর্ণন ।

হিরন নগরের মেয়ে কমলা সুন্দরি
গুনের কথা কি কহিব রূপ ছিল তার ভারি।

আরে হিরন নগরে ছিল এক রাজকুমার
কমলা সুন্দরীর সঙ্গে বিয়া হইল তার।
লাল নীল সবুজ পরীর দীঘি দিয়া পাড়ি
পালকি চড়ে যাইতেছিল নিজের বাপের বাড়ি।

ওই দিঘিরও জল দেইখা কন্যার বড় তৃষ্ণা পায়
পালকি টা থামাইয়া কন্যা জলে নাইমা যায়।
দিঘির জলে কন্যা যখন রাখল রাঙা পা
জড়াইল কি অঙ্গুরিতে তে বুঝতে পারল না ।

আরে চুলের মতন ওই না বাঁধন যখন খুলতে যায়
ছিঁড়তে গেলে যায় না ছেঁড়া হইল একি দায়।
কাটতে আইল কামার কুমার কুড়াল খোন্তা লইয়া
একে একে ফিরে গেল সবাই বিফল হইয়া।

এমন কইরা ৩ মাস ৩ দিন গেল যে কাটিয়া
কমলার ও ঘুম ভাঙিল কান্দিয়া কান্দিয়া।
স্বপনে দেখিল সে আরেক রাজকুমার
জলের তলে বাস করে সে জলে রাজ্য তার।

কমালারি আশেক হইয়া চুলে দিল টান
কমলাও পাগল হইল বিধির ও বিধান।

মা,বাবা,স্বামী,কন্যা কান্দিয়া হাসিল
কমলা ডুবিল জলে ফিরে না আসিল।

জহির রায়হানের "কমলা সুন্দরীর পুঁথি" টা মুখস্থ ছিল! এখন প্রায় ভুলতে বসেছি।

শনিবার, ২১ মার্চ, ২০১৫

মাশরাফি'র আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা নয়

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এ ইন্ডিয়ার সাথে বাংলাদেশের খেলার পর থেকেই ফেসবুকে একটি ছবি(ফ্রেম নম্বর -৩) ছড়িয়ে পড়েছে, ছবিটি দেখে মনে হয় যেন কাঁদছেন মাশরাফি। যেটি দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন অনেকেই, হৃদয় নিংড়ানো আবেগ দিয়ে ছবিটি পোস্ট করেছেন অগণিত ভক্ত, কেঁদেছেন তাদের অনেকেই!

জেনে অবাক হবেন, সেটি আসলে মাশরাফির কান্নার ছবি নয়! ইন্ডিয়ার ইনিংসের ৪৩ তম ওভারের তৃতীয় বলে সুরেশ রায়নাকে আউট করার পর মুশফিক, তাসকিন আর সৌম্যের সাথে জটলায় ঐ ছবিটা আসলে ক্লান্ত মাশরাফির! ছবিতে ঐ মুহূর্তের আগের ও পরের দৃশ্যাবলী পর পর দেখানো হলো।

কিন্তু ঐ বিশেষ মুহূর্তটা দেখে যে কারো মনে হতেই পারে যে কাঁদছেন মাশরাফি। ঠিক সেই সুযোগটা নিয়েই কে বা কারা ছবিটা ছড়িয়ে দিয়েছেন মাশরাফি কাঁদছেন বলে! আফসোস!

তবে কি, আমাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ক্রিকেটারটিকে নিয়েও আমরা প্রতারণার আশ্রয় নিলাম? তার প্রতি থাকা আবেগকে পুঁজি করে কিছু লাইক কামিয়ে নিলাম? এ কেমন হীন মন-মানসিকতা? এ কেমন নোংরামি?

হতে পারে ম্যাচটি শেষে মাশরাফিরা সত্যি সত্যিই কেঁদেছেন, অসম্ভব কিছু নয়। কিন্তু সেটি তো আমরা কেউ টেলিভিশন এর পর্দায় দেখিনি। অথচ ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে তার কান্না নিয়ে তার বাবা গোলাম মুর্তজাকে জড়িয়ে একটা ঘটনার কথাও অন্তর্জালের জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। যেটিরও বিশ্বাসযোগ্য কোন উৎস আমি অন্তত খুঁজে পাইনি!

ভাইরে, মাশরাফি আমাদের কাছে আবেগ এর অন্য নাম। এই দেশটা মাশরাফির কাছে আবেগের অন্য নাম। কিন্তু অনুগ্রহ করে সেই আবগকে পুঁজি করে কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিবেন না । আমাদের আবেগে'র সাথে প্রতারণা করবেন না। এমনিতেই নানা ধরনের ধোঁকায় জীবনটা জর্জরিত আমাদের। এই একটা জায়গাতে কি একটু ছাড় দেয়া যায় না দয়া করে?

আমাদের আবেগ নিয়ে নোংরা খেলা খেলবেন না, মাশরাফি'র আবেগ নিয়ে ছেলেখেলা নয়!

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০১৫

কার্ল মার্কস—মুক্তি পথের দিশারী

মার্কসবাদ এমনই একটা বিপ্লবী বিশ্ববিক্ষা যা প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত এগিয়ে চলে, বিকশিত হয়। মার্কসবাদ তাই শুধু মার্কস-এই থেমে থাকেনি, বিকশিত হয়েছে লেনিনবাদে, সেখান থেকে মাওসেতুং চিন্তাধারায়। মার্কসের বিজ্ঞান বিষয়ে দাবী হলো জ্ঞান বা দর্শন অর্থে, বিজ্ঞান একটাই, আর সেটা হলো ইতিহাসের বিজ্ঞান।ছোট থেকেই কার্ল মার্কস ভালো ছাত্র ছিলেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন একজন স্বভাব কবি। প্রেমিকা জেনি ভন ভেস্তফালেন-কে নিয়ে লেখা প্রেমের কবিতাগুলো পড়লে আজও অনুভব করা যায় সেদিনের সেই passion!মার্কস ও জেনি মোট ছয় সন্তানের জন্ম দেন ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের সঙ্গে কার্ল মার্কস যৌথভাবে রচনা করেন শ্রমিকশ্রেণীর অমোঘহাতিয়ার ‘কম্যুনিস্ট ইস্তাহার’। এতে তাঁরা দেখান যে ‘রাজনৈতিক ক্ষমতা হচ্ছে অপর এক শ্রেণীকে দমন করার জন্য এক শ্রেণীর হাতে সংগঠিত ক্ষমতা’। ১৮৪৮ সালে প্রকাশিত এই ছোট্ট পুস্তিকা গোটাইউরোপ-এ আলোড়ন তোলে।১৮৬৪ সালে মার্কস এবং এঙ্গেলস তৈরি করেন শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংঘ।তাঁর চিঠিপত্রের সংকলন এবং গাণিতিক পাণ্ডুলিপিটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতবর্ষ নিয়েও মার্কস ছিলেন অত্যুৎসাহী। ভারতের প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ, ব্রিটিশ শাসনের চরিত্র

ইত্যাদি নিয়ে তিনি গভীর ভাবে চর্চা করেন এবং কিছু কালজয়ী নিবন্ধ রচনা করেন। মার্কস এবং এঙ্গেলস-এর যৌথ সংগৃহীত রচনাবলীর সংখ্যা মোট ৫০।

১৮১৮ সালের ৫ই মে তৎকালীন প্রাশিয়ার ত্রিভস (ত্রিয়ের) শহরেকার্ল মার্কস জন্মগ্রহণ করেন। মার্কসরা ছিলেন সমৃদ্ধশালী এবং সংস্কৃতিবান।তাঁর জীবনাবসান ঘটে ১৮৮৩ সালের ১৪ মার্চ, জার্মানি থেকে নির্বসিত অবস্থায় লন্ডনে। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৫ বৎসর।তাঁর বাবা হার্শেল মার্কস পেশায় ছিলেন একজন অ্যাডভোকেট। ১৮৪৩ সালের ১৯-এ জুন জেনির সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হন কার্ল। জেনি ছিলেন একজন বিখ্যাত ব্যারনের কন্যা। এর পর তাঁরা চলে আসেন প্যারিস-এ। প্যারিস থেকেই শুরু হয় অপরিসীম দারিদ্র্য ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রশক্তির প্রবল বাধার মুখে দাঁড়িয়ে তাঁদের লড়াই, যা জীবনের শেষ দিন অবধি ছিল তাঁদের নিত্যসঙ্গী। এই সংগ্রামে মার্কস এবং জেনির পাসে এসে দাঁড়ান তাঁদের অকৃত্রিম বন্ধু কমরেড ফ্রেডরিখ এঙ্গেলস। সাধারণ মানুষের মধ্যে মার্কস পাঠের তুমুল আগ্রহ জেগে ওঠা ছাড়াও রাজনীতিক এমনকি ধর্মগুর”দের মুখ থেকেও শোনা যাচ্ছে পুঁজিবাদ বিষয়ে মার্কসের বিশ্লেষণসমূহের প্রশংসা ।মার্কসীও বস্তুবাদ শেখায় যে এক মাত্র বস্তুজগতেরই অস্তিত্ব আছে এবং আমাদের চেতনাও বস্তুজাত। তাই মন বা ভাবের অস্তিত্ব বস্তু ছাড়া সম্ভব নয়, এবং এই বস্তু সদাই গতিশীল (এর ফলে বস্তুজাত জ্ঞানও গতিশীল)। পরবর্তীকালে এঙ্গেলস দেখান যে শুধু সমাজ বিজ্ঞানেই নয়, মার্কসীও দ্বন্দ্বমূলক মতবাদ প্রকৃতি বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

একজন ইংরেজ ইতিহাসবিদ বলেছেন, 'আমি এখন মার্কস পড়ছি, তাঁর বক্তব্যে কতগুলো আগ্রহ জাগানিয়া ব্যাপার আছে'। এরিক হবসবাউন (Eric Hobsbawn) আরো বলছেন, 'বুদ্ধিমান পুঁজিপতিরা বিশেষত আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির কারবারিরা যখন মার্কস পড়ছেন তা দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ যে পুঁজিবাদী অর্থনীতির তারা অংশীদার, ওই অর্থনীতির অনিশ্চয়তা-অস্থিতিশীলতা সম্পর্কে তারা নিজরাও অত্যন্ত সচেতন।' এরা অবশ্য সমাজতন্ত্র সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কস পড়ছেন না, মার্কস পড়ছেন তাদের ব্যর্থ-ভেঙে পড়া-অচল পুঁজিবাদী অর্থনীতির 'গলদ'গুলো খুঁজে বের করে তা সারাই করার উদ্দেশ্যে, পুঁজিবাদী শোষণটাকে নতুনভাবে সচল করার, ঢেলে সাজাবার উদ্দেশ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের রচনাবলীর বিক্রি পূর্বের তুলনায় তিনগুণ হয়ে পড়েছে। প্রকাশক জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে তিনি ডাস ক্যাপিটালের মাত্র ৫০০ কপি বিক্রিতে সমর্থ হয়েছিলেন। উৎপীড়কদের একদিন উচ্ছেদ করবেই এইসব সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, আর আগের মতোই সেই সংগ্রামের বাতিঘর হবেন এক বৃদ্ধ দার্শনিক, যার নাম কার্ল মার্কস।মার্কসের দর্শনকে বলা হয়, দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ।

১৮৬৭-তে প্রকাশিত হয় তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজ ‘পুঁজি’(প্রথম খণ্ড)। এখানে মার্কস পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রতিষ্ঠানগুলোকেকাটা-ছেঁড়া ক’রে তার শোষণের দিকগুলো উন্মোচিত করেন। তবে মার্কস পুঁজি শেষ ক’রে যেতে পারেননি। মার্কস-এর পাণ্ডুলিপির থেকে বই-এর পরের দুই খণ্ড সম্পাদনা করেন এঙ্গেলস।পুঁজিবাদী সমাজের গতিধারা উদঘাটন করেন মার্কস। তিনি দেখান কিভাবে মূল্যতত্ত্বের সাথে উদ্বৃত্ত মূল্যের ব্যপারটা জড়িয়ে থাকে। এডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডো যে মূল্যের শ্রমতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। মার্কস তাকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যান এবং বিকশিত করেন। ‘তিনি দেখান যে পণ্য (পুঁজিবাদী সমাজে পণ্য উৎপাদনই প্রধান। মার্কস-এর ‘পুঁজি’ গ্রন্থও তাই শুরু হয়েছে পণ্যের আলোচনা দিয়েই) উৎপাদনে সামাজিক ভাবে যে আবশ্যক শ্রম-সময়ের ব্যয় হয়েছে, তা দিয়েই তার মূল্যের নির্ধারণ হয়’। মার্কসের প্রথম জীবনের রচনা সমূহের মধ্য উল্লেখযোগ্য হলো ‘হেগেলের ন্যায় নীতির সমালোচনা’ (১৮৪৫), ‘ইহুদি প্রশড়ব প্রসঙ্গে (১৮৪৬), ‘অর্থনৈতিক দার্শনিক পান্ডুলিপি’ (১৮৪৪)।মার্কসবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছেএমনএকমাত্র framework যে তার থেকেই এবং তার ভিতরেই বিপ্লবী তত্ত্ব বিকশিত হতে পারে,যদিও তা কোন নিশ্চল সীমাবদ্ধ মতবাদ তো নয়ই,বরং তার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং শ্রেণীসংগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও সজীব সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রমাগত নিজেকে সম্প্রসারিত এবং অতীতের তাত্ত্বিক সংগ্রামের সমস্ত সাফল্যকে অঙ্গীভূতকরে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করে তুলেছে।

মার্কসবাদী মতাদর্শকে ধারণ করেই প্রথমে রাশিয়ায় (১৯১৭) সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ গঠিত হয়েছিল। একই মতবাদকে ধারণ করে পরে চীন, ভিয়েতনাম, উত্তর কোরিয়া, পূর্ব ইউরোপ ও কিউবায় বিপ্লব ও সমাজাতান্ত্রিক সমাজ গড়ে উঠেছিল।লেনিন বলেছেন যে, মার্কসবাদের তিনটি উৎস (১) জার্মান চিরায়ত দর্শন, (২) ব্রিটিশ রাজনৈতিক অর্থনীতি (৩) ফরাসী সমাজতন্ত্রবাদ।একজন মানুষকে কল্পনা করো, যার মধ্যে রুশো, ভলতেয়ার, হলবাস, শেলিং, হাইনে ও হেগেল মিলেমিশে গেছেন আমি বলছি মিশ্রিত হয়েছে, নিজস্ব স্বতন্ত্র নিয়ে পাশাপাশি অবস্থান করছে না তিনিই হলেন ডক্টর মার্কস।’১৮৪৮ সালে ফ্রান্সে বুর্জোয়া বিপ্লবের অভিজ্ঞতা এবং ১৯৫০ সালে প্রতিবিপ্লবী কুদেতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কস লিখেছিলেন দুইটি অতি মূল্যবান গ্রন্থ ‘ফ্রান্সের শ্রেণী সংগ্রাম ১৮৪৮-৫০’ এবং ‘লুই বোনাপার্টের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ার’।দেশে দেশে কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদের সারা দুনিয়া থেকে সাম্রাজ্যবাদ পুঁজিবাদ তথা সব রকম শোষণ নিপীড়নের অবসান ও প্রকৃত মানবমুক্তি না আসা পর্যন্ত মাকর্সবাদ প্রাসঙ্গিক থাকবে।

ডারউইন যেমন জৈব প্রকৃতির বিকাশের নিয়ম আবিষ্কার করেছিলেন তেমনি মার্কস আবিষ্কার করেছেন মানুষের ইতিহাসের বিকাশের নিয়ম, মতাদর্শের অতি নিচে এতদিন লুকিয়ে রাখা এই সহজ সত্য যে, রাজনীতি, বিজ্ঞান, কলা, ধর্ম ইত্যাদি চর্চা করতে পারার আগে মানুষের প্রথম চাই খাদ্য, পানীয়, আশ্রয়, পরিচ্ছদ, সুতরাং প্রাণধারণের আশু বাস্তব উপকরণের উৎপাদন এবং সেইহেতু কোনো নির্দিষ্ট জাতির বা নির্দিষ্ট যুগের অর্থনৈতিক বিকাশের মাত্রাই হল সেই ভিত্তি যার ওপর গড়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট জাতিটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, আইনের ধ্যান-ধারণা, শিল্পকলা, এমনকি তাদের ধর্মীয় ভাবধারা পর্যন্ত এবং সেই দিক থেকেই এগুলির ব্যাখ্যা করতে হবে, এতদিন যা করা হয়েছে সেভাবে উল্টো দিক থেকে নয়। মার্কস ও এঙ্গেলসের রচনা থেকে দেখা যায় যে, তাঁদের মধ্যে একটি অনড় মানবিক নৈতিকতার অবস্থান রয়েছে৷ পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় যে অমানবিকতা ও বি-মানবিকীকরণ ঘটে তার বিরোধিতা করেন তাঁরা৷ এই বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে তাঁদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ বা নৈতিক বোধ ক্রিয়াশীল ছিল৷

আজও বিশ্ব জনগণের সত্য অন্বেষণ ও আদর্শ সমাজ গড়ে তোলার পথে মার্কসবাদের পথনির্দেশক প্রদীপের ভুমিকার পরিবর্তন হয় নি।মার্কসবাদের মধ্যে নৈতিকতার অবস্থান নিয়ে বিশ্লেষকরা প্রধানত দ্বিধাবিভক্ত৷ এক পক্ষ মনে করেন যে, মার্কসবাদের মধ্যে কোনো নৈতিক অবস্থান নেই৷ অপরপক্ষ মনে করেন যে, মার্কসবাদের অবশ্যই একটা নৈতিক ভিত্তি রয়েছে৷ বিশ্লেষণী মার্কসবাদী ধারা মার্কসবাদের ধারণাগত পরিচ্ছন্নতা, অদ্ব্যর্থকতা ও যৌক্তিক সঙ্গতি প্রদানের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করলেও বিশ্লেষণের উপর অত্যধিক গুরুত্ব প্রদানের ফলে তাঁরা সমাজ বাস্তবতা ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা থেকে অনেকটা দূরে সরে পড়েন৷ মার্কস কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটা মানবিক সমন্বয় ঘটানোর কথা ভাবেন৷ কমিউনিজমে মানুষ একই সাথে তার নিজেকে এবং 'অন্য মানুষকে' ধারণ করবে৷ এর মধ্যে দিয়েই ব্যক্তির নিজের অস্তিত্ব একই সাথে তার নিজের জন্য ও অন্যের জন্য হয়ে উঠবে৷ প্রথম জীবনে মার্কস দর্শন চর্চা শুরু করেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এশিয়ার চরম প্রতিক্রিয়াশীল সরকার তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি। তিনি তখন সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছিলেন কিছুকাল।

রাশিয়া একসময় জেনেটিক্সের গবেষণায় শীর্ষস্থানে ছিলো, অথচ স্ট্যালিনের আমলে রাশিয়ায় 'জেনেটিক্স' এর উপর গবেষণার লালবাতি কিভাবে জ্বলে গিয়েছিল আমরা তা সবাই আজ জানি। বাম ঘরণার অনেকেই একটা সময় জেনেটিক্স বা বংশগতিকে পাত্তা না দিয়ে কেবল পরিবেশ নির্ণয়বাদকে আদর্শ হিসেবে করতেন, কারণ তা তাদের 'সাম্যবাদের বাণী' প্রচারে সহায়তা করে। আর এ কারণেই মার্ক্স কিংবা তার পরবতী তাত্ত্বিক কমিউনিস্টরা তাদের অনেক বাণীতেই এটাই জোরের সাথে বলেছিলেন যে মানুষের সকল বৈশিষ্ট্যই পরিবেশের ফল, এর সাথে বংশের কোন যোগ নেই। লেলিন এবং তার সমসামিয়ক নেতারা ভাবতেন, সাহিত্য, বিজ্ঞান সব কিছুই ‘মার্ক্সিজমের ছাকুনি'র মধ্য দিয়ে যেতে হবে, নইলে পরিশুদ্ধ হবে না!

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০১৫

আমার ছেলেবেলা, বড়বেলা

পিচ্চিকালের স্বপ্নগুলো, ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো অনেক ভালো ছিলো।ইট কাঠ আর পাথরের দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট পৃথিবীটা অনেক সুন্দর ছিলো।স্বপ্নগুলো কখনো কাগজের নৌকতে ভেসে বেড়াতো,কখনো বা প্লেনের পাখায় চড়ে ঘরের চারপাশে উড়ে বেড়াতো।মাঝে মাঝে জানালার সীমানা পেরিয়ে আকাশ ছুঁতে চাইতো,কিন্তু বাতাসের বাঁধা পার হওয়ার সাধ্য তাদের ছিলোনা।তবুও এতটাও কষ্ট লাগতোনা, হিজিবিজি আঁকার খাতায় পৃষ্ঠা তো আর কম ছিলোনা।একটা প্লেন হারালে আরেকটা বানানো যাইতো,যত নৌকা ডুবুক,ছোট ছোট আঙুলগুলো টেরাবেঁকা করে ঠিক ই আবার নতুন স্বপ্নের খেয়া বানাইতো।সব কিছুর প্রতি অন্যধরনের একটা ভালোলাগা কাজ করতো,ভালোবাসার কোন কারন লাগতোনা,অকারনেই হাসা যেত।

তখন একা থাকলেও একা লাগতোনা, ১ থেকে ৯ এই সংখ্যাগুলো যে এত একা এটা না বুঝেই মুখস্থ করা যেত,কিন্তু এদের পাশে অন্য সংখ্যা না বসালে এদেরকে আসলেই অনেক একা লাগে।একসাথে কাড়াকাড়ি করে খাওয়া আইসক্রীম আর নতুন জামায় লেগে থাকা চকলেটের দাগে বন্ধুত্বগুলো নিঃস্বার্থ বিশ্বাসে গড়ে উঠতো,কলম চুরি আর খেলনা ভেংগে ফেলা শত্রুগুলোও ঘুম থেকে ওঠার পরদিন ই আপন হয়ে যেতো। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে সব কেমন জানি এলোমেলো হতে থাকে,সেই নৌকা আর প্লেনে মিশে থাকা স্বপ্নগুলো চারপাশ হাতড়েও পাওয়া যায়না,অনেক দূরের মনে হয়।দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো ছেলেবেলাটা এখন মেলালে হয় পাঁচ!সবকিছুতে স্বার্থ আর কারন খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া না পাওয়া অনেক কিছুই হারিয়ে যায়,চেনা মুখগুলোও মুখোশের মত লাগে।এত মানুষের নিঃশ্বাস মেশানো বাতাসে নিজের দীর্ঘশ্বাসটাও অনেক একলা মনে হয়।

ছোটবেলায় পছন্দের কিছু না পেলেও কান্না জুড়ে দেওয়া যেত,আর এখন ভালবাসার সবকিছুকে ভুলে থাকতেই নীরবে কাঁদা লাগে,যেন নিজের কানও তা শুনতে না পায়।সময়টা আসলেই অনেক অদ্ভুত!!বন্ধু শত্রুর বিভেদ ভুলে যাওয়া অপরিপক্ক মনটাকেও এখন নিজের চাওয়া পাওয়ার সাথে যুদ্ধ করা লাগে।নিজেকেই নিজের কাছে অচেনা মনে হয়...কিন্তু মন এটাও জানে ফেলে আসা পথে আর ফেরা সম্ভব না...শুধু স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়!খোলা আকাশটাকেও অনেক স্বার্থপর মনে হয়।অনেক তারার ভিড়ে ছোটবেলার সে তারাগুলো আর তাদের জায়গাতে নেই।কেউ হয়তো আকাশটাই পালটে ফেলেছে,কেউ হয়তো হারিয়ে গেছে ছায়াপথে,আর কেউ আমার মত স্বার্থপর আকাশটার কোনো এক কোণে একটু জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে এত দুঃস্বপ্নের মিছিলে...