শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

কলমি বন্ধু


একটা যুগ ছিলো চিঠির যুগ। হাতে হাতে মোবাইলের কথা ভাবাই যেতো না। আমিও স্কুলবেলায় বন্ধুকে চিঠি লেখতাম। বিশাল বিশাল চিঠি। ইংলিশ ফর টুডেতে পেনফ্রেন্ডের ব্যাপার দেখে আরো অবাক হতাম আর হাই হুতাশ করতাম যে আহারে কোনো বিদেশী পেনফ্রেন্ড নাই। বিদেশী পেনফ্রেন্ড দেশে চলে আসে বন্ধুকে দেখতে কি চমতকার ব্যাপার স্যাপার। টিএন্ডটি তে একে ওকে ফোন দিতাম, ফোন দেয়ার আগে গলা ঠিক করে প্র্যাকটিস করতে হতো যদি মুরুব্বী কেউ ধরে তাহলে কি বলবো। এক বড় আপু উলটা পালটা নাম্বারে ফোন করে নানান উলটা পালটা কথা বলতো । কখনো কখনো আমাদের ও বলতে বলতো। বন্ধু টিএন্ডটি তে ফোন দিয়ে বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেলতো কিরে তুই কই? এক বন্ধু প্রেম করতো। দোকানে গিয়ে মোবাইল দিয়ে ফোন করতো। মাঝে মাঝে দোকানদারকে গম্ভীর হয়ে বলতো একটু বাইরে যান তো। কথা বলতেছি।
স্কুলের স্যাররা মোবাইল কেনা শুরু করলো। এক স্যার এত যত্ন করে মোবাইল নিয়ে হাঁটতো। সারাদিন মোবাইল পরিষ্কার করতো। সেই বন্ধু একদিন এক স্যারের কাছেও গিয়ে বলে স্যার একটা মেসেজ দিবো। এক ফ্রেন্ড ফোন দিবে। দেয়া যাবে? এরপর স্কুলের শেষের দিকে কেউ কেউ লুকিয়ে মোবাইল আনতো। একবার দেখলাম দুই তিনটা মেয়ে একটা মোবাইল নিয়ে খুবই ব্যস্ত। পরে জানা গেলো এদের মধ্যে একজন রিকশা দিয়ে আসছিলো আর এক ছেলে বলে তার কোলে ফোনটা রেখে চলে গেছে। সেটা স্যারদের কান পর্যন্ত গড়ালো। হেডস্যার তাদের ডাকলো। আমরা পরের দিন সারা ক্লাসে অনেক লেকচার শুনলাম যে আমাদের বয়সটা এখন একটু অন্যরকম। আমরা সব রঙ্গীন দেখি।
এখন অবশ্য স্কুলের ছেলে মেয়েরাই মোবাইল পায়। ফেবু আইডি তো খুবই সাধারণ ব্যাপার। ফেসবুকের কথা জানলে তখন আর পেনফ্রেন্ড নিয়ে অবাক হতাম না। তখন কি বোকাই না ছিলাম !!!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন