মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কপিলার একাল সেকাল


আজকাল কপিলার জন্য কুবেরের
কান্না পায় না। গঞ্জের
টেলিভিশনে সে দ্য ডাটি পিকচার
ছবির সেই লাল রঙের সিল্কের ব্লাউজ
আর ব্লাউজের ভিতর
সিল্করূপী বিদ্যা বালনকে দেখছে। এখন
নদীত যায় না অনেকদিন। নাও
বাইতে গেলে নাকি ‘ডিংকা চিকা’
গাওন যায় না, নাও দোলে। কুবের
খানিক আপত্তি করে, কুবের ভাব লয়।
হোসেন মিয়া তারে জিন্স প্যান্ট
এনে দেবে বলে রাজধানীত গেছে।
ঢাকার অদূরে মাইলকে মাইল জমিন
কেনা হচ্ছে। কপিলারও এখন
এখানে ভালো লাগে না।
সে কুবেরকে বলে, আমারে ঢাকাত
নিয়া যাইবা মাঝি। কুবের
কোনো কথা কয় না। কুবের খালি ভাব লয়।

মেয়েদের আসা যাওয়া


মেয়েরা অকারণে আসে। আবার
সম্পূর্ণ অকারণে চলে যায়। জোয়ার
ভাটার ব্যাখা আছে, সময় আছে, সূচী আছে। আকাশে সূর্য ওঠে, তারারা মিটমিট করে হাসে, চাঁদ আলো ছড়ায়, সব কিছুর একটা ব্যাখা আছে, কার্যকারণ আছে। এমনকি পিপড়ারা সারিবদ্ধভাবে চলে, এর পেছনেও একটা গভীর মর্মার্থ আছে।

কিন্তু নারীরা কখন আসবে, কখনবা মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার কোনো ব্যাখা নেই। মেয়েরা যখন চলে যায়, এটাকে কি চলে যাওয়া বলে? কেউ কিছু বলে যায়, কেউ না বলে যায়। কেউ যাবার সময় বলে, তোমাকে আমি বন্ধু হিসেবে দেখতাম, প্রেমিক হিসেবে না।

কেউ বলে, তোমাকে আমি ভাই হিসেবে দেখতাম। এক মেয়ে চলে যাবার প্রাক্কালে আমাকে বলেছিলো, বিশ্বাস করো, তোমাকে আমি বয়ফ্রেন্ড না, মামা হিসেবে দেখতাম।

কেউ যাবার সময় সাত্বনা দিয়ে যায়। বলে, তুমি দুঃখ পেলে, আমি কষ্ট পাবো। একদম মন খারাপ করবে না, কেমন?

কেউ যাবার সময় শাপ-শাপান্ত করে যায়। তুমি মরো, আমি গেলাম। কচু গাছে, ফাঁসি নাও। এক আধা দার্শনিক মেয়ে আমাকে বলেছিলো, জীবন হচ্ছে কমলাপুর রেলস্টেশন। একটা ট্রেন চলে গেলে মন খারাপ করো না, আরেকটা ট্রেন আসবে। বিদায়বেলায় একটু টা টা দেবে?

বিদায় হে প্রেম, ভাবছিলাম তোমাকে নিয়ে পান্তা খাবো আসন্ন বৈশাখে। আমার পাতা ভাতে ছাই দিয়ে তুমি চলে গেলে, কী করে তোমায় ভুলি???

বেচেঁ থাকার কারন

এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার আসল সার্থকতা হল, কারো বেঁচে থাকার কারণ হওয়া। মানে কেউ তোমার জন্য হাসে। কারো প্রতিটা নিশ্বাস এ অক্সিজেন এর সাথে সাথে তোমার কার্বন ডাই অক্সাইড টুকুরও দরকার হয়। লাইফ বয় সাবান দিয়ে গোসল করার পর ও কারো গায়ে তোমার গন্ধ লেগে থাকে...... কারো চোখের মণিতে তোমার মুখের আদলের লেন্স লাগানো থাকে। কারো ভাতের প্রতিটি লঙ্কায় ইলিশ মাছের টুকরার সাথে তোমার একটুখানি খুনসুটি মেশানো থাকে। জীবনটা দুঃসহ হয়ে গেলেও শুধু তোমার মুখটি দেখে কেউ বাঁচে।কারো ভালোবাসার মানুষ হওয়া সহজ... কিন্তু অস্তিত্তের জ্বালানী হওয়া অনেক কঠিন... 

মেস লাইফ


শহরে মেসে বাস করা ছেলেদের জীবন অনেকটা রবিনসন ক্রুসোর মত হয়। এদের জীবনের প্রথম এবং প্রধান চিন্তা হয় ' পরের বেলা রান্না হবে তো? খালা আসবে তো? রান্না হলেও সেটাকি খাওয়ার যোগ্য হবে'

এরা প্রত্যেকেই বাবা মায়ের আদরের সন্তান। জীবনের তাগিদে মায়ের কোল ছেড়ে দূরের শহরে আসা। খেতে বসে খালাদের হাতের জঘন্যতম তরকারী দেখে মনে পড়ে মায়ের হাতের অমৃতের কথা। চোখের কোণায় একটু জল জমলেও ঠিকি পানি দিয়ে গিলে খেয়ে নেয়। কাউকে বুঝতে দেয় না। মা ফোন করে চিন্তিত সুরে জিজ্ঞেস করে
- কিরে তোর গলা শুকনো শুনাচ্ছে কেন বাবা
- না মা এমনি
- বুয়া রান্না ঠিকমত করে তো
- হাঁ মা, একদম ফার্স্টক্লাস

মেসে বাস করা ছেলেদের জীবনে ব্রেকফার্স্ট বলে কোন জিনিস থাকেনা। দশটা এগারোটায় ঘুম ভাঙ্গে। মুখের কোণায় টুথব্রাশটা গুজে বাসার সামনের দোকানে চা সিগারেট দিয়ে সকালের নাস্তাটা করে নেয়।

সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ঈশপের গল্প (?)


ঈশপের লেখা রাখাল বালকের গল্পটা কি আপনারা জানেন? রাখাল বালক গ্রামবাসীদের সাথে হুদাই ফাপড় নিত। গ্রামে বাঘ না আসলেও গ্রামবাসীদের 'বাঘ বাঘ' বইলা ভয় দেখাইত। গ্রামবাসীরা বাঘ মারতে আইসা দেখত কোন বাঘ নাই। তারপর আসলেও একদিন বাঘ আসে।

যাইহোক, আমার ছোট ভাই অনেক আগে এই গল্পটা একটু ভিন্নভাবে লিখেছিল। সেই গল্পটা এখন আমি আরেকটু ভিন্নভাবে এখানে লিখলাম। গল্পের প্রথম অংশ আশাকরি আপনারা জানেন। তাই শেষ অংশটা দিলাম।

"অতঃপর গ্রামে একদিন আসলেও বাঘ আসিল ৷ ফাপড়বাজ রাখাল বালক 'বাঘ বাঘ' বলিয়া চিতকার করিবার পরেও গ্রামবাসী তাহাকে বেইল দিল না ৷ রাখাল বালক উপায়ান্তর না দেখিয়া একটি গাছে উঠিয়া গেল ৷ বাঘ রাখাল বালককে না খাইতে পারিয়া ফ্লপ মারিয়া গ্রামে ঢুকিল নতুন মুখের সন্ধানে ৷ অতি বুদ্ধিমান, মাতবর, অপ্রস্তুত গ্রামবাসীরা কিছু বুঝিবার আগেই বাঘ মামা তাহার ফ্রি বুফে লাঞ্চ (২০১ আইটেম, মোর ফুড আইটেম দ্যান ব্যাটন রুশয) তৃপ্তি সহকারে শেষ করিয়া ঢেকুর তুলিয়া বলিল, "আহ... দারুন খেলুম"! সৌভাগ্যবান ফাপড়বাজ রাখাল বালক গাছ হইতে নামিয়া পাশের গ্রামে গিয়া আশ্রয় নিল ৷ এন্ড দেন হি লিভস হ্যাপিলি এভার আফটার ৷



দ্যা মোরাল অব দ্যা স্টোরি: ফাপরবাজ রাই দীর্ঘজীবী

সোর্স: তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের সরকার ও বিরোধীদল সমূহ...