রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪

রাজার মুকুট -সামি


কেউ যদি একটা জানালা খুলে দেয়, অজানা
কোথাওনা,  সময় নেই, সেখানে আরো একজন

তাকে দিয়ে এটি করাচ্ছে।

কবরখানার ইতিহাস বিচার করে, নক্ষত্রেরাও

রাজার মুকুট দেখে।

ওরা বলে-

সাতটি রঙের ভেতর আলোর পৃথিবী ধরে রেখেও

চাঁদ আর নক্ষত্র শুধু একটি ছোট বৃত্ত মাত্র,

এই ক্ষুদ্র কামনা মৃত্যুগামীদের জন্য নয়-

তবু বড় নক্ষত্ররেরা এই নিশ্চুপতায়  পরোয়া করে না

এদের মধ্যে নিচু যে, সে এর ভার তুলে নেয়

আর তোমার চোখের ভেতর বসে থাকা সেবক

কিছুক্ষণের জন্য ইস্ত্রি করা থেকে বিরত থাকতে চায়।

কবির আত্বকথা


খুব সম্ভবতঃ একজন প্রেমিক ছিল সে, কাগজের ভাঁজে গোপনে জমাতো জোছনার জল, তারার সুর, ক্ষয়ে পড়া পালকের মত দীর্ঘশ্বাস কিছু। নৃশংস ছাই হয়ে ঝরে যেতে যেতে একদিন জেনে গেলো- এই শহরে নির্ঘুম সোডিয়াম লাইটেরা নিশ্চুপ থেকে সারারাত শুধু প্রায়শ্চিত্তের কথা ভাবে। মাছরাঙার নীল ডানায় প্রতীক্ষায় না থেকে একদিন-


বহুবার করে বাঁচার সাধ হল তাঁর।


ধ্বংসস্তূপের মাঝে নতুন জনপদ, ছাই ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ঝলমলে বাজ ফিনিক্স। মাছির চোখের দ্যুতি নিয়ে পৃথিবীকে দেখছিল, নতুনভাবে, হাজার রাত্রির রূপকথা- যেন গুঁড়িয়ে যাওয়া শত টুকরো আয়নার ভেতর শত শত তুমি'কে।


স্বপ্নের ওপারে দ্বিতীয় জীবনে বাতাস বলেছিল, এইতো সময়! প্রাণভরে আমাকে নাও আজ! সুকন্যার ঝলমলে খোলা চুলে সেজীবনে মাতাল হলো সে। তৃতীয় জীবনে বিরহের সুর হলো, চন্দ্রাবতীর গানে। চতুর্থ জীবন তাঁর পাখির- আকাশের কাছে বলতে গেলো তাঁর এতদিনের নীরবতার নিগূঢ় কথকতা।


পাখিরা কি আকাশে উড়ে পালকে মেঘের রেণু মাখিয়ে আসে? পঞ্চম জন্মে বৃক্ষ হলো সে- মেঘের অসুখ নিয়ে সেই গাছে একটি নীলফুল শুধু ফোটে। ষষ্ঠজীবন ছিল গেঁড়ুয়া বৈরাগ্যের, সন্নাসব্রতে কেটে গেলো পাঁচটি শতক। সপ্তমজন্মের নোনাগন্ধে তাকে সমুদ্র ভাবল কেউ। অষ্টমজীবন ছিল মৃত্তিকার; ধারণ করে দেখল কতটা গভীরে পদচিহ্ন থেকে যায়।


তারপর একদিন-

দশজীবনের ক্লান্তিশেষে, আয়নায় প্রতিবিম্ব দ্যাখে; নিশ্চিত একটা কিছু ভেসে থাকে চারপাশে- তামা রঙা গোধূলি আর অচেনা ভোরে। অতৃপ্তি? অশ্রুত কিছু কথা? নাকি, বিদীর্ণ অতীতের খোলস ঝেড়ে ফেলে- একজন্মে ঠিকঠাক মানুষ হতে চেয়েছিল সে? অক্ষরজীবী কবির নিয়তি কি এমনই- সবজীবনের গন্ধ ভুল করে চলে আসে শুধু তাঁর কাছে?

শোন মহাজন (লিরিক্স) -শুন্য ব্যান্ড


আমার চোখে তুমি দেখো, আমি তো দেখিনা
আমার কাঁধে দখল নিয়েও, শান্তি হলোনা,
আমার হাতে তুমি ভাঙ্গো, গড়ে ছিলাম যা
আমার কথায় তুমি বলো, ক্যামনে হলো তা..!

আমার বিচার তুমি করো, তোমার বিচার করবে কে?
কবে তোমার দখল থেকে, মুক্তি আমায় দেবে,
শোন মহাজন, আমি নয়তো এক জন
শোন মহাজন, আমরা অনেক জন..!!

তোমার খেলা দেখি বলে, দেখবো কি আ-জীবন
আমার খেলা শুরু হলে, রুখবে না কেউ তখন,
অনেক হলো বাদর নাচন, এবার একটু শান্ত হও
কিসের আমার ভালো-মন্দ, আমাকেই বুঝতে দাও..!

আমার বিচার তুমি করো, তোমার বিচার করবে কে?
কবে তোমার দখল থেকে, মুক্তি আমায় দেবে,
শোন মহাজন, আমি নয়তো এক জন
শোন মহাজন, আমরা অনেক জন..!!

বৃহস্পতিবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৪

এ যুগের আলাদিনের চেরাগের দৈত্য


হোমপেজ স্ক্রল করতে করতে একটা চেরাগের ছবি আসলো। ছগীরের আবার মাউসে সমস্যা। এক ক্লিক করলে তিন ক্লিক পড়ে। চেরাগের উপর তিন ক্লিক পড়তেই পুরো হোমপেজ অন্ধকার ধোঁয়া ধোঁয়া হয়ে আস্ত একটা দৈত্য বেরিয়ে এলো "হুকুম করুন মনিব"
-তুই কে কে কে?
-আমি চেরাগের দৈত্য
-এখানে কি চাস?
-আপনার তিনটি ইচ্ছা পূরণ করবো মনিব, আপনি বলুন কোন তিনটি জিনিস আপনি চান?
-আমি আমি.....
-মনিব উনার কথা বাদ দিন, আপনাকে উনি বানিয়ে দিতে পারবো না।
-না মানে আমি আমি নায়েলা নাঈমের ফ্রেন্ডলিষ্টে ঢুকতে চাই।
-অকেই মনিব ঢুকে যাবেন।
মুহুর্তে ছগীর নোটিফিকেশন পেলো নায়লা নাঈম তার রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেছে। আরি শালা ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট পাঠানো ছাড়াই ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্ট একসেপ্ট করছে। হালায়তো অনন্ত জলিল! এইটুকু ভাবতে ভাবতে দৈত্যের কন্ঠ শোনা গেলো
-পরের ইচ্ছা হুকুম করুন মনিব
-আমি জুকারবার্গের বন্ধু হতে চাই
-অকেই মনিব হয়ে যাবেন।

মুহুর্তেই জুকারবার্গ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন ছগীরকে। কেবল চোখ দিয়ে না খুশীতে শরীরের সব ফুটো দিয়ে পানি বেরুচ্ছে।
-তৃতীয় এবং শেষ ইচ্ছা হুকুম করুন মনিব
-ইয়ে আমি ফেসবুক সেলিব্রেটি হতে চাই!
-হালা ভোদাই কোথাকার!

অতঃপর দৈত্য সাহেব ছগীরকে ব্লক করে নিজ আইডি থেকে স্ট্যাটাস দিলেন। সাথে সাথে চালু করে দিনের অটো লাইকের অ্যাপস।তারপর আবার চেরাগের ভিতরে।

রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৪

হৃদি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে – জয় গোস্বামী

অতল, তোমার সাক্ষাৎ পেয়ে চিনতে পারিনিবলে
হৃদি ভেসে গেল অলকানন্দা জলে
করো আনন্দ আয়োজন করে পড়ো
লিপি চিত্রিত লিপি আঁকাবাঁকা পাহাড়েরসানুতলে
যে একা ঘুরছে, তাকে খুঁজে বার করো
করেছো, অতল; করেছিলে; পড়ে হাত থেকে লিপিখানি
ভেসে যাচ্ছিল–ভেসে তো যেতই, মনে না করিয়ে দিলে;
–’পড়ে রইল যে!’ পড়েই থাকত–সে-লেখা তুলবে বলে
কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে।।

বনলতা সেন


হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে আরো দূর অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকার বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের’পর
হাল ভেঙ্গে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনই দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে, ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে চাওয়া নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ মুছে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন,
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল।
সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী; ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

নোলক -আল মাহমুদ


আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে ?
-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।
জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক
সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।
বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,
আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন
আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।
সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি নাতো !
ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও, হাত পাতো হাত পাতো
বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক
হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।
এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা
আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না।

হায়রে মানুষ -আল মাহমুদ


একটু ছিল বয়েস যখন ছোট্ট ছিলাম আমি
আমার কাছে খেলাই ছিল কাজের চেয়ে দামি।
উঠোন জুড়ে ফুল ফুটেছে আকাশ ভরা তারা
তারার দেশে উড়তো আমার পরাণ আত্মহারা।
জোছনা রাতে বুড়িগঙ্গা তুলতো যখন ঢেউ
আমার পিঠে পরীর ডানা পরিয়ে দিতো কেউ।
দেহ থাকতো এই শহরে উড়াল দিতো মন
মেঘের ছিটার ঝিলিক পেয়ে হাসতো দু’নয়ন।


তারায় তারায় হাঁটতো আমার ব্যাকুল দু’টি পা
নীল চাঁদোয়ার দেশে হঠাৎ রাত ফুরাতো না।
খেলার সাথী ছিল তখন প্রজাপতির ঝাঁক
বনভাদালির গন্ধে কত কুটকুটোতো নাক;
কেওড়া ফুলের ঝোল খেয়ে যে কোল ছেড়েছে মা’র
তার কি থাকে ঘরবাড়ি না তার থাকে সংসার ?
তারপরে যে কী হলো, এক দৈত্য এসে কবে
পাখনা দুটো ভেঙে বলে মানুষ হতে হবে।
মানুষ হওয়ার জন্য কত পার হয়েছি সিঁড়ি
গাধার মত বই গিলেছি স্বাদ যে কি বিচ্ছিরি।


জ্ঞানের গেলাস পান করে আজ চুল হয়েছে শণ
কেশের বাহার বিরল হয়ে উজাড় হলো বন।
মানুষ মানুষ করে যারা মানুষ তারা কে ?
অফিস বাড়ির মধ্যে রোবোট কলম ধরেছে।
নরম গদি কোশন আসন চশমা পরা চোখ
লোক ঠকানো হিসেব লেখে, কম্প্যুটারে শ্লোক।
বাংলাদেশের কপাল পোড়ে ঘূর্ণিঝড়ে চর
মানুষ গড়ার শাসন দেখে বুক কাঁপে থরথর।
‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’- গান শোননি ভাই ?
মানুষ হবার ইচ্ছে আমার এক্কেবারে নাই।

পাগলী তোমার সঙ্গে


পাগলী, তোমার সঙ্গে ভয়াবহ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোবালি কাটাব জীবন
এর চোখে ধাঁধা করব, ওর জল করে দেব কাদা
পাগলী, তোমার সঙ্গে ঢেউ খেলতে যাব দু’কদম।

অশান্তি চরমে তুলব, কাকচিল বসবে না বাড়িতে
তুমি ছুঁড়বে থালা বাটি, আমি ভাঙব কাঁচের বাসন
পাগলী, তোমার সঙ্গে বঙ্গভঙ্গ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ৪২ কাটাব জীবন।

মেঘে মেঘে বেলা বাড়বে, ধনে পুত্রে লক্ষ্মী লোকসান
লোকাসান পুষিয়ে তুমি রাঁধবে মায়া প্রপন্ঞ্চ ব্যন্জ্ঞন
পাগলী, তোমার সঙ্গে দশকর্ম জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দিবানিদ্রা কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে ঝোলভাত জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মাংসরুটি কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিরক্ষর জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে চার অক্ষর কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে বই দেখব প্যারামাউন্ট হলে
মাঝে মাঝে মুখ বদলে একাডেমি রবীন্দ্রসদন
পাগলী, তোমার সঙ্গে নাইট্যশালা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে কলাকেন্দ্র কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে বাবুঘাট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দেশপ্রিয় কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে সদা সত্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘কী মিথ্যুক’ কাটাব জীবন।

এক হাতে উপায় করব, দুহাতে উড়িয়ে দেবে তুমি
রেস খেলব জুয়া ধরব ধারে কাটাব সহস্র রকম
লটারি, তোমার সঙ্গে ধনলক্ষ্মী জীবন কাটাব
লটারি, তোমার সঙ্গে মেঘধন কাটাব জীবন।

দেখতে দেখতে পুজো আসবে, দুনিয়া চিত্‍কার করবে সেল
দোকানে দোকানে খুঁজব রূপসাগরে অরূপরতন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজোসংখ্যা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে রিডাকশনে কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে কাঁচা প্রুফ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ফুলপেজ কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে আউট জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লে হালুয়া কাটাব জীবন।

কবিত্ব ফুড়ুত্‍ করবে, পিছু পিছু ছুটব না হা করে
বাড়ি ফিরে লিখে ফেলব বড়ো গল্প উপন্যাসোপম
পাগলী, তোমার সঙ্গে কথাশিল্প জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে বকবকম কাটাব জীবন।

নতুন মেয়ের সঙ্গে দেখা করব লুকিয়ে চুরিয়ে
ধরা পড়ব তোমার হাতে, বাড়ি ফিরে হেনস্তা চরম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভ্যাবাচ্যাকা জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে হেস্তনেস্ত কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে পাপবিদ্ধ জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধর্মমতে কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে পুজা বেদি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে মধুমালা কাটাব জীবন।

দোঁহে মিলে টিভি দেখব, হাত দেখাতে যাব জ্যোতিষীকে
একুশটা উপোস থাকবে, ছাব্বিশটা ব্রত উদযাপন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ভাড়া বাড়ি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে নিজ ফ্ল্যাট কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যাওড়াফুলি জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে শ্যামনগর কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে রেল রোকো জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে লেট স্লিপ কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে আশাপূর্ণা জীবন কাটাব
আমি কিনব ফুল, তুমি ঘর সাজাবে যাবজ্জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় জওয়ান জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে জয় কিষান কাটাব জীবন।

সন্ধেবেলা ঝগড়া হবে, হবে দুই বিছানা আলাদা
হপ্তা হপ্তা কথা বন্ধ মধ্যরাতে আচমকা মিলন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ব্রক্ষ্মচারী জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে আদম ইভ কাটাব জীবন।

পাগলী, তোমার সঙ্গে রামরাজ্য জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে প্রজাতন্ত্রী কাটাব জীবন
পাগলী, তোমার সঙ্গে ছাল চামড়া জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে দাঁতে দাঁত কাটাব জীবন।

এর গায়ে কনুই মারব রাস্তা করব ওকে ধাক্কা দিয়ে
এটা ভাঙলে ওটা গড়ব, ঢেউ খেলব দু দশ কদম
পাগলী, তোমার সঙ্গে ধুলোঝড় জীবন কাটাব
পাগলী, তোমার সঙ্গে ‘ভোর ভয়োঁ’ কাটাব জীবন।

প্রহর শেষের আলোয় রাঙা


প্রহরশেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস–
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।।
এ সংসারের নিত্য খেলায় প্রতিদিনের প্রাণের মেলায়
বাটে ঘাটে হাজার লোকের হাস্য-পরিহাস–
মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ।।
আমের বনে দোলা লাগে, মুকুল প’ড়ে ঝ’রে–
চিরকালের চেনা গন্ধ হাওয়ায় ওঠে ভ’রে ।
মঞ্জরিত শাখায় শাখায়, মউমাছিদের পাখায় পাখায়,
ক্ষণে ক্ষণে বসন্তদিন ফেলেছে নিশ্বাস–
মাঝখানে তার তোমার চোখে আমার সর্বনাশ।।

সিদ্ধান্ত


রবীন্দ্রনাথ যদি চাকরি করতেন, তাহলে তিনি কি বিশ্বকবি হতে পারতেন?
নাকি অঞ্জন দত্তের ভাষায়, রবীন্দ্রনাথ কালির দোয়াত মাথায় ঠুকে হতেন কুপোকাত।

কিংবা নজরুল যদি হতেন কেরানি, জ্বী হুজুর, জ্বী হুজুর করেই তো দিবানিশি পার করতেন, বিদ্রোহী কবিতা লেখার সাহস এবং সময় কি তিনি পেতেন?

চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি করা অনেকটা পাশের বাসার মেয়ের সাথে চোখে চোখে কথা বলার মতো। মনের মিল হয় না, মিলন হয় না, মোক্ষ হয় না, সাধন হয় না, শুধু জ্বালা হয়।

চাকরিবাকরি, ফেসবুকিং ছেড়ে সিরিয়াসলি লেখালেখি করতে মন চায়।

নিজের কথা ভেবে নয়, বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতির ভবিষ্যতের কথা ভেবে।

যেকোনো দিন সব ছেড়ে শুধুই লেখালেখিতে চলে আসার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আরেকটু সাহস পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবো।

বাবা


সেদিন বাসে আমার পাশে এক ভদ্রলোক বসেছিলেন। বয়স পঞ্চাশের উপরে হবে। আমি ফেসবুক চালাচ্ছিলাম মোবাইলে। লোকটা উৎসুক হয়ে আমার মোবাইল টেপা দেখছিলেন। হঠাৎ বলে উঠলেন-

- বাবা তোমার ফ্রেন্ড কয়টা?
ফ্রেন্ড? বেশি না। হাজারখানেক হবে।
- ওহ, আমার ছেলের ফ্রেন্ড অল্প।
- আচ্ছা তাই! আপনি জানেন কিভাবে?
- ঘরে বসেই তো চালায়। আমার সামনেই।
- আপনিও চালান?
- আমার আইডি নাই বাবা। ছেলের আইডি দিয়েই চালানো শিখি।
- হুম। ভালো তো। অনেক ভালো সম্পর্ক আপনার ছেলের সাথে, তাই না?
- হ্যাঁ। আমার ছেলে এখন জাপান আছে। কয়দিন পরে দেশে আসবে।
- ছেলেকে দেখবেন ফেসবুকে?
- আমি আসলে ওটা বলার জন্যই তোমাকে জিজ্ঞাস করলাম।
- আচ্ছা তার আইডির ইমেইল জানেন?
- নাহ।
- উহু তাহলে আইডির নাম বলেন।

- শাফিন আহমেদ

অনেক খুঁজেও তার ছেলের আইডি পেলাম না। হাজার হাজার শাফিন আহমেদ ফেসবুকে আছে। এর মধ্যে তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া কঠিন কাজ। লোকটার মন খারাপ হয়ে গেলো। বোধহয় কোনো কারণে তিনি একটু লজ্জিত হচ্ছিলেন।
আজ খুবই ইচ্ছে হচ্ছে বাবাকে দেখতে। বাবার আদর পেতে। কিন্তু সেটা এখন আর সম্ভব নাহ। তাই জেমসের গান শুনে ভেসে বেড়াচ্ছি-

“বাবা কতোদিন, কতোদিন দেখিনা তোমায়
কেউ বলেনা তোমার মতো
কোথায় খোকা ওরে বুকে আয়”