বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮

সাইকেল নয়, জীবন যাত্রায় ফিরে আসার গল্প

এখন আর কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করে না। সুইসাইড করে ডিপ্রেশনে। ডিপ্রেশনের শুরু হয় “আমার বন্ধুর কেন বাইক আছে আমার কেন নেই?”

“তার বাবা-মা তারে কতো কিছু দেয়! আমার বাবা-মা কেন দেয় না?” সত্যিকার অর্থে পৃথিবীতে নিজেকে অন্যের সাথে মিলাতে যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় বোকামি।

পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষের আলাদা আইডেন্টিটি আছে। প্রত্যেকের জীবন আলাদা। প্রত্যেকের বেঁচে থাকার কারণও আলাদা।

আজ একজন কিংবদন্তী সাইকলিস্টের গল্প বলবো। যার সারা জীবন স্বপ্ন ছিল অনেক বড় সাইকলিস্ট হবেন, কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় ধাক্কা, মরণব্যাধি টেস্টিকুলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হোন।

এই সময় একজন নিজের জীবনের শেষ কটা দিন কোথায় কাটাবেন তা নিয়ে চিন্তা শুরু করে দিতেন। কিন্তু তিনি বাঁচার পথ খুঁজছিলেন। অপূর্ণ ইচ্ছেগুলোকে পূর্ণতা দিতে।

এক পর্যায়ে ডাক্তাররাও আশা ছেড়ে দেন, বাঁচার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশে দাঁড়ায়। কিন্তু তিনি আশা ছাড়ার মত লোক না, ঠিকই ক্যান্সারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফিরে আসেন সাইক্লিংয়ে।

তারপর রুপকথার মত “ট্যুর ডি ফ্রান্সে” অংশ নিয়ে ১৯৯৯-২০০৫ পর্যন্ত টানা সাতবার শিরোপা জেতেন। প্রচন্ড মনোবল ছাড়া এটা করা কখনই সম্ভব হতো না।

ক্যান্সার থেকে সাইক্লিংয়ে ফিরে আসার সত্যিকারের গল্পটা নিয়ে আত্মজীবনী লিখে ফেলেন তিনি “
It’s not about my bike: my journey back to life” নামে।

যা পড়ে হতাশা নিমজ্জিত মানুষ এখনো বাঁচার পথ খুঁজে। তার নাম ল্যান্স আর্মস্ট্রং। নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেন ক্যান্সার ফাউন্ডেশন “আর্মস্ট্রং ফাউন্ডেশন”। এভাবেই ল্যান্স আর্মস্ট্রং হয়ে রইলেন হতাশা নিমজ্জিত অসংখ্য মানুষের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।

ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংও মরণব্যাধি ক্যান্সারে পড়েছিলেন। সেরে উঠেছেন প্রচন্ড মনোবল নিয়ে। ক্যান্সার থেকে ফেরার পর আর্মস্ট্রং এর লেখা বইটির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।আর্মস্ট্রংয়ের ৭ বার “ট্যুর ডি ফ্রান্সের” শিরোপা জয়ের রেকর্ড এখনও কেউ ভাঙ্গতে পারেননি।

জয় পরাজয় হতাশা ব্যর্থতা জীবনের অনিবার্যতা, এই অনিবার্যতাই জীবনের স্বার্থকতা, এই অনিবার্যতাকে চুমু দিতে হয় সাহস নিয়ে, আত্মঘাতী হয়ে নয়। এদের মতো কয়েকজনের জন্যই জীবনটাকে খুব অল্প বয়সেই উপভোগ করতে শিখে গেছি। লাইফ ইজ বিউটিফুল। লাইফ ইজ ওয়ান্ডারফুল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন