সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭

আহ মাশরাফি!

"বোলার কৌশিক ভাইয়ের কথা বাদ দেন। ব্যাটসম্যান মাশরাফির কথা ভাবেন শুধু। বাংলাদেশের হয়ে কত রান করেছেন উনি? হাজার দেড়েক। এই দেড় হাজার রান দিয়ে উনি বাংলাদেশকে যে কয়টা ম্যাচ জিতিয়েছেন, তা আমরা তিন-চার হাজার রান করে করতে পারিনি। ওনার ১৫ রান মানেই ম্যাচে আমরা এগিয়ে গেলাম। শোনেন, একটা কথা বলি। কৌশিক ভাই নিজেকে নিয়ে খামখেয়ালি না করলে সে থাকত বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। কৌশিক ভাই কত বড় অলরাউন্ডার হতে পারতেন, উনি নিজেও জানেন না।"
এই কথাগুলো বলেছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সত্যি মাশরাফি হয়তো নিজেই জানেন না তিনি কতো বড় অলরাউন্ডার হতে পারতেন! শনিবার বিপিএলে চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে আকস্মিক ভাবে ওয়ান ডাউনে নেমে মাত্র ১৭ বলে যখন ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেললেন। তখন কে বলবে? এই মাশরাফিকেই কিনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

যারা শনিবার টিভি সেট কিংবা গ্যালারিতে বসে মাশরাফি ঝড়ো ব্যাটিং দেখেছিলেন তারা কি বিশ্বাস করতে পারছিলেন এই মাশরাফিই আন্তর্জাতিক টি২০ খেলেন না! মাশরাফি কি বড় আগে বিদায় নিয়ে নিয়েছেন? আফসোসটা শুধু তার ব্যাটিং দেখে নয়। চলতি বিপিএলে বল হাতেও নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি। তরুণ বোলারদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৮ ম্যাচে মাত্র ৬.৪১ ইকোনমি রেটে উইকেট নিয়েছেন ৯টি!
শনিবার, চিটাগংয়ের করা ১৭৪ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে যখন গেইল-ম্যাককালামরা খাবি খাচ্ছিলেন। তখন ম্যাককালামের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে মাঠে নামলেন মাশরাফি। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম যখন ফিরে যাচ্ছেন; রংপুরের স্কোরবোর্ডে তখন শোচনীয় অবস্থা। ৫ ওভার দুই বলে দলীয় রান মাত্র ৩১! ম্যাচ কাভারের সূত্রে তখন আমার চোখ ক্রিক ইনফোতে। সেখানে ভেসে উঠলো ‘ওয়াও মাশরাফি!’। ব্যাট হাতে কি জ্বলে উঠতে পারবেন মাশরাফি? হ্যা পেরেছেন তিনি।
কাউকেই নিরাশ করেনি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা এই অধিনায়ক। নিজেকে এগিয়ে এনে দলের রানরেটটা ঠিকমতোই বাড়িয়ে নিতে পেরেছেন। ৪ টি চার ও ৩ ছক্কায় যখন তিনি ৪২ রান নিয়ে আউট হন তখনও তার স্ট্রাইকরেট ২৪৭.০৫। যেখানে ক্রিস গেইলের ১৩২! মাশরাফি যখন চিটাগংয়ের বোলারদের আছড়ে ফেলছিলেন গ্যালারিতে, গেইল তখন চেয়ে দেখছিলেন 'পাগলার' মন মুগ্ধকর ব্যাটিং।
এই মাশরাফি গত ৪ দিন আগেও ৫ নম্বরে নেমে ১১ বলে ১৫ করেছিলেন। তার আগেও ১৩, ১৭ রানের ইনিংস ছিল বিপিএলে। মাশরাফি যখন ব্যাটিংয়ে নামেন সবাই তখন অপেক্ষা করেন ছোটো খাটো একটা ব্যাটিং ঝড়ের। মাশরাফির ব্যাটিংয়ের সাথে 'ঝড়' শব্দটার সম্পর্ক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে নিজে নিজে নিজের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করে উপরে ব্যাট করে নিজের জাত চেনাতে এখনো তিনি পরিপক্ক।
মাশরাফির কিছু ইনিংস হয়তো কখনও কখনো ভোলা যাবে না। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মস্তবড় বোলারদেরও ছাড় দেননি। এই যে ধরুন ২০০৪ এ ভারতের বিপক্ষে টানা ৩১*(৩৯) ও ৩৯(২০) রানের ইনিংস। কিংবা কেনিয়ার বিপক্ষে ৪৪*(১৬), ৪৩ (৫৩)। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩০ (২৪)। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৫১*(২৭)। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৫*(১৭)। আর গত বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৯ বলে ৪৪ রান।


তাছাড়া, দিনেশ মুঙ্গিয়াকে টানা ৪ ছক্কা ভোলানোর সাধ্য কার? বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ৫ নম্বরে নেমে ৫৬* করার কথাও তো সবার জানা। ১০, ১৫, ২০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ছোটো ইনিংসগুলোর কথা নাই বললাম। এগুলো স্মৃতিতে এতোটাই জমাট বেঁধে আছে যে এখনও মাশরাফি ব্যাটিংয়ে নামলে শত ব্যস্ততার মাঝে ক্রিক ইনফোতে চোখ রাখি। চায়ের দোকানের টিভিতে ঢুঁ মারি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন