রাতের পর রাত কতো চ্যাট করেছি মনে আছে? কথা যেনো ফুরোতই না। কথাগুলো এখনকার মতো "খাইসো" "ঘুমাইসো" এর মতো না। ভালো লাগার মতো, কতোশত দিন চ্যাট করতে করতে সকাল হয়ে গেছে। এখন একেকজনের যায়গায় দিব্যি আছি। কথা বলা লাগে না, মন খারাপ হলে কাউকে কিচ্ছু বলা লাগে না। শুধু দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস নিয়ে বলতে হয় ভালো আছি। একটা সময় ছিলো, ভালো একটা মন ছিলো, অনুভূতি ছিলো, এখন কিচ্ছু নাই। ওইদিন তো ফাইভ গ্রেডের এক পিচ্চিকেও বলতে শুনলাম "জীবনতো আর কম দেখলাম না।"। একটা সময় ছিলো, একটা মানুষকে ধরা যেতো না, ছোঁয়া যেতো না, মাসে দুবার কথাও হতো না ঠিকমতো, কিন্তু ভালোবাসার অভাব ছিলো না। সেখানে কোনো সংসারের গল্প ছিলো না, ক্যারিয়ারের কথা ছিলো না, সেক্সুয়েল লাইফেরো কোনো গল্প ছিলো না। একটা পৃথিবীর মতো বিশাল ভালোবাসা ছিলো। পৃথিবীটা হয়তো সেদিনও গিরগিটির মতো ছিলো না।
ক্যালিফোর্নিয়া, জীবনটা অন্যান্য দেশের মতো এতো সহজ না। সকাল হলেই ছুটতে হয় কাজে। কাজ মানেই টাকা। ডিভোর্সি মায়ের টানে বাবাকে ছেড়েই সাত বছর আগে এই যান্ত্রিক শহরটায় চলে আসে ফিওনা। মাস দুয়েকের মধ্যে বয়ফ্রেন্ডও জুটে যায় নাম এলেক্স। ভালো ছেলে। সপ্তাহে তারা দুদিন কফিশপে যায়। তবে বিল দুজনেরটা দুজনে দেয়। এই শহরটা আসলেই অদ্ভুত, মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নিলেও শোধ করে দিতে হয় সপ্তাহ খানিকের ভিতর। কে জানে দেশে থাকতে এই মেয়েটাই হয়তো বাবার পকেট থেকে কতো টাকা সরিয়ে আইসক্রিম খেয়েছে। এই শহরে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে বাসায় যাওয়াটা রিতিমতো স্মার্টনেস। এই মেয়েটার পিছনেই শুভ্র নামের ছেলেটা হাটতে হাটতে একটা গোটা শহর চিনে ফেলেছিলো । ছেলেটা কোনো দিনই বাংলায় লেটার মার্কস পায় নি। তবুও ফিওনা কে নিয়ে একগুচ্ছ গল্প লিখে ফেলেছিলো।
শুভ্রর জীবনে হয়তো অন্যকারো মতো অন্য কেউ চলে এসেছে। নিজের মতো বদলে নিয়েছে। সে হয়তো জানবে না। এই ছেলেটা একসময় "শঙ্খ ঘোষ" পড়তো, বাহাত্তোর লাইনের "পাগলী তোমার সঙ্গে" মুখস্থ বলতে পারতো। নিয়ন আলোয় রাস্তায় হাটতে ভালোবাসতো। কেউ জানতো না শুভ্রর ইয়ারফোনটার সাথে ফিওনার সতীনের মতো সম্পর্ক ছিলো। শব্দের ফেরী করা ছেলেটাই আজ যায়গায় যায়গায় দাঁড়িয়ে হয়তো হাতপাতে "একটা গল্প হবে? একটা গল্প? একটা শব্দ দাও অন্তত "। এই আহাজারি কারও কানে যায় না।
বলেছিলাম না, সবাই বলবে "তোমাকে আমি সবথেকে ভালো বুঝি"। বলতো কেউ কি তোমার পারফিউমের গন্ধ শুকে তোমার কষ্ট বলে দিতে পারে?
প্রত্যেক মেয়ের জীবনেই মনে মনে একটা ছেলের ছবি আঁকা থাকে। ছেলেটা হয় বাটখারার মতো, যেকোনো ছেলেকে মাপতে এই বাটখারাটার দরকার হয়। সবকিছু ভুলে যাওয়া যায়, বাটখারাটাকে ভোলা যায় না। শরীরের সাথে শরীরের দূরত্ব না থাকলেও, মন থেকে মনের দূরত্বের রাখার ক্ষমতা হয়তো ঈশ্বর এজন্যই দিয়েছেন। প্রতি রাতেই এমন কিছু অর্ধমৃত অনুভূতি আর্তনাদ করে। (চলবে...)
(গল্পটা ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি লেখা। চলবে, বললেও পরবর্তী কিস্তিতে আর হাত চলেনি)
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
-
সবাই যতই বলুক রুশা সামিকে সময় দিচ্ছে বলেই, প্রেমটা এগুচ্ছে। আসলে সামি এই ভেবে আনন্দ পায় যে, এই মেয়েটাই ছিলো ভার্সিটির সবথেকে হ্যান্ডসাম ছেলে...
-
বলি ভাইরে ভাই, বলে যায়, আজব এক ঘটনা, সাপ খেলে সাপুরের মেয়ে নামে জরিনা। জরিনার মা নাই, জরিনার মা নাই, বাপ নাই, দাদির সাথে ঘোরে, বেহুলা ল...
-
এখন আর কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করে না। সুইসাইড করে ডিপ্রেশনে। ডিপ্রেশনের শুরু হয় “আমার বন্ধুর কেন বাইক আছে আমার কেন নেই?” “তার বাবা-...

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন