শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০১৫

কেমন আছো আকাশের ঠিকানায়?

“রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ” বাংলা সাহিত্যাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। যার জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৬ই অক্টোবর। তাঁর বাবা ছিলেন পেশায় একজন ডাক্তার রুদ্রের জন্মের সময় তার কর্মস্থল ছিল বরিশাল। কবির জন্ম বরিশাল হলেও তাদের মূল বাড়ি বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলার মিঠেখালি গ্রামে। দ্রোহ ও প্রেমের কবির শৈশব কালটি কাটে মংলাতেই। এর পর চলে আসেন ঢাকায়। ১৯৭৩ সালে ঢাকা ওয়েস্ট হাইস্কুল থেকে তিনি এস.এস.সি এবং ১৯৭৫ সালে এইচ.এস.সি পাস করেন। এর পর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এখান থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র ইউনিয়ন সাথে যুক্ত ছিলেন। একবার ডাকসুর ইলেকশনও করেছিলেন। তিনি ছিলেন ছোট কাল থেকেই রাজনীতি সচেতন। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন হরতাল মিছিল কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করেন। এর পর যখন মুক্তি যুদ্ধ শুরু হল তখন তিনি নবম শ্রেণীর ছাত্র। তিনি যুদ্ধে যাবার জন্য অস্থির হয়ে উঠেন। এরমাঝে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তার বাবাকে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করার দায়ে ধরে নিয়ে যায়। পরিবারের এমন দুর্দিনে তাই তার মা তার অনেক অনুনয় বিনয়ের ফলেও যুদ্ধে যেতে দিতে রাজি হয় নি।

তার বাবার ইচ্ছা ছিল তিনি বড় হয়ে বাবার মত ডাক্তার হবে তিনিও তাই চাইতেন কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, দেশব্যাপী পৈশাচিক হত্যা-নির্যাতন তার ভাবনার জগতকে তুমুলভাবে আন্দোলিত করে। তিনি হাতে তুলে নেন কলম। লেখা শুরু করলেন সমাজের সকল বৈষম্য, শোষণ, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা আর সব অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার শক্তিশালী লেখনীর মাধ্যমে পাঠকের হুদয়ে স্থান করে নেন।

আমাদের দেশের সকল অন্যায় অবিচার আর সাপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার কলম সব সময় বারুদ ফুটিয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তার লেখা “বাতাসে লাশের গন্ধ” কবিতাটি স্বাধীনতা নিয়ে লেখা সেরা কবিতাগুলোর একটি। কবিতাটিতে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের নৃশংসতা তুলে ধরেছেন এভাবে-

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ন নৃত্য দেখি
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে...
এ দেশ কি ভুলে গেছে সোই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময় ?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ ।
এই রক্তমাখা মাটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধে ছিলো ।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার ,
আজ তারা আলোহিন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়.....

সিরাজ শিকদার, বঙ্গবন্ধু, কর্নেল তাহের, চার নেতাসহ সব নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন-

‘থামাও, থামাও এই মর্মঘাতী করুণ বিনাশ,
এই ঘোর অপচয় রোধ করো হত্যার প্লাবন’।

পঁচাত্তরে যখন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয় এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির যখন পুনরুত্থান ঘটে তখন আবার গর্জে উঠল রুদ্রের কলাম তিনি লিখলেন তার কাল জয়ী পঙক্তি-

“জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন”

এর পর অনেকটা ক্রান্তি কাল পেরিয়ে দেশটি আবার নতুন ক্রান্তি লগ্নে পৌছায়। শুরু হয় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। এই আন্দোলনেও এগিয়ে আসে রুদ্র তুলে নেয় কলম রচনা করেন-

দাঁড়াও‌, নিজেকে প্রশ্ন করো- কোন পক্ষে যাবে?
রাইফেল তাক কোরে আছো মানুষের দিকে।
সঙ্গিন উঁচিয়ে আছো ধূর্ত নেকড়ের মতো।
পায়ে বুট, সুরক্ষিত হেলমেটে ঢেকে আছো মাথা।
সশস্ত্র তোমার হাত, সংগঠিত, কে তোমাকে ছোঁয়!

তোমার বুলেট মানুষের বুক লক্ষ্য কোরে ছুটে যাচ্ছে
তোমার বুলেট মানুষের মাথার খুলি উড়িয়ে নিচ্ছে
তোমার বুলেট মানুষের হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ কোরে দিচ্ছে
তুমি গুলি ছুঁড়ছ, তুমি গুলি ছুঁড়ছো মানুষের দিকে।

যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার ভাই
যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার পিতা
যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার বোন
যে মানুষের মধ্যে কেউ একজন তোমার ছেলে
সেই মানুষের দিকে তোমারা টার্গেট প্র্যাক্টিস করছো...
........................................
বিত্তের বিরদ্ধে তাই যখন শ্লোগান ওঠে শহরে ও গ্রামে,
যখন মিছিল নামে রাজপথে মানুষের দাবির মিছিল,
যখন মিছিল নামে রাজপথে মানুষের ক্ষুধার মিছিল-
তখন তোমার হাতে গর্জে ওঠে তীক্ষ্ম রাইফেল,
তুমি ব্যবহৃত হও, নিরুপায় ব্যবহৃত হও।
তোমার হাতের ভেতর তখন শোষকের হাত।
তোমার আঙুল, সে তখন খুনী জান্তার আঙুল।
তোমার সুশিক্ষিত পা, সে তখন স্বৈরাচারের পা।
তোমার চোখ তখন এক ঘাতকের খল চোখ।
তোমার জিভ তখন এক ঘৃণ্য দুর্বৃত্তের জিভ।

শহিদ নূর হোসেনকে হত্যার পর তিনি লিখলেন-

হাজার মৃত্যু দিয়ে গড়া ঘরখানির ভিত,
আজো তবু সব মানুষের রক্তে কেন শীত!
বুলেট এবং বুটের মুখে খুঁজতে থাকে আপোষের আরাম।
নূর হোসেনের রক্তে লেখা আন্দোলনের নাম।

৭৫ থেকে ৯০ পর্যন্ত দেশে এমন কোনো আন্দোলন নেই যাতে রুদ্র’র সশরীর অংশগ্রহণ ছিলো না। কলম থেকে শুরু করে রাজপথ যখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে থেকেই আন্দলন চালিয়ে গেছেন।

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন অসীম সাহসের অধিকারী। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তিনি কখনো পিছপা হন নি। ১৯৮৬ সালে গ্রিন রোডের একটি রেস্তোরাঁয় ৮-১০ জন মানুষ একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর গুণগান করছিল সেই টেবিলের সামনে গিয়ে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করলেন। ৮-১০ জন মানুষের সাথে একাই লড়লেন কবি। তারা সেদিন রুদ্রকে মেরে রক্তাক্ত করেছিল। মাথায় দুটি সেলাই লেগেছিল কিন্তু রুদ্র থামার জন্য আসেনি তাকে কেউ দমিয়ে রাখতে পারে নি। এরপর আরেক দিন পশ্চিম রাজাবাজারের রাস্তায় একটি ওয়াজ মাহফিলের প্রচারে আরও একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীর নাম মাইকে প্রচার করতে থাকলে তিনি রাস্তায় নেমে সেই মাইক বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

রুদ্র ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠকদের মাঝে একজন এবং এর উদ্যোক্তাও তিনি। এরশাদ বিরোধী আন্দলনের সময় একবার ময়মনসিংহে কবিতা পাঠের আসর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ পাঠানো হয়। ভক্তদের বাধার মুখে সেদিন পুলিশ পারেনি তাকে নিয়ে যেতে। সেদিন থেকেই সমমনা কবি, শিল্পী, অভিনেতা, আবৃত্তিকার ও ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে শুরু হলো সংগ্রামী সাংস্কৃতিক জোট গড়ার উদ্যোগ। পরবর্তী সময়ে যা রূপান্তরিত হলো সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটে।

১৯৮৭ সালে এরশাদ ও তার ভাড়াটে কবিরা তাদের বাহাদুরি দেখাতে ঢাকায় আয়োজন করেন কবিতা উত্সব, বিপরীতে রুদ্র দাড়িয়ে যান “জাতীয় কবিতা উত্সব” নিয়ে। প্রথম জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধনী সংগীত-

শৃঙ্খল মুক্তির জন্যে কবিতা আজ, ছিঁড়ে ফেলে লাবণ্য লালিমা, হয়ে ওঠে সুতীক্ষ� হাতিয়ার

এ গান তারই লেখা।

প্রেমে আর দ্রোহে – স্বাধীনতা পরবর্তী কবিদের মধ্যে রুদ্রর চেয়ে শক্তিমান আর কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তবুও অনেকে তাকে বলেন ৭০ দশকের কবি। সব বাঁধা বিপত্তি ছিন্নভিন্ন করে যে কবি বেরিয়ে এসেছেন, তাকেই আটকে ফেলা হয়েছে দশকের ফাঁদে। তিনি কখনো ভণ্ডামিকে প্রশ্রয় দেয় নি ভণ্ডদের কে পছন্দও করতেন না তিনি তাই তো নব্বই এর পর যখন সব কবিরা দলে দলে বিভিন্ন দলের ছাতায় আশ্রয় খজতে শুরু করে তখন তিনি একা হয়ে গেলেন কারন তিনি কারো চামচামি পছন্দ করতেন না।
সংসার জীবনে কবি ১৯৮১ সালে ভালোবেসে বিয়ে করেন বহুল আলোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে যদিও তসলিমা নাসরিন তখন ততটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। হুটহাট করেই কোন রকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাদের এই বিয়ে হয়।

তসলিমা নাসরিনকে বিয়ে করার পর বাবার কাছে রুদ্রের চিঠি-

আব্বা,
পথে কোনো অসুবিধা হয়নি। নাসরিনকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গত পরশু ঢাকায় ফিরেছি। আপনাদের মতামত এবং কোনোরকম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া আমি বিয়ে করে বৌ বাড়ি নিয়ে যাওয়াতে আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। কিন্তু আমি তো আমার জীবন এভাবেই ভেবেছি। আপনার সাথে আমার যে ভুল বোঝাবুঝিগুলো তা কখনই চ্যালেঞ্জ বা পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব নয়, স্পষ্টতই তা দুটো বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব। ব্যক্তি আপনাকে আমি কখনোই ভুল বুঝিনি, আমি জানি না আমাকে আপনারা কিভাবে বোঝেন। এতো চরম সত্য যে, একটি জেনারেশনের সাথে পরবর্তী জেনারেশনের অমিল এবং দ্বন্দ্ব থাকবেই। যেমন আপনার সাথে আপনার আব্বার অমিল ছিলো, আপনার সাথে আমার এবং পরবর্তীতে আমার সাথে আমার সন্তানদের। এই দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব নয়। আমরা শুধু এই সংঘাতকে যুক্তিসঙ্গত করতে পারি; পারি কিছুটা মসৃন করতে। সংঘাত রোধ করতে পারিনা। পারলে ভালো হতো কিনা জানিনা। তবে মানুষের জীবনের বিকাশ থেমে যেতো পৃথিবীতে।

আমার মনে পড়ে না। এই ছাব্বিশ বছরে একদিনও পিতা হিসাবে আপনার সন্তানদের আদর করে কাছে টেনে নেননি। আশেপাশে অন্য বাবাদের তাদের সন্তানদের জন্য আদর দেখে নিজেকে ভাগ্যহীন মনে হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনো কষ্ট প্রকাশ করিনি। ছেলেবেলায় আমার খেলতে ভালো লাগতো। খেললে আমি ভালো খেলোয়ার হতাম। আপনি খেলতে দিতেন না। ভাবতাম, না খেললেই বোধ হয় ভালো। ভালো মানুষেরা বোধ হয় খেলে না। আবার প্রশ্ন জাগতো, তাহলে আমার খেলতে ভালো লাগে কেনো? আমি কি তবে খারাপ মানুষ? আজ বুঝি, খেলা না খেলার মধ্যে মানুষের ভালো-মন্দ নিহিত নয়। কষ্ট লাগে। আমিও স্বপ্ন দেখতাম, আমি ডাক্তার হবো। আপনার চেয়ে বড় ডাক্তার হয়ে আপনাকে ও নিজেকে গৌরব দেবো। সন্তান বড় হলে পিতারই তো সুখ। আমি সেভাবে তৈরীও হচ্ছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কি যে এক বিরাট পরিবর্তন এলো ! একটি দেশ, একটি নতুন দেশের জন্ম হলো, নতুন চিন্তার সব হতে লাগলো। নতুন স্বপ্ন এলো মানুষের মনে। সবাই অন্যরকম ভাবতে শুরু করলো। আমিও আমার আগের স্বপ্নকে ধরে রাখতে পারিনি। তারচেয়ে বড় এক স্বপ্ন, তারচেয়ে তাজা এক স্বপ্ন, তারচেয়ে বেগবান এক স্বপ্নকে আমি কাছে টেনে নিলাম। আমি সিরিয়াসলি লিখতে শুরু করলাম। আগেও একটু আধটু লিখতাম, এবার পুরোপুরি। আমি আমার আগের সব চিন্তা-ভাবনার প্রভাব ঝেড়ে ফেলতে লাগলাম। চিন্তা থেকে, জীবন থেকে, বিশ্বাস-আদর্শ থেকে, অনেক কিছুর সঙ্গেই সংঘর্ষ হতে লাগলো। অনেক কিছুর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির শুরু হলো। কখনো ক্ষোভে আমি অপ্রত্যাশিত কিছু করে ফেলতে লাগলাম। আপনার সাথে আমার সাথে বিশ্বাসের সাথে মিল এমন মানুষের দেখা পেলাম। তাদের সাথে সংঘাতও হলো। একি ! সবার সাথে সংঘর্ষ হয় কেন? মনে মনে আমি ভীষণ অস্থির হয়ে পড়লাম। তাহলে কি এপথ ভুল পথ? আমি কি ভুল পথে চলেছি? কখনো মনে হয়েছে, আমিই ঠিক, এই প্রকৃত পথ। মানুষ যদি নিজেকে ভালোবাসতে পারে তবে সবচেয়ে সুন্দর হবে। নিজেকে ভালোবাসতে গেলে সে তার পরিবারকে ভালোবাসবে। আর পরিবারকে ভালোবাসা মানেই একটি গ্রামকে ভালোবাসা। একটি গোষ্ঠীর মানুষকে ভালোবাসবে। আর একটি গ্রাম মানেই তো সারা পৃথিবী। পৃথিবীর সব মানুষ - সব মানুষ সুন্দর হয়ে বাঁচবে। পৃথিবীতে কত বড় বড় কাজ করেছে মানুষ। একটা ছো্‌ট্ট পরিবারকে সুন্দর করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। একটু যৌক্তিক হলে, একটু খোলামেলা হলে কত সমস্যা এমনিতেই মিটে যাবে। সম্পর্ক সহজ হলে কাজ সহজ হয়। আমরা চাইলেই তা করতে পারি।

জানিনা এ চিঠিখানায় আপনি ভুল বুঝবেন কিনা। ঈদের আগে আগে বাড়ি আসবো। আম্মাকে বলবেন, যেন বড় মামার কাছ থেকে হাজার চারেক টাকা নিয়ে আমাকে পাঠায়। বাসায় রান্নার কিছুই কেনা হয়নি। বাইরের খাওয়ায় খরচ বেশী এবং অস্বাস্থ্যকর। আম্মার তদারকিতে দেওয়া সম্পত্তির এটুকুই তো রিটার্ন মাত্র। আপনার সেন্টিমেন্টে লাগতে পারে। লাগাটাই স্বাভাবিক। কারণ আপনার শ্বশুড়বাড়ি। আমাদের কিসের সেন্টিমেন্ট? শিমু মংলায় পড়বে, বাবু স্কুলে। আপনারা না চাইলেও এসব করা হবে। দোয়া করবেন।
- শহিদুল্লাহ

তাদের এই বিয়েটা টিকে নি ১৯৮৮ সালে বিয়ের ৭ বছরের মাথায় বিয়েটি ভেঙ্গে যায়। অবশ্য ৯০’র শেষদিকে তসলিমার সঙ্গে আবার প্রেম শুরু হয়েছিলো। কিন্তু সেটা ছিলো তসলিমার দ্বিতীয় বিবাহ থেকে তৃতীয় বিবাহে উত্তরণের মধ্য সময়ে। এর পর শিমুল নামের এক মেয়ের সাথে তার প্রেম হয়। মেয়ের পরিবার মেনে না নেওয়ায় সেই প্রেমটিও শেষ হয়ে যায়। সেই থেকে রুদ্র একদম নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে লাগলেন। খাবার দাবারে অনিয়মের ফলে ধরা দিল আলসার। পায়ের আঙ্গুলেও রোগ বাসা বেঁধেছিল। ডাক্তার বলেছিলো পা বাঁচাতে হলে সিগারেট ছাড়তে হবে। তিনি পা ছেড়ে সিগারেট নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন।

হঠাৎ ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি
অজান্তেই চমকে ওঠি
জীবন, ফুরালো নাকি!
এমনি করে সবাই যাবে, যেতে হবে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন