পিচ্চিকালের স্বপ্নগুলো, ছোট ছোট ইচ্ছেগুলো অনেক ভালো ছিলো।ইট কাঠ আর পাথরের দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট পৃথিবীটা অনেক সুন্দর ছিলো।স্বপ্নগুলো কখনো কাগজের নৌকতে ভেসে বেড়াতো,কখনো বা প্লেনের পাখায় চড়ে ঘরের চারপাশে উড়ে বেড়াতো।মাঝে মাঝে জানালার সীমানা পেরিয়ে আকাশ ছুঁতে চাইতো,কিন্তু বাতাসের বাঁধা পার হওয়ার সাধ্য তাদের ছিলোনা।তবুও এতটাও কষ্ট লাগতোনা, হিজিবিজি আঁকার খাতায় পৃষ্ঠা তো আর কম ছিলোনা।একটা প্লেন হারালে আরেকটা বানানো যাইতো,যত নৌকা ডুবুক,ছোট ছোট আঙুলগুলো টেরাবেঁকা করে ঠিক ই আবার নতুন স্বপ্নের খেয়া বানাইতো।সব কিছুর প্রতি অন্যধরনের একটা ভালোলাগা কাজ করতো,ভালোবাসার কোন কারন লাগতোনা,অকারনেই হাসা যেত।
তখন একা থাকলেও একা লাগতোনা, ১ থেকে ৯ এই সংখ্যাগুলো যে এত একা এটা না বুঝেই মুখস্থ করা যেত,কিন্তু এদের পাশে অন্য সংখ্যা না বসালে এদেরকে আসলেই অনেক একা লাগে।একসাথে কাড়াকাড়ি করে খাওয়া আইসক্রীম আর নতুন জামায় লেগে থাকা চকলেটের দাগে বন্ধুত্বগুলো নিঃস্বার্থ বিশ্বাসে গড়ে উঠতো,কলম চুরি আর খেলনা ভেংগে ফেলা শত্রুগুলোও ঘুম থেকে ওঠার পরদিন ই আপন হয়ে যেতো। কিন্তু বয়সের সাথে সাথে সব কেমন জানি এলোমেলো হতে থাকে,সেই নৌকা আর প্লেনে মিশে থাকা স্বপ্নগুলো চারপাশ হাতড়েও পাওয়া যায়না,অনেক দূরের মনে হয়।দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো ছেলেবেলাটা এখন মেলালে হয় পাঁচ!সবকিছুতে স্বার্থ আর কারন খুঁজতে খুঁজতে পাওয়া না পাওয়া অনেক কিছুই হারিয়ে যায়,চেনা মুখগুলোও মুখোশের মত লাগে।এত মানুষের নিঃশ্বাস মেশানো বাতাসে নিজের দীর্ঘশ্বাসটাও অনেক একলা মনে হয়।
ছোটবেলায় পছন্দের কিছু না পেলেও কান্না জুড়ে দেওয়া যেত,আর এখন ভালবাসার সবকিছুকে ভুলে থাকতেই নীরবে কাঁদা লাগে,যেন নিজের কানও তা শুনতে না পায়।সময়টা আসলেই অনেক অদ্ভুত!!বন্ধু শত্রুর বিভেদ ভুলে যাওয়া অপরিপক্ক মনটাকেও এখন নিজের চাওয়া পাওয়ার সাথে যুদ্ধ করা লাগে।নিজেকেই নিজের কাছে অচেনা মনে হয়...কিন্তু মন এটাও জানে ফেলে আসা পথে আর ফেরা সম্ভব না...শুধু স্বপ্ন দেখতে ভয় পায়!খোলা আকাশটাকেও অনেক স্বার্থপর মনে হয়।অনেক তারার ভিড়ে ছোটবেলার সে তারাগুলো আর তাদের জায়গাতে নেই।কেউ হয়তো আকাশটাই পালটে ফেলেছে,কেউ হয়তো হারিয়ে গেছে ছায়াপথে,আর কেউ আমার মত স্বার্থপর আকাশটার কোনো এক কোণে একটু জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে এত দুঃস্বপ্নের মিছিলে...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন