উপমা, সামি এতো পেইন দিচ্ছে ইদানীং।
আমি আর পারছিনা।
-তুই হ্যা বলে দিলেই তো সব ঠিক হয়ে যায়।
-তোর কি মনে হয় সামির মতো একটা সাইকোর সাথে আমি ভালো থাকবো?? তুই তো জানিস জয় এর সাথে আমার রিলেশনটা গ্রো আপ হচ্ছে।
-ধুর এমনিতেই বললাম। ও আমাকেও ইন্সটাগ্রামে ফলো দিয়েছিলো, আমি ব্লক করে দিয়েছি।
-তুইতো জানিস ও কতোগুলো ফেক আইডি থেকে আমাকে ফলো দিয়েছে। জয় দেখলে কি ভাববে?
-ঠিকই বলেছিস।
ইরার যখন মাত্র ১৬ বছর বয়স, তখন ইরাকে প্রপোজ করে সামি। সেই থেকেই চলছে সামির পাগলামি। এখন ইরার বয়স ২১। ইরার বয়ফ্রেন্ডের নাম জয়। জয়ের বাবার অনেক টাকা। ওদের তিনটা গাড়ি, জয়ের জন্যেও আলাদা গাড়ি আছে। জয় ইরাকে প্রায়ই লং ড্রাইভে নিয়ে যায়।
সামি, ইরার খুব কাছের রিলেটিভ, যার ফলে প্রায়ই ফ্যামেলি ইভেন্টে সামির মুখমুখি হতে হয় ইরার। একসময় সামি আর ইরার অনেক কথা হতো। ইরার ক্রমাগত এভয়েডের ফলে সামি আর কথা বলে না। এখন শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ইরার কাছে ব্যাপারটা বেশ আনকম্ফোর্টেবল লাগে।
আজ ইরার এক কাজিনের বিয়ে। ইরার সাথে তার বান্ধবী উপমাও এসেছে।
-কিরে তোর পাগলাটাকে তো দেখছি না!
-দেখিস হাজির হয়ে যাবে। ও জানে আমি আসবো।
বলতে বলতেই সামির দেখা পেয়ে গেলো উপমা আর ইরা। একটুও বদলায় নি সামি। সেই আগের মতোই হ্যাংলা পাতলা, উশকো খুশকো চুল। ইরা অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলো সামিকে এবার বলেই দিবে, সামি যেনো ওর পথ থেকে সড়ে দাড়ায়।
-তোমার কি কোনো কাজ নেই, আমার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া?
-কাজ আছে তবে তোমাকে দেখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়।
-আমার জীবনে সবথেকে বড় অভিশাপ হলে তুমি। তোমার জন্য নিজের জীবন থেকে আমার মায়া উঠে গেছে।
-আমার জন্য তোমার এতো কিছু হচ্ছে, তবুও বলবে তুমি আমাকে ভালোবাসো না!
-তুমি জানো যে আমার বয়ফ্রেন্ড আছে তবুও তুমি আমার পিছু ছাড়ছো না কেন? ইন্সটাগ্রামে আমার প্রতিটা ছবিতে তোমার ফেক আইডির কমেন্ট দেখে জয় আমাকে সন্দেহ করে।
-কোনো ছবিতে ওড়না নেই, কোনো ছবিতে তোমার অর্ধেক বুক দেখা যায়, এগুলোতে কমেন্ট না করে পারা যায়। আমি না হয় নিজের মানুষ। অন্যরা দেখে কি ভাববো?
-সবাই তোমার মতো ভিলেজ পিপল না। প্লিজ আমার জীবন থেকে সরে দড়াও।
-ওকে। আজ থেকে আমি আর তোমার ছায়াও মাড়াবো না। শেষ একটা কথা বলি "সব সাচ্চা প্রেমিকের কপালে ভালো মেয়ে জুটে গেলেও, সব ভালো মেয়ে সাচ্চা প্রেমিক পায় না।"
-এই মহাগুরু টাইপের বাণী অন্য কাউকে দিও। আমার জীবন থেকে তুমি সড়ে গেলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
ঢাকার সব প্রেমিক প্রেমিকাদের পছন্দের যায়গা হলো 'হাতির ঝিল'। ইরা আর জয়ও সেখানেই। ইরা জয়ের হাত ধরে বসে আছে, তবুও আগের মতো অনুভূতি পাচ্ছে না। ইরা জয়কে বুঝতে দিচ্ছেনা ব্যাপারটা। জয় ইরাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে চাচ্ছে। ইরা জয়কে বাধা দিলো।
জয় বললোঃ
-কি হয়েছে তোমার? কিছুদিন ধরেই তোমাকে আর আগের মতো পাচ্ছি না।
-কিচ্ছু হয় নি, কেনো জানি আজকাল কিছুই ভালো লাগছে না।
-কোথাও ঘুরতে যাবে, লং ড্রাইভে?
-কয়েকদিন পরে যাই, আমি কিছুদিন রিলাক্স থাকতে চাচ্ছি।
-ওকে ব্যাবি, নিজের প্রতি যত্ন নিও প্লিজ।
ইরার ভালোবাসা জয় তার পাশেই বসে আছে, তবুও কেনো জানি মনে হচ্ছে কি যেনো নেই।
ইরাও বোঝেনা কেনো তার এই শুণ্যতা।
আজ ১৫ দিন হতে চললো সামি, ইরার সাথে কোনো যোগাযোগের চেষ্টা করেনি। ইন্সটাগ্রামে আপ্লোড করা ইরার ছবিতে এখন আর অদ্ভুত সব কমেন্ট আসেনা, মন খারাপের বিকেলগুলোতে আননোন নাম্বার থেকে আসা ম্যাসেজ পড়ে ইরা আর হেসে ওঠেনা। কিছুতেই আর মন বসাতে পারে না ইরা। তার মাঝে জয়ও তাদের রিলেশনশিপটা আর রান করতে চাচ্ছে না। জয় শুধু ইরার সাথে ভালো কিছু সময়ই কাটিয়েছে, সে এতো দিনে বুঝে গেছে, ইরার মতো একটা নিচু মানের মেয়ের সাথে আর যা-ই হোক জীবন পাড়ি দেয়া যায় না।
ভীষণ অনুতপ্ত বোধ করে ইরা ভেতর ভেতর। অবশেষে সে বুঝতে পারে এতোদিন সে সত্যিকারের ভালোবাসাটাকেই অবহেলা করেছে। ইরা ভাবে কেমন করে সে আবার সামির সামনে দাড়াবে? অনেক ভেবে সিদ্ধান্তটা ইরা নিয়েই ফেলে। সে সামির কাছেই ফিরে যাবে। আজ সামির বলা কথাটা খুব বেশী সত্যি বলে মনে হয় ইরার কাছে "সব সাচ্চা প্রেমিকের কপালে ভাল মেয়ে হয়তো জুটে যায় কিন্তু সব ভালো মেয়ের কপালে সাচ্চা প্রেমিক জুটেনা"।
ইরা জানে না সামি আজ কোথায়! তবে ইরার মন বলছে সামি তার সেই পছন্দের যায়গাটাতেই আছে। যেখানে সামি, ইরাকে প্রোপোজ করেছিলো।
যায়গাটার নাম... জাফলং...
ইরা সেদিন খুব সকালে সিলেটের জাফলং এর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ে। সেদিন দুপুরে জাফলং পৌছুলেও ইরা সামির দেখা পায় না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়, সামির টিকিটিরও দেখা পায় না ইরা। ইরা ভেবেই নেয় সামির দেখা আর পাবে না সে।
কিছুটা দূরে মানুষের একটা জটলা দেখতে পায় ইরা। সে এগিয়ে যায়। এক যুবক অনেকগুলো পিচ্চি ছেলেদের সাথে ফুটবল খেলছে। যুবকের মুখ ভর্তি দাড়ি। তবুও ইরার চিনতে ভুল হলোনা। এটাই যে তার পাগলটা। ইরা দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে সামিকে...
[বাস্তবের সামিরা গল্পের মতো এতো ভাগ্যবান হয় না। বাস্তবের ইরারা জয়দের সাথে ভালই থাকে।]
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন