বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

এই আমি, ভালোবাসি

আমার মনই আমার ধর্মশালা। এ কার কথা আর মনে নাই। কত কিছুই তো মনে নাই। মনেও করতে চাই না অনেক কিছু। মন যতই অনমনা হোক, মন নিয়ে এবার মনযোগ দিতে হবে। মন কী চায়, মন কী ভাবে, মনের কেন দুঃখ লাগে? মনের সে দুঃখ আমি কব কারে? তারে পাব কোথায় গেলে? গগন হরকরা তারে খুঁজলো, লালন ‘মনবেড়ী’ নিয়ে বসে রইল। মনের মানুষ ধরার কত তত্ত্ব দিল। মনচোরার ঠিকানাও দিল। মনে মনে তার সাথে কত কথা বললাম। কত ছবি আঁকলাম। পাখির মতো উড়লাম। নদীর মতো বয়ে গেলাম। শহর চৌচির করা রোদে মনটারে বুকে জাপটে ধরে কত ঘুরলাম। হয়ত তোমার পাশ দিয়েই হেঁটে গেলাম। তুমি তাকালেই না। আপন মনেই ছিলে। আপনাপন খোঁজে কত কাল একা একা কাটে মানুষের?

‘আমি তোমাকে ভালোবাসি’ এ কথা বলতে এখন বাঁধো বাঁধো ঠেকে না। নিজেকে আবছায়া লাগে না। মিথ্যে লাগে না। এই যে মেঘে মেঘে হারাই, ঘাসের নরমে ঢুকে পড়ি, হাওয়ায় তালে চুল উড়াই, লতাপাতার মতো দেহ মেলে ধরি, বৃক্ষের মতো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকি। এই যে আছি। তোমার মুখেই আমার ‘আছেময়তা’ টের পাচ্ছি। এ বসন্তেও আমি আগের বসন্তের সুবাসে বাঁচি। সকাল বিকাল জানিয়ে দিলাম, তোমায় ভালোবাসি। ব্যস হয়ে গেল? নাহ। এক্কেবারেই না।

সেদিন তোমাকে দেখে আমার সকল জড়তা কেটে যায়। এই প্রথম আমি অবলীলায় প্রকাশ্যে রাস্তা চুমু খেয়ে ফেলি। কিছুদিন বাদে জানতে চাইলে, এর আগে কটা মেয়েকে এভাবে চুমু খেলে? তোমার কাছে আমি আমাকে লুকাইনি। একে একে সব গল্প জানলে। প্রাণেপণে সঁপে দিলাম নিজেকে। এক নিশ্বাসে মন খারাপের ব্যারাম থেকে বেরিয়ে গেলাম। খুশিতে হুহু করে কাঁদতে লাগলাম। কুঝিকঝিক ট্রেনে করে আমরা দূরে হারিয়ে গেলাম। তুমি তারা সকলের নামধাম খুঁজলে। কোন তারাটা কোন আকাশে থাকে? চাঁদটা কেন এত আলো ছড়াচ্ছে? নদীটা কতদূর গেছে? তোমাকে দেখতে দেখতে ওসব খুব একটা দেখা হয়নি! এক শালিক দেখার পর তোমার অস্থিরতায় প্রথমে হাসলাম, পরে বুঝলাম বিষয়টা সিরিয়াস।

এখন আমিও সিরিয়াস। চুল আচড়ে তোমার সামনে দাঁড়াই। ভুল করে ধরা পড়ার আনন্দ পাতাই। ছেড়ে যাবার নাম নিলে কান্না পায়। হ্যা এই হলেম আমি। ভালোবাসি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন