বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

লাইফ অ্যান্ড ফিওনা (পর্ব-১)

কলেজ থেকে বাসাটা খুব কাছেই। হেঁটেই চলা ফেরা করে ফিওনা। প্রতিদিনই বাসার ফেরার পথে একটা ছেলে প্রতিদিনই ওর পিছু পিছু আসে বাসা পর্যন্ত। ফিওনার কাছে ব্যাপারটা বেশ অস্বস্তিকর লাগে। সে ভাবছে আজকে আচ্ছা করে ঝাড়ি দিবে। কিন্তু আজ কলেজ থেকে বেড়িয়ে ছেলেটাকে পেলোনা। দুদিন এভাবেই গেলো, ছেলেটার কোনো পাত্তা নেই।

ফিওনা একটি ব্রোকেন ফ্যামিলির মেয়ে। তার বাবা বাংলাদেশী আর মা আমেরিকান। খুব ছোটোবেলায় ফিওনার মা তার বাবার সাথে রাগ করে দেশ ছাড়ে। সেই থেকেই ফিওনা আছে তার ফুপুর কাছে, বাবা ব্যাবসায়ের কাজে বেশীর ভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকেন। তাই বাবা মায়ের আদর কি ফিওনা তা অনুভব করার সময় পায়নি কোনো দিনই।

আজ রবিবার, কলেজ থেকে বেরিয়েই ফিওনা চারদিকে চোখ বুলিয়ে নেয়। হুম, আজ ছেলেটা আছে।
-আই ছেলে তুমি আমাকে প্রতিদিন ফলো করো কেন?
-আমি ফলো করি না। প্রায়ই এদিকে হাঁটি, বেশীরভাগ সময়ই তোমার বাসায় যাওয়ার টাইমিং এর সাথে মিলে যায়।
-ভনিতা না করে বলো কি চাও?
-না। আসলে তোমার পিছন পিছন হাঁটতে ভালোলাগে।
-আমাকেও তো সোসাইটির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। মানুষ জন কি ভাবে?
-সাথে নিয়ে হাটলেই তো আর পিছন পিছন হাটি না।
-ওকে, আর আমার কলেজ থেকে যাওয়ার পথে পিছু পিছু আসবেনা। আমি প্রতিদিন বিকেলে সি ব্লকে হাটতে বের হই আজ থেকে আমার সাথে তুমিও হাটবে।
- [অস্পষ্ট ভাবে] মেঘ না চাইতেই জল।
- কি বললা?
-না, কিছু না, বললাম ঠিক আছে।

প্রতিদিন একা একা হাঁটতে বেশ বোরিং লাগতো ফিওনার। আজ ছেলেটা সঙ্গে থাকায় বেশ ভালই লাগছে। কথায় কথায় ছেলেটার সম্পর্কে ফিওনা যা যা জানতে পারলো; ছেলেটার নাম সামি, এখানে মামার সাথে থাকে, দেশের বাড়ি নেত্রকোনা, জালালাবাদ কলেজে পড়ে, কোনো মেয়ে বন্ধু নেই।

সন্ধা হয়ে আসছে, ফিওনা বললো
-এবার তাহলে ফেরা যাক।
-চলো
-কাল কি তুমি ফ্রি আছো?
-[মনে মনে] ব্যাস্ততা সবতো তোমাকে ঘিরেই। কেনো।
-কাল একটু শপিংএ যাওয়ার ছিলো। ১১ টায় আসতে পারবে?
-হুম, খুব পাড়বো।

আজ সকাল থেকেই সামি খুব অস্থির ছিলো। কোনো ভাবেই যেনো ১১ টা বাজছিলো না। তারপরো আরো আধা ঘন্টা দাড়িয়ে আছে ফিওনার বাসার সামনে। সামির কুকুর ভীতি থাকায় বেশী ভেতরেও যেতে পারছেনা। সদর দড়জার কাছাকাছি একটি ব্লাডহাউন্ড কুকুর বাধা। একটা গাড়ীও দেখা যাচ্ছে নীল রংএর। শহরে নীল রঙের গাড়ি খুব একটা দেখা যায়না। যাদের নীল রঙের গাড়ি আছে খোঁজ নিলে দেখা যাবে তাদের বাসায় সাদা অথবা কালো রঙের গাড়ি আছে। প্রথম গাড়িটাই কেউ ভিন্ন রঙের কেনেনা। যারা কেনে তাদের পছন্দ ফার্স্ট ক্লাস। তার মানে সামি যে মেয়ের জন্য দাড়িয়ে আছে সে একটি ফার্স্ট ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে। সে যেহেতু সামিকে পছন্দ করে তার মানে সামিও ফার্স্ট ক্লাস। মানুষ যতই বলুক না কেনো সে ক্যারেক্টার লুজ, নেগেটিভ মাইন্ডেড, কেউ একজনের কাছে সে একটি ফার্স্ট ক্লাস ছেলে।

সামি আর ফিওনা রিকশায় যাচ্ছে...
ফিওনাকে নীল শাড়িতে অপরূপ লাগছে। সামির তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। সামির ভাবনা রিকশাটা যেনো লন্ডন ম্যানশনের সামনে না থামে। এখানে সামি নামে একটা টায়ারের দোকান আছে। সে ভাবছে এটা ফিওনা দেখলে হয়তো তার প্র‍্যাস্টিজের ট্যায়ারটা পাঞ্চার হয়ে যেতে পারে। লন্ডন ম্যানশনে রিকশা থামলোনা। রিকশা থামলো ব্লু ওয়াটার শপিং সেন্টারের সামনে। (চলবে)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন