বুধবার, ৪ মার্চ, ২০১৫

লেখা লেখিতে ফিরছি, কৃতজ্ঞ মেহেদী

নানা কারনে ব্লগে আগের মত ঘন ঘন লিখতে পারিনা। তবে খুশির খবর হচ্ছে লেখালেখিকে লক্ষ্য বানিয়ে কর্মপদ্ধতি সাজিয়ে নিচ্ছি, যাতে মনের মত করে লিখতে পারি।

সবাই যে বয়সে কবি হয়, আমি সে বয়সে কবি ছিলাম, সবাই যে বয়সে রচনা প্রতিযোগীতা কিংবা রহস্য পত্রিকায় লেখা পাঠায়, যায় যায় দিনের বিশেষ সংখ্যায় লেখা পাঠিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনে আমিও সেই বয়সে লিখতাম তাদের মত করে, দুরু দুরু বুকে হলুদ দুইটাকার খামে পৃষ্টার একদিকে লিখে লাল বাক্সে ফেলে আসতাম। এর পরে ধম বন্ধ করা অপেক্ষা, মাদকতাময় অপেক্ষার প্রহর। এর পরে লেখালিখি বন্ধ ছিল অনেকদিন, কারনটা হতে পারে বয়ঃসন্ধির সময়টা পেরিয়ে এসেছি, বা অনুভূতিগুলো মরে গিয়েছিল, অথবা, অথবা হতে পারে কাগজ কলমের চেয়ে বেশি একাত্ম হয়ে গিয়েছিলাম কম্পিউটারে। যেখানে আমার প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম ছিল ইংরেজী। আমি যখন অনলাইনে প্রথম লেখা লেখি শুরু তখন বাংলা লিখতে খুব কষ্ট হতো। তারপর একদিন খোজ পেলাম অভ্র নামের একটি সফওয়ারের। অভ্র দিয়ে লেখার প্রথম দিনেই আমি বুঝে যাই, বাংলায় এখন লিখতে আমার মোটেই কষ্ট হবে না। আমি মনের আনন্দে বাংলায় লিখতে থাকি। “বাংলায় লিখতে পারা” আমার কাছ থেকে অনেক সময় কেড়ে নেয়, আমি দিনরাত বাংলায় লিখতে থাকি, আমার মধ্যে তখন প্রশান্তি আর প্রশান্তি, আমি বাংলায় লিখতে পারছি। আমি ব্লগ লিখি, আমি গল্প লিখি, আমি কবিতা লিখি, ঠিক যেভাবে লিখতাম বয়ঃসন্ধিতে।

কম্পিউটারে বাংলায় লেখা আমার তালিকার উপরের দিকে চলে আসে। আমি মেইল করি বাংলায়, আমি চ্যাট করি বাংলায়, আমার ফেসবুকের স্ট্যাটাস আসে বাংলায়।

লিখে লিখে আমি হয়ত খুব বড় মাপের কোন কিছু বাংলা সাহিত্যে দিয়ে যেতে পারবো না, আর তাতে কারও কোন ক্ষতিও তো নেই। কিন্তু বাংলায় লিখতে পারার যে আনন্দ আমি পাচ্ছি তাতে তো কোন খাদ নেই। কৃত্রিমতা নেই।

তাই আমি অভ্র এবং এর রূপকার মেহদীর কাছে কৃতজ্ঞ।

যদিও আমি জানি নিঃস্বার্থ মানুষেরা এসবের কথা ভেবে কাজ করেন না, তারা এসবের অনেক অনেক উপরে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, এই লোকের গুনগান না করতে পারলে নিজের কাছেই নিজেকে ছোট করে ফেলবো। তাই আমার এই ব্লগীয় চিৎকার।

মেহদী, আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ ভাই, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকাররা যতই তোমাকে চোর বলুক না কেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন