মাহমুদুল্লাহ সবসময় অন্যদের ছায়ায় থাকতেই পছন্দ করতেন। তিনি মনে করেন বেশি 'ফোকাস' মানে বেশি চাপ। চাপহীন হয়েই নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন সবসময়। অনেক সময় হয় না। অনেকসময় ব্যাট হাতে ইতিহাস গড়ে ফেলেন।
ফিল্ডিংয়ের সময় তাকে মাঠে খুঁজে পাওয়াই বেশ দুষ্কর। তবে, সীমানার দিকে ছোটা বল ফেরাতে দৌঁড়াতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত হাল ছাড়েন না। কখনও মিড অনে লাফিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নিতে দেখবেন তাকে। আবার কখনও স্লিপে ক্যাচ তালুবন্দি করে একটা মিষ্টি হাসি দিবেন। সতীর্থ্যরা এসে হয়তো পিঠ চাপড়ে দিবে। পরক্ষণই ক্যামেরা ম্যান তার কথা ভুলে যাবে বেমালুম।
ব্যাট হাতে টেক্সটবুক শটস খেলেন না খুব বেশি। নেই সাকিবের মতো তারকা খ্যাতি। কিংবা দেশ সেরা অধিনায়ক মাশরাফির মতো বলিষ্ঠতাও নেই তার মাঝে। তবে, তার প্রতি সবার অগাধ আস্থা আছে। মাহমুদুল্লাহ উইকেটে থাকলে সমর্থকরা বল পান, ম্যাচ জেতাতে না পারুক সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবেন, এই বিশ্বাস তাদের।
আদর করে ভক্তরা তাকে ডাকেন 'সাইলেন্ট কিলার'। এই সাইলেন্সই তাকে হয়তো তারকাখ্যাতি এনে দেয় না। তবে এই শান্ত স্বভাব দেশকে এনে দেয় অমূল্য জয়। এর প্রমাণ বহুবার দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। যার সবশেষ উদাহরণ প্রেমাদাসায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়। শেষ চার বলে যেখানে দরকার ছিল ১২ রান। সেখানে এক বল বাকি থাকতেই ৬ মেরে জয় ছিনিয়ে আনেন সবসময় পর্দার আড়ালে থাকতে চাওয়া এই মানুষটি।
‘ত্রাণকর্তা’ হয়ে দাঁড়ানোর অভ্যাসটা বেশ পুরোনো। ২০১০ আইডিয়া কাপেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। ঘরের মাঠে সেই সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও, ৬০, ২৪ ও ৬৪ রানের তিনটি অপরাজিত ইনিংস খেলে সব আলো নিজের দিকে নিয়েছিলেন তিনি। সেই শুরু। এরপর, ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচ মনে আছে? মাহমুদউল্লাহ যখন উইকেটে এলেন, ৮ রানের ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ।
তার ব্যাট হাতে ১০৩ রানের ইনিংসে জয়ের ভিত গড়েছিল বাংলাদেশ দল। পরের ম্যাচে কিউইদের বিপক্ষে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলীয় ২৭ রানেই প্রথম সারির ২ ব্যাটসম্যানকে হারায় টাইগাররা। এমন সময়ে উইকেটে এসে অপরাজিত ১২৮ রানের ইনিংস খেলে বিপদ কাটিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ।
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত সেঞ্চুরির ইনিংস খেলে দলকে পাইয়ে দিয়েছিলেন অত্যাবশ্যকীয় জয়। কিউইরা ৮ উইকেটে ২৬৫ রান তুলেছিল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ দল।
তারপর সাকিবের সঙ্গে জুটি বেঁধে এখান থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন দুজনেই। ২০১৬ এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়েও বড় অবদান ছিল মাহমুদুল্লাহর। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তানের দেয়া ১২৯ রান তাড়া করতে নেমে দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ দল। সেখান থেকে প্রায় একাই দলকে জিতিয়ে বীরবেশে মাঠ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ।
এগুলো শুধু মাহমুদুল্লাহ যে ম্যাচগুলোর নায়ক হয়েছিলেন সেই ম্যাচগুলোর পরিসংখ্যান। তার হাত ধরে কতোবার হারের বড় ব্যবধান কমিয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। প্রিয় মাহমুদুল্লাহ আপনার পার্শ নায়ক হওয়ার সময় বোধহয় ফুরিয়ে এসেছে। এবার আপনার নায়ক হওয়ার পালা। আমরা হিরো মাহমুদুল্লাহকে চাই। যিনি প্রতিপক্ষকে হতাশায় ডুবিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিবেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
-
সবাই যতই বলুক রুশা সামিকে সময় দিচ্ছে বলেই, প্রেমটা এগুচ্ছে। আসলে সামি এই ভেবে আনন্দ পায় যে, এই মেয়েটাই ছিলো ভার্সিটির সবথেকে হ্যান্ডসাম ছেলে...
-
বলি ভাইরে ভাই, বলে যায়, আজব এক ঘটনা, সাপ খেলে সাপুরের মেয়ে নামে জরিনা। জরিনার মা নাই, জরিনার মা নাই, বাপ নাই, দাদির সাথে ঘোরে, বেহুলা ল...
-
এখন আর কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে সুইসাইড করে না। সুইসাইড করে ডিপ্রেশনে। ডিপ্রেশনের শুরু হয় “আমার বন্ধুর কেন বাইক আছে আমার কেন নেই?” “তার বাবা-...



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন