কানে হেডফোন গুজে কানের বারোটা বাজিয়ে হিন্দি গান শুনতে থাকা কুল ডুড , তুমি কি জানো , যে ১৯৫২ সালের এই দিনে তোমার চাইতে বহুগুনে বেশি আধুনিক , অনেক বেশি কুল একজনের জন্ম হয়েছিলো ? জন্মের পর থেকেই আধুনিকতার মাঝে বড় হওয়া সেই কুল ছেলেটি হয়তো তৎকালীন সময়ের সবচাইতে উন্নতমানের গান শোনার যন্ত্রে প্রতিদিন গান শুনতো। হয়তো প্রতিরাতে মৃদুলয়ে গান চালিয়ে দিয়ে তাকিয়ে থাকতো আকাশপানে , হয়তো ভাবতো মনের চিলেকোঠার এক কোণে পড়ে থাকা কোন তনয়ার নিষ্পাপ মুখের কথা।
সেই আধুনিক ছেলেটি নিজের প্রখর বুদ্ধিমত্তার জন্য ইলিনয় ইন্সটিটিউটে চান্স পায় । এই ইন্সটিটিউটের নাম জানো হে কুল ডুড ? সেই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের একটা ছেলে নিজের যোগ্যতায় সেখানে চান্স পাওয়ার মুল্য অনুভব করতে পারো ? এবং কতটা সাহস , কতটা দেশপ্রেম থাকলে তোমার বয়সের একজন ছেলে এই সুযোগ পায়ে ঠেলে দেয় , তা কি কখনো উপলব্ধি করতে পারো হে কুল ডুড ? নিজের সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ ফেলে দেশের টানে যখন একজন আধুনিক ছেলে যুদ্ধে নাম লেখায় , তখন তার মধ্যেকার অনুভূতি সম্পর্কে কি একটু হলেও আন্দাজ করতে পারো ?
তাকে একবার বলা হয়েছিলো দলসহ গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আশেপাশে কিছু গ্রেনেড বিস্ফোরন করতে । যাতে ভেতরে থাকা সাংবাদিকেরা কিছুটা হলেও টের পায় , যে ইয়াহিয়া মিথ্যা বলছেন। দেশের অবস্থা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তারা কি করলো জানো ? তার সোজা হোটেলের ভেতরে গিয়ে সাংবাদিকদের নাকের ডগায় গ্রেনেড ফাটিয়ে আসলো। তাদের এই কর্মকান্ডে সেক্টর কমান্ডার সম্পূর্ন হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন। তাদের এই কান্ডের জন্যই তাদেরকে ক্র্যাক প্লাটুন ডাকা শুরু হয় , কারন সে এবং তার দলের প্রত্যেকেই ছিলো তারছেড়া ক্র্যাক।
মানুষের বোর হয়ে গেলে কি করে ? কেউ সিনেমা দেখে , কেউ ঘোরাফেরা করে। কেউ বান্ধবীর সাথে প্রেমালাপ করে। আমাদের এই আধুনিক ছেলেটা ও তার দল কি করতো জানো ? তারা পাকি মিলিটারি মারতো। হাত-পা ম্যাজ ম্যাজ করলেই তার দলবেধে বেরিয়ে পড়তো , পথে কোন পাকি পেলেই সেটাকে নির্মমতার সাথে উড়িয়ে দিতো। তাদের এই কার্যকলাপ দেখে তাদের ট্রেনার ও কমান্ডাররা হাসবেন নাকি কাদবেন বুঝতে পারতেন না।
তিনি যে তার দলের সাথে মিলে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন উড়িয়ে দিয়েছিলেন তা জানো হে কুল ডুড ? এবং ধানমন্ডি অপারেশনের পরেই যে তার বাড়ি থেকে তাকে পাকি হ্যানাদার বাহিনী তুলে নিয়ে যায় , সেটা জানো ? এবং এই ব্যাপারে পাকিদেরকে একনিষ্ঠভাবে সাহায্য করেছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি বিশেষজ্ঞ , ইসলামের সেবক, আলবদর প্রধান মাওলানা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ , সেটা জানো কি ?
সেদিনের পরে যে এই আধুনিক ছেলেটিকে যে আর কখনোই খুজে পাওয়া যায়নি , সেটা জানো ?
এই আধুনিক , বুদ্ধিমান , দেশপ্রেমিক , ও ক্র্যাক ছেলেটি ছিলো সহীদ জননী জাহানারা ইমাম ও শরীফ ইমামের বড় ছেলে , শফি ইমাম রুমী ।
আজকে ২৯শে মার্চ , ২০১৫। এই শহীদের ৬৩ তম জন্মদিন। কিন্তু তিনি কিন্তু ৬৩ বছরের বৃদ্ধ না !!! তিনি সর্বদা ২১ বছরের এক তরুন হয়েই থাকবেন।
বাদ দাও কুল ডুড। এতো বছরের পুরনো কথা বাদ দাও। বরং আসো , একটা গল্প বলি...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন