খুব সম্ভবতঃ একজন প্রেমিক ছিল সে, কাগজের ভাঁজে গোপনে জমাতো জোছনার জল, তারার সুর, ক্ষয়ে পড়া পালকের মত দীর্ঘশ্বাস কিছু। নৃশংস ছাই হয়ে ঝরে যেতে যেতে একদিন জেনে গেলো- এই শহরে নির্ঘুম সোডিয়াম লাইটেরা নিশ্চুপ থেকে সারারাত শুধু প্রায়শ্চিত্তের কথা ভাবে। মাছরাঙার নীল ডানায় প্রতীক্ষায় না থেকে একদিন-
বহুবার করে বাঁচার সাধ হল তাঁর।
ধ্বংসস্তূপের মাঝে নতুন জনপদ, ছাই ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা ঝলমলে বাজ ফিনিক্স। মাছির চোখের দ্যুতি নিয়ে পৃথিবীকে দেখছিল, নতুনভাবে, হাজার রাত্রির রূপকথা- যেন গুঁড়িয়ে যাওয়া শত টুকরো আয়নার ভেতর শত শত তুমি'কে।
স্বপ্নের ওপারে দ্বিতীয় জীবনে বাতাস বলেছিল, এইতো সময়! প্রাণভরে আমাকে নাও আজ! সুকন্যার ঝলমলে খোলা চুলে সেজীবনে মাতাল হলো সে। তৃতীয় জীবনে বিরহের সুর হলো, চন্দ্রাবতীর গানে। চতুর্থ জীবন তাঁর পাখির- আকাশের কাছে বলতে গেলো তাঁর এতদিনের নীরবতার নিগূঢ় কথকতা।
পাখিরা কি আকাশে উড়ে পালকে মেঘের রেণু মাখিয়ে আসে? পঞ্চম জন্মে বৃক্ষ হলো সে- মেঘের অসুখ নিয়ে সেই গাছে একটি নীলফুল শুধু ফোটে। ষষ্ঠজীবন ছিল গেঁড়ুয়া বৈরাগ্যের, সন্নাসব্রতে কেটে গেলো পাঁচটি শতক। সপ্তমজন্মের নোনাগন্ধে তাকে সমুদ্র ভাবল কেউ। অষ্টমজীবন ছিল মৃত্তিকার; ধারণ করে দেখল কতটা গভীরে পদচিহ্ন থেকে যায়।
তারপর একদিন-
দশজীবনের ক্লান্তিশেষে, আয়নায় প্রতিবিম্ব দ্যাখে; নিশ্চিত একটা কিছু ভেসে থাকে চারপাশে- তামা রঙা গোধূলি আর অচেনা ভোরে। অতৃপ্তি? অশ্রুত কিছু কথা? নাকি, বিদীর্ণ অতীতের খোলস ঝেড়ে ফেলে- একজন্মে ঠিকঠাক মানুষ হতে চেয়েছিল সে? অক্ষরজীবী কবির নিয়তি কি এমনই- সবজীবনের গন্ধ ভুল করে চলে আসে শুধু তাঁর কাছে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন